স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণে সেরা চাকুরী

Career 122

দ্রুত চাকুরী পাওয়ার ইচ্ছা আমাদের অনেকের মাঝেই আছে, কিন্তু যোগ্যতা অর্জন করতে গিয়ে সময়টা সংকুচিত রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এই আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু চাকুরী-প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো আপনাকে দ্রুততম সময়ের মাঝে চাকুরীর যোগ্যতা অর্জন করার নিশ্চয়তা দিবে।

 

সার্টিফাইড নার্সিং সহযোগী (CNA)

এই পেশাটি বর্তমানে খুবই ডিমান্ডিং, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্য-সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সেবা-কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা। সেবাকর্মীদের মূল কর্মক্ষেত্রগুলো হলো- নার্সিং হোম, পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল, আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্র ইত্যাদি।

সেবাকর্মী হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হবে রোগী বা সাহায্যপার্থীদের খাওয়া-দাওয়া, ড্রেসিং ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখা। এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাওয়া যাবে রেড-ক্রস, হাসপাতাল এবং কমিউনিটি কলেজ গুলোতে। আজকাল অনলাইনেও যথেষ্ট রিসোর্স রয়েছে। প্রশিক্ষণ মাত্র ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

চাকুরীর চাহিদা- ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটাস্টিক্স (BLS) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নার্সিং সহকারী পদের চাকুরী ২০১৬-২০২৬ দশকে অন্যান্য চাকুরী তুলনায় দ্রুততম গতিতে বাড়বে।

বেতন- BLS প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী একজন নার্সিং সহযোগীর বার্ষিক আয় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই অঙ্ক গড়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

 

কমার্শিয়াল ড্রাউভার

বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আনা-নেয়ার কাজে নিয়োগ পাওয়ার জন্য এই প্রশিক্ষণটি কাজে দিবে। আপনি যদি ইতোমধ্যেই প্রাইভেট-কার বা ছোট মালবাহী গাড়ি চালনায় পারদর্শী হন তাহলে অল্প সময়ের মাঝেই এই ক্ষেত্রটিতে নিযুক্ত হতে পারবেন। বাংলাদেশ সড়ক-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রমাণ-পূর্বক আপনি আপনার কমার্শিয়াল-ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারেন।

যোগ্যতা প্রমাণ করতে আপনাকে লিখিত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। নিকটস্থ ড্রাইভিং স্কুলে যোগাযোগ করলেই আপনি যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাবেন।

চাকুরীর চাহিদা- এই ক্ষেত্রে চাকুরীর চাহিদা অন্যান্য চাকুরীর সমগতিতেই বাড়ছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এর চাহিদা ৪%-৬% বাড়বে বয়লে আশা করা হচ্ছে।

বেতন- বড় মাপের ভারী ট্রাক বা কার্গো চালকদের গড় বার্ষিক বেতন ১০ লক্ষ টাকা প্রায়। হালকা ওজনের ট্রাক-চালকদের বেতন ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকা প্রায়।

 

ইমারজেন্সি মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান (EMT)

এই পদে থাকা ব্যক্তিদের কাজ হলো জরুরী মুহুর্তে আহত বা অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা এবং তাদের হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া। এই চাকুরির চাহিদাও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বেড়েই চলেছে।

ব্যাসিক লেভেলের EMT ট্রেইনিং এক মাস বা তার কিছু বেশি সময় নেয়, আর অ্যাডভান্স ট্রেইনিং এর জন্য ৬ মাস বা ১ বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল, মেডিক্যাল-কলেজ কিংবা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন।

চাকুরীর চাহিদা- EMT চাকুরীর চাহিদা ২০১৬-২০২৬ দশকে ১৫% বৃদ্ধি পাবে বয়লে ধারণা করা হচ্ছে।

বেতন- এই চাকুরীর গড় বার্ষিক বেতন ৪লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা প্রায়।

 

হেয়ার স্টাইলিস্ট

চুল শ্যাম্পু করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টাইলে চুল কাটা, কালার করা, স্ট্রেইট বা কার্ল করা ইত্যাদি হলো একজন হেয়ার স্টাইলারের কাজ। হেয়ার স্টাইলিং এর প্রশিক্ষন সাধারণত ১০ মাস থেকে ১ বছর হয়ে থাকে।

প্র্যাকটাক্যালি আপনার স্কিল যাচাই করার মাধ্যমে আপনি হেয়ার স্টাইলিং এর লাইসেন্স পেতে পারেন। প্রশিক্ষণের জন্য যেকোনো কসমেটোলজি প্রশিক্ষন কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

চাকুরীর চাহিদা- ২০১৬-২০২৬ দশকে হেয়ার-স্টাইলিং জব আনুমানিক ১৩% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেতন- হেয়র স্টাইলাররা প্রতি কর্মঘন্টায় গড়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বা তার বেশি আয় করে থাকেন।

