Posted By

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র বেহুলা সম্পর্কে জানুন

Fashion 12

বিশ্ব নন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনী জেলার রায়পুর নামক গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা সাহিত্যে এম.এ পাস করে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। যুগের আলো ও যান্ত্রিক পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করার পর তিনি প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন, ১৯৫৬ সালে। সেই বছরেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং উর্দু ছবি ‘জাগো হুয়া সাবেরা’’ নির্মাণে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন। জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম ছবি ‘‘কখনো আসেনি’’ ১৯৬১ সালে মুক্তি পায়। তারপর তিনি ঠিক করেন, বাংলায় প্রচলিত ও খুবই জনপ্রিয় লোক কাহিনী হিন্দু পুরান ‘‘মনসামঙ্গল’’ কাব্যের বেহুলা-লখিন্দর উপাখ্যান নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। নায়িকা ঠিক হয় দ্রুতই। বেহুলা চরিত্র রূপায়ন করবেন সুচন্দা। কিন্তু নায়ক পাচ্ছিলেন না মন মতো। রাজ্জাককে ডেকে পাঠান এবং বলেন, দাঁড়ি না কামিয়ে সাত দিন পর আসতে। রাজ্জাক আসেন, বাকিটা ইতিহাস। নায়ক হিসাবে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন রাজ্জাক। জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালে। লোক কাহিনী ভিত্তিক এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা করেন আমজাদ হোসেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেন সত্য সাহা। চলচ্চিত্রটিতে রাজ্জাক (লখিন্দর), সুচন্দা (বেহুলা), সুমিতা দেবী (মনসা), ফতেহ লোহানী (চাদ সওদাগর) উঁচু শিল্পমান সম্মত অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে মনসা চরিত্রে সুমিতা দেবী অসাধারণ অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে অভিনয় করে সুমিতা দেবী সর্বজন নমস্য শিল্পীর মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হন। সঙ্গীত পরিচালনায় সত্য সাহা মুন্সীয়ানার ছাপ রেখেছেন। সত্য সাহা স্বর্গালোকের দৃশ্যে যে আবহ সৃষ্টি করেছেন তা অতুলনীয়। চলচ্চিত্রটির কাহিনী সংক্ষেপ হলো, চম্পক নগরের চাদ সওদাগর নিত্য শিব পুঁজা করেন। তার স্ত্রী সনকা দেবী গোপনে মনসা তথা সর্প পুঁজা করেন, যা চাদ সওদাগরের মোটেও পছন্দ নয়। একদিন চাদ সওদাগর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর মনসাঘট লাথি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। মনসা দেবী এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন এবং প্রতিশোধের সংকল্প গ্রহন করেন। মনসা দেবী মর্তলোকে আবির্ভূত হয়ে চাঁদকে উদ্দেশ্য করে বলেন-আমার তরে একটি বারের জন্য ফুল দিয়ে পুঁজা দাও। চাঁদ সওদাগর ক্ষোভ আর অহংকারের সাথে জবাব দিলেন যে হাতে আমি শিব পুঁজা করি সেই হাতে তোমার পুঁজা করবো না। অপমান, আক্রোসে মনসা দেবী চাঁদের ছয় পুত্রকে সর্প দংশনে বধ করলেন। হতবিহ্বল সনকা দেবী গোপনে মনসা দেবীর পুঁজা অর্চনা করতে লাগলেন এবং বর প্রার্থনা করলেন। মনসা দেবী সনকাকে পুত্রবর দিলেন, এক শর্তে বাসর রাত্রে সর্প দংশনে পুত্রের মৃত্যু হবে। সনকা দেবীর গর্ভে পুত্র লখিন্দরের জন্ম হয়। অনেক বছর পর উজানী নগরের সায়বেনের যুবতী কন্যা বেহুলার সঙ্গে যুবক লখিন্দরের বিয়ে ঠিক হলো। বাসর রাত্রে সর্পদংশনে লখিন্দরের মৃত্যুর কথা মনে রেখে, বিশ্বকর্মাকে দিয়ে নিñিদ্র বাসর ঘর নির্মাণ করা হলো। বিশ্বকর্মা মানসা দেবীর প্ররোচনায় গোপনে নির্মিত বাসর ঘরে একটি ছিদ্র রেখে দেন। বেহুলা লখিন্দরের বাসর রাতে কালনাগিনী সেই ছিদ্র দিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করে লখিন্দরকে দংশন করেন। সর্প দংশনে লখিন্দরের মৃত্যু হয়। প্রথানুযায়ী ভেলায় লখিন্দরের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বেহুলা স্বেচ্ছায় মৃত স্বামীর অনুগামিনী হয়। শুরু হলো দেবতার কাছ থেকে বেহুলার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার অন্তহীন যাত্রা। ভেলা ভাসতে ভাসতে এক ধোপানীর ঘাটে এসে ভিড়লো। ধোপানী বেহুলার দুঃখ বুঝতে পেরে পরামর্শ দিলো যে, তুমি যদি দেবপুরীতে গিয়ে দেবতাদের নৃত্য দ্বারা সন্তুষ্ট করতে পারো তবে তারা মনসাকে বলে তোমার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে। বেহুলা তাই করলো। বেহুলার দৃষ্টি নন্দন নৃত্যকলায় সমবেত দেবতাগণ মুগ্ধ হলেন। শ্রেষ্ঠ দেবতা স্বয়ং মহাদেব বেহুলাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো- তুমি কি চাও? বেহুলা তখন তার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করলো। মহাদেবের আদেশে মনসা লখিন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। জহির রায়হান চলচ্চিত্রটি শুরু করেছিলেন, ‘‘ওহ বেহুলা সুন্দরী/ ওহ বেহুলা নাচুরী’’ গানটি দিয়ে এবং শেষ করেন ‘‘নাচে মন ধীনা ধীনা/ প্রাণেতে বাজে বীনা/ বাজে-রে’’ গানটি দিয়ে। 

Topics:

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র বেহুলা সম্পর্কে জানুন

Login to comment login

Latest Jobs