Posted By

যে বাজে অভ্যাসগুলোর কারণে সহকর্মীদের কাছে আপনি বিরক্তিকর!

Career 106

কর্মক্ষেত্র আর বাসা-বাড়ির পরিবেশটার মাঝে যে পার্থক্য আছে সেটা নিশ্চই আমাদের সবার জানা। তাই আমাদের আচরণগত পার্থক্য থাকা উচিত এই দুই পরিবেশ বিবেচনায়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে আমাদের আচার ব্যবহারে অবশ্যই হতে হবে অনেক যত্নশীল। কিন্ত আমরা মাঝে মাঝে সেটা ভুলে গিয়ে প্রথমত কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ নষ্ট করি। আর দ্বিতীয়ত, ফলাফল হিসেবে সহকর্মীদের কাছে নিজেরা হয়ে উঠি বিরক্তিকর একজন মানুষ।

 

আজ আমরা জানব এমন কিছু বাজে অভ্যাস, যেগুলো সহকর্মীর কাছে আপনাকে বিরক্তিকর করে তুলছে ক্রমাগত। তো চলুন দেখে নেয়া যাকঃ

 

১। মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলা

শুধু কর্মক্ষেত্রেই না, প্রায় সব জায়গাতে এই বাজে অভ্যাসটা প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশকে তো নষ্ট করেই। সাথে এই বদঅভ্যাসের কারণে আপনি সহকর্মীদের কাছে বিরক্তিকর একজন মানুষ হিসেবে পরিচিতি পাবেন। তাই ফোনে কথা বলার সময় মাত্রাতিরিক্ত জোরে কথা বলার কারণে আপনার আশেপাশের লোকজন যেন তাতে বিরক্তিবোধ না করেন সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত।

 

২। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশী আলোচনা করা

ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা কিংবা কথাবার্তা গুলো সব সময় ব্যক্তিগতই রাখা ভাল। কিন্ত কিছু মানুষ ব্যক্তিগত জীবনের কথা মানুষের সাথেই বেশী বলতে পছন্দ করেন। কিন্ত এটা যে এক ধরনের বাজে অভ্যাস। তা বেমালুম ভুলে যান তারা। মানুষের ব্যক্তি জীবনের কথা শুনতে মানুষ বেশী আগ্রহ দেখালেও অফিসে এ ধরনের অভ্যাস মোটেও ভদ্রতার চোখে দেখা হয় না। বরং এতে সহকর্মীরা বিরক্তিবোধ করেন।

 

৩। মিটিং -এ দেড়িতে উপস্থিত হওয়া

মিটিং কর্মজীবনের অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলো নেয়া হয় মিটিং -এ। কিন্ত আপনি যদি হোন এ ব্যাপারে খামখেয়ালিপনা। আর সেকারনে মিটিং এ দেড়িতে উপস্থিত হওয়াটা যেমন আপনার পারফর্ম্যান্সে প্রভাব ফেলবে। তেমনি এই দেড়ি করার অভ্যাসটা যদি সবসময়ের জন্য হয়ে যায়। তাহলে অবশ্যই তাতে আপনার সহকর্মীরা আপনার উপর বিরক্তিকর মনোভাবই দেখাবে।

 

৪। খুব কড়া সুগন্ধি ব্যবহার করা

সুগন্ধি ব্যবহার করলে নিজের ইম্প্রেশন বাড়ে। কিন্ত সেই ইম্প্রেশন বাড়াতে গিয়ে যেন তা নেগেটিভ ইম্প্রেশন না হয়ে যায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা খুব কড়া সুগন্ধি ব্যবহার আপনাকে অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ বানিয়ে তুলবে। তাই সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে সহনীয় মাত্রায়।

 

৫। অফিসে নিজের ডেস্ক অগোছালো রাখা

অফিসে অনেকেই নিজের ডেস্ক ফাইল পত্র সহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে এমনভাবে অগোছালো করে রাখেন। যা আপনার নেগেটিভ ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে সহকর্মীদের কাছে। আর জানেন তো, নেতিবাচক ব্যক্তিত্বের মানুষগুলো অন্যদের কাছে বিরক্তিকর মানুষ হিসেবেই পরিচিত।

 

৬। কাজের টেবিলে খাওয়া দাওয়া করা

অনেক বড় এই বাজে অভ্যাসটা প্রায়ই দেখা যায় অনেকের মাঝে। অফিসে খাওয়া দাওয়ার নির্দিষ্ট জায়গা থাকা স্বত্বেও অনেকে নিজের কাজের টেবিলেই খাওয়া দাওয়া সেরে ফেলেন। যার ফলে টেবিল অপরিষ্কার থাকে। যা মোটেও অন্য সহকর্মীরা ভাল চোখে দেখেন না।

 

৭। সহকর্মীর ব্যক্তিগত ব্যাপারে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠা

ব্যক্তিগত ব্যাপার ব্যক্তিগত থাকাই শ্রেয়। নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারও যেমন অন্যের কাছে বলা ঠিক না। তেমনি অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে জানতে চাওয়াটা মোটেও ঠিক না। এই বাজে অভ্যাস এক ধরনের অভদ্রতাও বলা চলে! তাই সহকর্মীদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে বেশী আগ্রহ দেখিয়ে তাদের চোখে বিরক্তিকর মানুষ হয়ে উঠবেন না।

 

৮। কথায় কথায় অন্যকে দোষারোপ করা

অনেক বড় একটা বাজে অভ্যাস হলো দোষারপ করা। কর্মস্থলে এই বাজে অভ্যাস বেশী দেখা যায় মূলত। একটি অফিসে অনেক রকম কাজে নিয়োজিত থাকে প্রত্যেকে। তাই ছোট-বড় ভুল হবেই। কিন্ত নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্ত কিছু মানুষ সবসময় যেকোন দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতেই বেশী পছন্দ করেন। নিঃসন্দেহে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের মানুষকে কোনভাবেই তার সহকর্মীরা পছন্দ করে না।

Topics:

যে বাজে অভ্যাসগুলোর কারণে সহকর্মীদের কাছে আপনি বিরক্তিকর!

Login to comment login

Latest Jobs