Posted By

দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে

Health 9

দুধের অনেক স্বাস্থ্যগুণের কারণে দুধকে বলা হয় আদর্শ খাদ্য। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ, পানি শূন্যতা রোধ, স্থুলতা প্রতিরোধ, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা দূর করা, হাড়ের ক্ষয় রোধ, ডায়াবেটিসসহ ক্যান্সারের মতো অনেক রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে দুধ। তাইতো মা বলে ‘দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে’।    

 

অনেক প্রাণীই মানবদেহের উপকারি উপাদান দুধ সরবরাহ করে থাকে। ছাগল, ভেড়া, উট, মহিষ, বল্গা হরিণ ও চমরের দুধ অনেকে পান করে থাকে। তবে গরুর দুধই শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য বেশি উপকারী। এছাড়া ঘোড়া ও গাধার দুধও অনেকে পান করে থাকে। তবে এগুলোর দুধ বিরল। আর তাতে তৃপ্তিও যেন মেটে না। দুধের তৈরি পনির, মাখন, দই, ঘি, আইসক্রীম, মিষ্টির জনপ্রিয়তা অনেক। তবে সরাসরি দুধ পানই স্বাস্থের জন্য বেশি উপকারী। মার্কিন এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্ট,দেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার রাখতে বলা হয়েছে রয়েছে।     

দুধের পুষ্টিগুণ

দুধ পুষ্টিগুণে সুষম একটি পানীয়। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও পটাশিয়াম এই তিনটি উপাদানের উৎস দুধ। এছাড়াও দুধের মধ্যে ফসফরাস, কার্বো হাইড্রেটস, আয়রন, সিলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন,  জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজের পরিমাণও অনেক বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ফেরময়ের মুরপার্কের ‘দ্য টিগ্যাস্যাক ডেইরি প্রোডাক্টস রিসার্চ সেন্টার’ এর সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্যালরির মূল উৎস হচ্ছে প্রাকৃতিক চিনি যা দুধ থেকে আসে। এই উপাদান শরীরের সামগ্রিক কার্যকারিতার জন্য খুবই জরুরি।     

রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দুধ 

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, হৃদপিন্ডের সামর্থ্য বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে দুধের উপকারতা অপরিসীম। যারা নিয়মিত দুধ পান করেন তাদের যেকোনো ক্ষত দ্রুত সেরে যায়। নিয়মিত দুধ খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দূর হয়। দুধের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি পিরিয়ডের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। দুধে আছে শরীরের ক্লান্তি কাটানোর উপযোগী ভিটামিন এবং মিনারেল। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ মানসিক চাপ কমাতে ভ‚মিকা রাখে। শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখে দুধ। দুধে যদি কারো অ্যালার্জি না থাকে কোষ্টকাঠিন্যে দুধ উপকারি। নিয়মিত দুধ খেলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। দুধ অন্যান্য খাবারের বিষাক্ত উপাদানের ক্ষতি কাটায়।   

সুস্থ দাঁত, সুন্দর হাসি  

দুধের ক্যালসিয়াম দাঁতের ক্ষয় রোধ করে দাঁত গঠনে সহায়তা করে। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানীয় হিসেবে দুধ পান লালায় থাকা রোগ প্রতিরোধকারী জীবাণুকে ভাল রাখে। দুধ পানে শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।      

হাড়ের গঠন  

হাড় গঠনের অন্যতম উপাদান ক্যালসিয়াম। আর দুধে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যারা শিশু বয়সে দুধ পান করেন বৃদ্ধ বয়সেও তাদের হাড় ভালো থাকে। দুধে রয়েছে ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়াম শুষে নিয়ে হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   

