Posted by

জেনে নিন ইন্টারনেটের ইতিহাস ও এর ব্যাবহারিক দিকগুলি। ইন্টারনেট কী-কেন ?

Education 61

আধুনিক যুগ বিঞ্জানের যুগ।  বিঞ্জানের বিস্ময়কর আবিষ্কারসমূহ মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে অভাবনীয় উন্নতি,প্রগতি এবং সুখ-সাচ্ছন্দ্য। বিঞ্জানের যেসব অবিষ্কার মানুষকে সভ্যতার স্বর আরোহন করতে সহায়তা করেছে,তার অন্যতম প্রধান হলো ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত গতিময়তার এক মাইলফলক হচ্ছে ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির কর্মকান্ডকে ইন্টারনেট এমন এক সুতোর বন্ধনে আবদ্ধ করেছে যে-- সুতো ছিড়ে গেলে হয়তো সমগ্র বিশ্বব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়বে। আর এজন্যই ইন্টারনেটকে বলা হয় অচল শক্তিকে সচল করার প্রক্রিয়া। ইন্টারনেট হচ্ছে --- "World wide electronic network"

 

বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাপকভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যবহৃত হলেও প্রথম দিকে এর ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল সাময়িক।  ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগ (পেন্টাগন) পরমাণু আক্রমণ প্রতিরোধকল্পে বৈঞ্জানিক, সামরিকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একটি নিজম্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এ নেটওয়ার্কের আওতায় পেন্টাগন তার চারটি কম্পিউটারের মধ্যে টেলিফোনের বিকল্প হিসেবে যোগাযোগ গড়ে তোলে। এর নাম দেওয়া হয় 'ডার্পানেট'। তিন বছেরের মধ্যে এর নাম বদলে করা হয় 'অর্পানেট'। আশির দশকে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন' সর্বসাধারণের জন্য একটি অভিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক চালু করে। যার নাম দেওয়া হয় 'নেস্টোনেট'। তিন বছরের মধ্যে নেস্ফোনেট সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।  ক্রমে গড়ে ওঠে আরও অনেক ছোট-বড় 'নেটওয়ার্ক'। এর ফলে এ ব্যবস্থায় কিছুটা অরাজকতা দেখা যায়। এ অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সমগ্র ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর এজন্যই ১৯৯০ এর দশকে শুরুতে গড়ে তোলা হয় একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক। বিশ্বের মানুষ পরিচিত হয় 'ইন্টারনেট' নামক একটি ধারণার সঙ্গে।  ১৯৯৩ সালে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। 

 

ইন্টারনেট অনেকটা কাল্পনিক জগতের মতো।  সেই কাল্পনিক জগতের তথ্য ভান্ডারের ঠিকানা হচ্ছে বিভিন্ন ওয়েব সাইট। এ ওয়েবসাইট দেখার জন্য যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে,সেটার নাম ব্রাউজার। ইন্টারনেটে যেহেতু অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে তা খুজে বের করার জন্য যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার প্রয়োজন হয় তার নাম সার্চ ইঞ্জিন। 

 

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার কিভাবে শুরু হয় ? 

১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়। শুরুর দিকে ইন্টারনেট অফলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা ছাড়াও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরেইল সার্ভিস দিয়ে আসছিল। কিন্তু অফলাইনে সংযুক্ত থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্যের বিশাল জগতের সকল সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব হতো না। ই-মেইল কেবল ডাউনলোড ও আপলোড তথ্য করা যেত। ১৯৯৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে বাংলাদেশে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা চালু হয়। বাংলাদেশ ইনফরমেশন সুপার হাইওয়েতে অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তির এক বিশাল জগতে প্রবেশ করে।  এর ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

 

# যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছে। এক যুগ আগেও পৃথীবীর কোনো জায়গায় কোনো খবর আনতে বা পাঠাতে দিনের পর দিন লেগে যেত। কিন্তু ইন্টারনেটের সাহায্যে চোখের পলকে তথ্য পাওয়া যায়। ইন্টারনেটের সুবিধাগুলো কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

 

ইন্টারনেটের ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা -

১. ই-মেইল : ই-মেইল এর মাধ্যমে প্রেরক কম্পিউটারে তার বক্তব্য টাইপ করে সাথে সাথে তা এক বা একাধিক প্রাপক টার্মিনালের কাছে একই সময়ে নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়ায় পাঠিয়ে দিতে পারেন।  

২. ওয়েব : বিভিন্ন ওয়েবে কোম্পানি সম্পর্কে তথ্যাদি ছাড়াও চাকরি বা ডিলারের জন্য, সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।

৩. চ্যাট : এ প্রক্রিয়ায় যে কেউ এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে একই সময়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারে।

৪. ই-ক্যাশ : ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ই ক্যাশ পদ্ধতি বলে।  এর মাধ্যমে দ্রুত ও কম সময়ে লেনদেন করা যায়

৫. ইউজনেট : ইউজ নেট হচ্ছে অনেকগুলো সার্ভার-এর নিজস্ব সংবাদ নিয়ে গঠিত তথ্যভান্ডার যা সকল ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত

 

ইন্টারনেট নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা  -

 

 

বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে--- এ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তর্ক-বিতর্ক চলছে। এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী কেবল তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে হয়ে উঠতে পারে কাঙ্ক্ষিত কাম্য জনগোষ্ঠী। ইন্টারনেট মুহূর্তেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে। এর জন্য উন্নত মানের কোনো গবেষণাগারের প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশ সম্ভব। সম্ভব ইকোনমিক্স ই-প্রেসক্রিপশন ই-এডুকেশন প্রভৃতির বিকাশ ঘটানো। বেকার জীবন ঘোচাতে হন্যে হয়ে এদেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকার ঘুরছে নতুন একটা অর্থসংস্থানের ক্ষেত্র। তথ্যপ্রযুক্তি তাদের এই সুযোগ এনে দিতে পারে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে ডিসসেন্ট্রালাইজেসনের  ও বিরাট সম্ভাবনা  রয়েছে। এ প্রযুক্তির বিকাশে কর্মীদের নগরমুখী হতে হবে না। বিদ্যুৎ এবং টেলিফোন সুবিধা হলে শহরমুখী প্রবণতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। 

 

 

Topics: ইন্টারনেট কী ইন্টারনেটের ব্যবহার কি কি ইন্টারনেটের সুবিধা ইন্টারনেট অর্থ কি ইন্টারনেট কাকে বলে

জেনে নিন ইন্টারনেটের ইতিহাস ও এর ব্যাবহারিক দিকগুলি। ইন্টারনেট কী-কেন ?

Login to comment Login

You're not logged-in.

Login  — or —  Create Account
Latest Jobs

ক্লোজউই বাংলাদেশে তৈরি