বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
80 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (10,983 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (677 পয়েন্ট)

বিচিত্র সব কারণে ভয় পাই আমরা। কেউ তেলাপোকা দেখে ভয় পান, কেউ অন্ধকারে আবার কেউ বদ্ধ ঘরে প্রচণ্ড ভয়ে ঘেমে নেয়ে ওঠেন। ভয়ের ব্যাপারটা পুরোটাই মস্তিষ্কে ঘটে যায়। হাত পা ঠাণ্ডা হওয়া বা ঘেমে যাওয়া, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘুরতে থাকা এসব ব্যাপার হয় আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া থেকে। কিন্তু মস্তিষ্কের একটি স্থান থেকেই কি সব ধরণের ভয়ের উৎপত্তি ঘটে? না। ইতালির একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ভয়ের বিভিন্ন ধরণের ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরনের গুচ্ছ কাজ করে থাকে। Nature Neuroscience জার্নালে প্রকাশিত হয় এই গবেষণার তথ্য।

গবেষণার খুঁটিনাটি

ইঁদুরের মস্তিষ্কের ওপরে এই গবেষণা সংঘটিত হয় ইতালির মন্টারোটন্ডোতে, ইউরোপিয়ান মলিকুলার বায়োলজি ল্যাবরেটরি (EMBL) এর কর্নেলিয়াস গ্রস ল্যাবরেটরিতে। এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন বিয়াঙ্কা সিলভা, EMBL এর পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট। তিন ধরণের ভয়ের প্রতিক্রিয়া ইঁদুরের মস্তিষ্কের তিনটি আলাদা আলাদা সার্কিট দিয়ে প্রবাহিত হয়। নিজের চাইতে বড় শিকারি ইঁদুর দেখলে সেই ভয়ের সংকেত যায় একধরনের ডিফেন্স সার্কিট দিয়ে। নিজের স্বগোত্রের ইঁদুরের প্রতি ভয় পেলে আবার সেটা অন্য সার্কিট দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা কিনা এক ধরণের রিপ্রোডাক্টিভ সার্কিট। ইলেক্ট্রিক শক থেকে ব্যাথা পাওয়ার যে ভয়, সেটা প্রবাহিত হয় ভিন্ন আরেকটি সার্কিট বরাবর।

image

ভয় যে ধরণেরই হোক না কেন, ইঁদুর ভয়ে হয় শক্ত হয়ে যায় অথবা দৌড়ে পালায়। কিন্তু বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া এক রকমের হলেও, কারণভেদে মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব পড়তে দেখা যায়।

কোনও রকমের ঝুঁকি বা বিপদের সংকেত মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে আসে সেটা ভেন্ট্রোমেডিক্যাল হাইপোথ্যালামাস (VMH) নামে পরিচিত। নিজের মত বা নিজের চাইতে বড় ইঁদুরের থেকে বিপদের আশঙ্কা থাকলে মস্তিষ্কের এই অঞ্চল সক্রিয় হয়ে ওঠে, কিন্তু ভিন্নভাবে। নিজের চাইতে বড় ইঁদুর দেখলে সক্রিয় হয় VMH এর মধ্য এবং ওপরের অংশ। স্বগোত্রিয় ইঁদুরের থেকে বিপদের আশঙ্কা থাকলে সক্রিয় হয়ে ওঠে VMH এর নিম্নাংশ এবং পাশের অংশ।

এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য সিলভা এবং তার সহকর্মীরা ইঁদুরের ওপর কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন। এগুলোর কাজ হলো ইঁদুরের মস্তিষ্কের ভয় সৃষ্টি করা নিউরনগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া। দেখা যায়, এসব নিউরন দিয়ে সংকেত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবার পরে ইঁদুর নিজের চাইতে বড় শিকারি ইঁদুরের প্রতি কোনও ভয় প্রদর্শন করছে না। সুতরাং শিকারি থেকে বেঁচে থাকার জন্য এই VMH এলাকার সক্রিয়তা তাদের জন্য জরুরি।

মানুষের ওপরে প্রভাব

ইঁদুরের ওপরে খোঁচাখুঁচি করে অনেক কিছুই জানা যেতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য এই তথ্য কি কাজে লাগবে? মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপও অনেকটা একই ভাবে চলে। ভয় পেলে আমরাও হয় শক্ত হয়ে যাই অথবা দূরে পালাই। বিভিন্ন ধরণের ভয় রয়েছে আমাদেরও। বিভিন্ন রকমের ফোবিয়া সারাতে এই তথ্য কাজে লাগতে পারে কারণ এই তত্ব অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ফোবিয়া মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে আসবে। মস্তিষ্কের ওই অংশের চিকিৎসা করলেই সেই ফোবিয়া থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব হবে। সুতরাং এই গবেষণা এখানেই শেষ নয়, বরং সুচনা হতে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
16 অক্টোবর 2019 "বাংলা দ্বিতীয় পত্র" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর
10 সেপ্টেম্বর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mdtanha (1,050 পয়েন্ট)
1 উত্তর
24 নভেম্বর 2018 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ahmed26 (79 পয়েন্ট)
1 উত্তর
30 জুন 2018 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sabirul Islam (10,780 পয়েন্ট)

364,667 টি প্রশ্ন

460,374 টি উত্তর

144,355 টি মন্তব্য

192,004 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...