বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
73 জন দেখেছেন
"সালাত" বিভাগে করেছেন (2,125 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (2,125 পয়েন্ট)
আল্লাহ্‌ তা‘আলা মানুষের উপর আবশ্যক করেছেন যাবতীয় ইবাদত বাস্তবায়ন করা- যদি তার মধ্যে সে যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকে। যেমন সে বিবেক সম্পন্ন হবে। সবকিছু বুঝতে পারবে। কিন্তু যে লোক বিবেকশুণ্য, সে শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে বাধ্য নয়। এ কারণে পাগল, শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকার উপর কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। এটা আল্লাহ্‌র বিশেষ রহমত। অনুরূপ হচ্ছে আধাপাগল- যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে কিন্তু পুরোপুরি পাগল হয়নি এবং অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে হিতাহীত জ্ঞানশুণ্য ব্যক্তির উপরও ছালাত-ছিয়াম আবশ্যক নয়। কেননা সে তো স্মৃতি শক্তিহীন মানুষ। সে ঐ শিশুর মত যার মধ্যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং সমস্ত বিধি-বিধান তার উপর থেকে রহিত, কোন কিছুই তার উপর আবশ্যক নয়।

তবে সম্পদের যাকাত সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা তার উপর বজায় থাকবে। কেননা যাকাতের সম্পর্ক সম্পদের সাথে। তখন ঐ ব্যক্তির অভিভাবক তার পক্ষ থেকে যাকাতের অংশ বের করে দিবেন। কেননা যাকাত ওয়াজিব হয় সম্পদের উপর। এজন্য আল্লাহ্‌ বলেন,

]خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ[

“তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন। উহা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (সূরা তওবা- ১০৩) এখানে আল্লাহ্‌ পাক তাদের সম্পদ থেকে যাকাত নিতে বলেছেন, ব্যক্তি থেকে যাকাত নিতে বলেননি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তাকে বলেন,

أَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ

“তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ্‌ তাদের সম্পদে ছাদকা বা যাকাত ফরয করেছেন। তা ধনীদের থেকে নিয়ে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।” (বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীছের ভিত্তিতে সম্পদের আবশ্যকতা স্মৃতিহীন লোকের উপর থেকে রহিত হবে না। কিন্তু শারীরিক ইবাদত যেমন ছালাত, ছিয়াম, পবিত্রতা প্রভৃতি রহিত হয়ে যাবে। কেননা সে বিবেকহীন।

কিন্তু অসুস্থতা প্রভৃতির করণে বেহুঁশ হলে অধিকাংশ বিদ্যানের মতে তার উপর ছালাত আবশ্যক হবে না। এ রকম অসুস্থ ব্যক্তি যদি একদিন বা দু‘দিন বেহুঁশ থাকে তবে তাকে ছালাত কাযা আদায় করতে হবে না। কেননা বিবেকশুণ্য বেহুঁশ মানুষকে ঘুমন্ত ব্যক্তির সাথে তুলনা করা চলবে না। যার সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا

“যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্‌ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে, তখনই সে তা আদায় করে নিবে।” কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি হুঁশ সম্পন্ন এ অর্থে যে, তাকে জাগানো হলে জাগ্রত হবে। কিন্তু বেহুঁশকে জাগানো হলেও তার হুঁশ ফিরবে না। এ বিধান হচ্ছে ঐ অবস্থায়, যখন বেহুঁশী কোন কারণ ছাড়াই ঘটবে। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ হলে যেমন সংজ্ঞা লোপ করার জন্য ঔষধ ব্যবহার করে, তবে উক্ত বেহুঁশ অবস্থার ছালাত সমূহ তাকে কাযা আদায় করতে হবে।

দীর্ঘকাল সংজ্ঞাহীন থাকার কারণে ছালাত-ছিয়াম আদায় করতে না পরলে তার হুকুম





বিষয়/প্রশ্নঃ                (১৮৫)
গ্রন্থের নামঃ              ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ          ঈমান
লেখকের নামঃ          শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ     আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
24 জানুয়ারি 2014 "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (2,125 পয়েন্ট)

365,020 টি প্রশ্ন

460,728 টি উত্তর

144,451 টি মন্তব্য

192,217 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...