Posted By

বসত বাড়িতে সাপের প্রবেশ বন্ধ বা প্রতিরোধ করার সহজ কৌশল।

Fashion 141

বসত বাড়ীতে সাপের প্রবেশ বন্ধ বা প্রতিরোধ করার উপায়:

১. বাড়ি-ঘরের চারপাশের লম্বা ঘাস, ঝোপ-ঝাড় কেটে পরিস্কার রাখতে হবে। 

২. বাগান ও বাড়ির উঠোনের ঘাস কেটে ছোট করে রাখতে হবে। 

৩. বসত ঘরের সাথে লাগানো গাছের ডাল-পালা ছেঁটে দিতে হবে, যাতে করে গাছের ডাল বেয়ে সাপ দরজা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকতে না পারে। প্রয়োজনে জানালায় ঘন নেট লাগানো যেতে পারে।  

৪. বাড়ির আঙ্গিনা ইঁদুর, টিকটিকি ও ব্যাঙ মুক্ত রাখতে হবে। বাড়ির আঙ্গিনায় ইঁদুরের গর্ত থাকলে কেরোসিন, ফিনাইল বা হারপিক ঢেলে মাটি দিয়ে ভালভাবে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ ইঁদুরের গর্ত হ’লো সাপের প্রধান আশ্রয়স্থল বা বাসস্থান।  

৫. বসতবাড়ির শোয়ার ঘরের মধ্যে বা পাশের ঘরে ধান, চাল মজুদ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর ইত্যাদি না রাখাই ভালো। এগুলো ইঁদুরকে আকর্ষণ করে। আর ইঁদুরের খোঁজে সাপও ঘরে ঢুকতে পারে। 

৬. যেসব অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি সেখানে বাড়িতে কুকুর, বিড়াল ও বেজি পোষা হলে সাপের আনাগোনা কম হবে। 

৭. রাতের খাবারের পর খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ ঘরের সন্নিকটস্থ বাইরে ফেলা যাবে না। কারণ সেসব খাবার খেতে ইঁদুর ছুটে আসে। সেই সাথে সাপও ইঁদুরকে খেতে আসে। ফলে ইঁদুর এবং সাপ ঘরে ঢুকে এবং সাপ মানুষকে দংশন করতে পারে।  

৮. ঘরের প্রধান দরজার নিচের ফাঁকা জায়গায় রাবার লাইনিং অথবা কাঠের টুকরা দিয়ে বন্ধ করে রাখতে হবে, যাতে রাতের বেলা বাহির থেকে ইঁদুর বা সাপ দরজার নিচে দিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। 

৯. বাড়ির আঙ্গিনার চারদিকে চিকন নাইলন সুতার জাল দিয়ে মাটির নিচ থেকে উপরের দিকে খাড়াভাবে (১৮ ইঞ্চি উচ্চতা) ঘেরাও করে রাখতে হবে। ফলে সাপসহ যে কোন বন্যপ্রাণী বাড়ির আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে চাইলে জালে জড়িয়ে যাবে। প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধার আগে জালটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে- এতে সাপ বা অন্য কোন বন্যপ্রাণী  আটকিয়ে আছে কি না। 

১০. যেসব এলাকায় বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেশি হয় সেখানে বসতবাড়ীর চারদিকে নালা খনন করে রাখলে সাপ সীমানা অতিক্রম করে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবে না। নালার গভীরতা ৪-৫ ফুট এবং চওড়া ১৮-২০ ইঞ্চি হতে হবে। 

১১. বাড়ীর আঙিনায় ফলের গাছ থাকলে পাখি এবং কাঠবিড়ালী সেই ফল খেয়ে বীজ নিচে ফেলে। ফলে বীজ খেতে ইঁদুর আসে এবং সেই সাথে সাপকেও আকর্ষণ করে। সুতরাং নিয়মিতভাবে গাছের ফুল ও ফলের বীজ পরিস্কার করে দূরে ফেলতে হবে। 

১২. ঈগল ও পেঁচা সাপের প্রাকৃতিক শিকারী বাড়ীর আঙিনার খোলা জায়গায় (যেখান থেকে পুরো আঙিনা দেখা যায়) উঁচুতে কয়েকটি বাঁশের খুটি বসাতে হবে। যাতে ঈগল বা পেঁচা বসতে পারে। 

১৩.  বাড়ীর পোষা প্রাণীকে (কুকুর বা বিড়াল) ঘরের মধ্যে খাবার দিতে হবে। বাইরে খাবার দিলেও খাবারের পর থালা পরিস্কার করে ফেলতে হবে। উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে পোকামাকড় ও ইঁদুর আসে, যা সাপকেও আকর্ষণ করে।  

১৪. জ্বালানী কাঠ বা খড়খুটো বসতঘর থেকে দূরে মজুদ করতে হবে। কারণ এগুলো সাপের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।  

১৫.  ঘরের ভিতর ন্যাপথলিন বা সালফার পাউডার, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে সাপ প্রতিরোধ করা যায় না। এগুলো পোকামাকড় ও স্তন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকারক। ফলে মানুষসহ বাড়ির পোষা কুকুর ও বিড়াল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে মারা যেতে পারে।  

১৬. বেজি ও গুঁইসাপ হচ্ছে সাপের প্রধান শত্রু। বাড়ির আঙ্গিনায় বেজি ও গুঁইসাপের আনাগোনা থাকলে সাপের উপস্থিতি বা উপদ্রব খুবই কম থাকে। কাজেই অযথা বেজি ও গুঁইসাপ মারবেন না। 

১৭. কার্বলিক এসিড দিয়ে সাপ প্রতিরোধ করা যায় না ।  অনেকে ঘরের ভিতরে বা বাড়ির চারিদিকে কার্বোলিক এসিডের বোতল বিভিন্ন জায়গায় রেখে দেয়। কিন্তু এতে সাপের কোন প্রতিরোধ হয় না। অনেকের ধারণা ঘরের ভিতর এবং বাড়ির চারিদিকে লাইফবয় সাবান টুকরো টুকরো করে ছিটিয়ে রাখলে ঘরে সাপ ঢুকবে না। এ সাবানে নাকি কার্বোলিক এসিড থাকে। এটিও কোন কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নয়।  হঠাৎ ঘরে সাপ ঢুকে পড়লে তাকে বের হওয়ার জন্য ঘরের একদিকে বেরুনোর পথ খোলা রেখে লম্বা বাঁশ দিয়ে তাড়া দিলে সাপ বেরিয়ে যাবে।

Topics: Snake

বসত বাড়িতে সাপের প্রবেশ বন্ধ বা প্রতিরোধ করার সহজ কৌশল।

Login to comment login

Latest Jobs