বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
69 জন দেখেছেন
"কিতাবুল হজ্জ" বিভাগে করেছেন (2,125 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (2,125 পয়েন্ট)
যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে মীকাত অতিক্রম করতে চায় সে যেন ইহরাম ছাড়া অতিক্রম না করে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মদীনাবসীগণ ইহরাম বাঁধবে যুল হুলায়ফা থেকে..।” অর্থাৎ তাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা। বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম না করা। যদি করেই ফেলে তবে ওয়াজিব হচ্ছে মীকাতে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা গমণ করা। এতে তাকে কোন জরিমানা দিতে হবে না। কিন্তু যদি ফিরে না আসে এবং মীকাত অতিক্রম করার পর ইহরাম বাঁধে তবে বিদ্বানদের মতে তাকে ফিদ্‌ইয়া দিতে হবে। আর তা হচ্ছে একটি ছাগল কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করে দেয়া।

উড়োজাহাজে কিভাবে নামায আদায় করবে এবং ইহরাম বাঁধবে?

উত্তরঃ প্রথমতঃ উড়োজাহাজে নামায পড়ার পদ্ধতিঃ

১)      নফল নামাযের পদ্ধতি হচ্ছে, বিমানের সিটে বসে বসেই নামায আদায় করবে। ইশারার মাধ্যমে রুকূ-সিজদা করবে। সিজদার জন্য রুকূর চাইতে একটু বেশী মাথা ঝুকাবে।

২)      সময় হলেই উড়োজহাজের উপর নামায আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু নামাযের নির্দিষ্ট সময় বা দু’নামায একত্রিত করার সময় শেষ হওয়ার আগেই যদি বিমান অবতরণ করার সম্ভাবনা থাকে, আর যমীনে থাকাবস্থায় যেভাবে নামায আদায় করতে হয় সেভাবে যদি বিমানের উপর সম্ভব না হয়, (যেমন্ত কিবলামুখী হওয়া, রুকূ’, সিজদা, কওমা ও বসা প্রভৃতি করা যদি সম্ভব না হয়) তবে সেখানে ফরয নামায আদায় করবে না। বরং অবতরণ করার পর যমীনে নামায আদায় করবে।

যেমনঃ জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে সূর্যাসে-র পূর্বে বিমান উড্ডয়ন করল। এখন আকাশে থাকাবস্থায় মাগরিব নামায আদায় করবে না। পরবর্তী এয়ারপোর্টে বিমান অবতরণ করার পর নামায পড়বে। কিন্তু যদি দেখে যে, মাগরিব নামাযের সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে, তবে এশা নামাযের সাথে মাগরিবকে একত্রিত করার নিয়ত করে নিবে। অতঃপর অবতরণ করে মাগরিব নামাযকে দেরী করে এশার সময় একত্রিত আদায় করবে। কিন্তু যদি বিমান চলতেই থাকে- অবতরণের সম্ভাবনা না থাকে এবং এশা নামাযেরও সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা হয়, তবে বিমানের উপরেই সময় অতিক্রম হওয়ার আগেই মাগরিব ও এশা নামায একত্রিত আদায় করে নিবে।

৩)      বিমানের উপর ফরয নামায পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে, ক্বিবলামুখী দন্ডায়মান হয়ে তাকবীর দিবে। ছানা, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোন সূরা বা আয়াত পাঠ করে রুকূ করবে। রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সিজদা করবে। নিয়ম মাফিক সিজদা করতে সক্ষম না হলে বসে পড়বে এবং বসাবস্থায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে সিজদা করবে। নামায শেষ করা পর্যন্ত এরূপই করবে। আর পূর্ণ সময় ক্বিবলামুখী হয়েই থাকবে। কিন্তু ক্বিবলা চিনতে না পারলে বা নির্ভরযোগ্য কেউ তাকে কিবলার সন্ধান দিতে না পারলে নিজ অনুমান ও গবেষণা অনুযায়ী নামায আদায় করলে কোন অসুবিধা হবে না।

৪)      উড়োজাহাজে মুসাফির নামায কসর করবে। চার রাকাত বিশিষ্ট নামায দু’রাকাত করে আদায় করবে।

দ্বিতীয়তঃ উড়োজাহাজে হজ্জ বা ওমরার ইহরাম বাঁধার পদ্ধতিঃ

১)      এয়ারপোর্টে আসার আগেই গোসল, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করবে। এবং এয়ারপোর্টে এসে ইহরামের কাপড় পরিধান করবে।

২)      প্লেন মীকাতের নিকটবর্তী হলে যদি ইহরামের কাপড় পরিধান না করে থাকে তবে পরিধান করবে।

৩)      মীকাতের বরাবর হলেই অন্তরে নিয়ত করে হজ্জ বা ওমরার জন্য তালবিয়া পড়ে ইহরামে প্রবেশ করবে।

৪)      মীকাতের বরাবর হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বেই যদি সতর্কতা বশতঃ বা খেয়াল থাকবে না এই ভয়ে ইহরাম বেঁধে নেয়, তাতেও কোন অসুবিধা নেই।




বিষয়/প্রশ্নঃ                (৪৬৬)
গ্রন্থের নামঃ              ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ          কিতাবুল হজ্জ
লেখকের নামঃ          শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ     আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
09 ফেব্রুয়ারি 2014 "কিতাবুল হজ্জ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (2,125 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
09 ফেব্রুয়ারি 2014 "কিতাবুল হজ্জ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (2,125 পয়েন্ট)

365,020 টি প্রশ্ন

460,728 টি উত্তর

144,451 টি মন্তব্য

192,217 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...