 ওজন কমাতে ও বাড়াতে দুধ  

ওজন কমাতে দুধের জড়ি মেলা ভার। এক গ্লাস দুধে রয়েছে পুরো খাবারের মতোই পুষ্টি, তবে ক্যালরি অর্ধেক। সর ছাড়া দুধে আছে ৯০ ভাগ ক্যালরি ও শূন্যভাগ চর্বি। এ জন্য কম ফ্যাটযুক্ত স্কিমড দুধ পান খুবই স্বাস্থ্যকর। ওজন কমানোর জন্য দুধ খুবই ভালো খাবার। অন্যদিকে সরসহ দুধে আছে ৩ দশমিক ৫ ভাগ চর্বি। এক থেকে দুই বছরের শিশুদের মস্তিষ্কের গঠনে উচ্চ চর্বির খাবার প্রয়োজন হয় বলে এই দুধ তাদের জন্য উপকারী। আর যেসব লোকের শরীরে অনেক বেশি ক্যালরি প্রয়োজন, তারা এই দুধ খেতে পারেন।     

দুধের পুষ্টিতে ত্বকের যত্ম  

পুষ্টিকর দুধ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ রাখতে পারে আপনার ত্বক। দুধে তুলা ডুবিয়ে ত্বক মুছে নিলে দূর হয় ময়লা ও ব্ল্যাকহেডস। পাশাপাশি ব্রণ দূর করতেও এটি সহায়ক। বাজারের ক্লিনজারের চেয়ে দুধ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার অনেক বেশি উপকারী। এটি ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। নিয়মিত দুধের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও দাগহীন। দুধের ময়েশ্চারাইজিং গুণ পায়ের ফাঁটা ত্বক সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।     

পানিশূন্যতা পূরণে দুধ   

মানব দেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পানি। এই পানি আমাদের  দেহকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ডায়েরিয়া বা অন্য কোনো কারণে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলে দুধ তা পূরণ করতে সহায়তা করে। দেহের বিপাকতন্ত্রের কার্যক্রম সঠিক রাখতে সহায়তা করে দুধ। তাই আপনি যদি কোন পানি না পান তবে এক  গ্লাস দুধ খেয়ে ফেলুন চট করে।    

ক্যান্সার প্রতিরোধে দুধ

দুধ ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা রাখে দুধ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যারা দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য রাখেন তাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।     

প্রসূতি মায়ের জন্য দুধ    

গর্ভাবস্থায় হরমনের ক্ষরণ বেড়ে যাওয়ায় মাকে অতিরিক্ত খাবার ও ক্যালোরি দেওয়া প্রয়োজন। গর্ভের সন্তানের অঙ্গ ও গ্রন্থির গঠন, বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়। ভ্রুণের অস্থির গঠন ও দৃঢ়তার জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দরকার। বুকের দুধের প্রোটিন তৈরির জন্য মায়ের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর দুধ ও দুধজাতীয় খাবার, যেমন- ক্ষীর, পায়েস, দই, মিষ্টি ইত্যাদি থেকে গর্ভবতী মায়েদের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও রিবোফ্লেভিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।      

মানতে হবে নিয়ম  

দুধ পুষ্টিকর খাবার বলে যখন তখন যে কোন পরিমাণে দুধ খাওয়াও আপনার শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ খাওয়ার সঠিক সময় হল রাতে। দুধ হজম হতে সময় বেশি লেগে থাকে, যার কারণে দিনের বেলা এটি খাওয়া হলে আপনি অলসবোধ করতে পারেন। প্রতিদিন একগøাস দুধ পান করাই যথেষ্ঠ। তবে যাদের পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে ও পরিপাকতন্ত্রে আলসার আছে তাদের জন্য দুধ খাওয়া নিষিদ্ধ। 

এছাড়াও যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, খাদ্য নালীতে ক্ষতরোগ ও যাদের শরীরে সুগার এসিডের অভাব আছে, তাদেরকে দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেন চিকিৎকরা।  

 

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ 

মোবাইল: ০১৮১৩৯৬৫৯৭৮  

 

 

Topics:

দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে

Login to comment login

Latest Jobs