 

ম্যাসাজ থেরাপিস্ট

বাংলাদেশে এর চাহিদা তুলনামূলক কম হলেও এর প্রশিক্ষন আপনাকে দেশে বিদেশে যে কোনো যায়গায় কাজ করার সুযোগ দিবে। পেশি এবং টিস্যু ম্যানিপুলেট করার মাধ্যমে ক্লায়েন্টের ব্যাথা, স্ট্রেস দূর করা কিংবা রিলাক্সেশন বাড়ানোই একজন ম্যাসাজ থেরাপিস্ট এর কাজ। হাসপাতাল, স্পা এবং ফিটনেস সেন্টার গুলো ম্যাসাজ থেরাপিস্টদের প্রাইমারি কর্মক্ষেত্র।

৮ থেকে ১২ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে আপনি পরিপূর্ণ থেরাপিস্টের যোগ্যতা লাভ করতে পারেন।

চাকুরীর চাহিদা- ম্যাসাজ থেরাপিস্টদের চাহিদা ২০২৬ সাল নাগাদ প্রায় ২৬% বৃদ্ধি পেতে পারে বয়লে ধারণা করা হচ্ছে।

বেতন- সাধারন থেরাপিস্টদের মাসিক আয় ৩০-৫০ হাজার টাকা, আবার এক্সপার্ট থেরাপিস্টদের আয় কয়েক লক্ষ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

 

পার্সোনাল-ট্রেইনার

নিজের উদ্ভাবিত বা উপযুক্ত বিভিন্ন ফিটনেস প্রোগ্রাম পরিচালনা করাই পার্সোনাল ট্রেইনারদের কাজ। ক্লায়েন্টদের পেশিশক্তি বৃদ্ধি, নমনীয়তা বাড়ান ইত্যাদি একজন ট্রেইনার পরিচালনা করেন। ব্যায়াম করতে গিয়ে ঙ্কেউ যাতে শারীরিক আঘাত বা অন্যকোন ক্ষতির সম্মুখিন না হন সেই বিষয়ের দেখাভাল করার দায়িত্বও তার।

নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট, জিমনেশিয়াম এবং বিভিন্ন ফিটনেস সেন্টার পার্সোনাল-ট্রেইনারদের কর্মক্ষেত্র। অনলাইন বা কোনো প্রশিক্ষণালয় থেকে ৬ মাসের প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেই আপনি এই পেশায় নিযুক্ত হতে পারবেন।

চাকুরীর চাহিদা- ২০১৬ থে ২০২৬ সালের মধ্যে এই পেশার কাঙ্খিত গ্রোথ ১০%।

বেতন- অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে এই পেশাইয় গড় বেতন বার্ষিক ৩ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ বা তারও বেশি।

 

ফিজিক্যাল থেরাপি এইড (PTE)

ফিজিক্যাল থেরাপিতে প্রয়োজনীয় ইকুয়িপমেন্ট অ্যারেঞ্জ করা এবং রোগীকে থেরাপির জন্য প্রস্তুত করাই হলো এই পদধারীর কাজ। এছাড়াও রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল করার কাজও তারা করে থাকেন। থেরাপি শেষে রোগীকে যথাযথ পরামর্শ প্রদান বা তাদের দেখাশোনা করার দায়ভারও এইডরা নিয়ে থাকেন।

এই চাকুরীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সাধারনত ৩ থেকে ১২ মাস দীর্ঘ হয়।

চাকুরীর চাহিদা- থেরাপি এইডদের চাহিদা ২০২৬ সাল নাগাদ আনুমানিক প্রায় ৩১% বৃধি পাবে, যা কিনা অন্যান্য চাকুরী থেকে অনেক বেশি।

বেতন- থেরাপি এইডদের বার্ষিক বেতন সর্বনিম্ন ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ বা তারও বেশি হয়ে থাকে।

 

সেলস-ট্রেইনি

সেলস-ম্যান/উইম্যানদের কাজ হলো নিজের কমিউনিকেশন স্কিল ব্যবহার করে পটেনশিয়াল কাস্টমারকে কোনো প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত করা। কথা বলার ভাবভঙ্গি এবং কথার মাঝে সুমধুরতা থাকলে অনেকসময় কোনো স্কিল বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই ক্ষেত্রে চাকুরী পাওয়া সম্ভব। এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কাজ করছে এমন ব্যাক্তিদের সংস্পর্শে থাকলে যথেষ্ট স্কিল ডেভেলপ করা যায়। বেশিরভাগ কোম্পানি নিজ দায়িত্বে সেলস-পার্সনদের প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে।

Topics:

স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণে সেরা চাকুরী

Login to comment login

Latest Jobs