দুর্যোগের আওতায় বজ্রপাত: সাবধানতা জরুরী

Education 28

 

আগেকার দিনে বজ্রপাত হলে গ্রামাঞ্চলে একশ্রেনীর মানুষ রাত-বিরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেন মাছ ধরতে। গ্রামজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ, গাবগাছ, বটবৃক্ষ, অশ্বথবৃক্ষ বজ্রপাত থেকে রক্ষা করতেন এসব গ্রামবাসীদের। বাণ্যিজ্যিক বিচারে লাভজনক না হওয়ায় একসময় মানুষ এলাকার তালগাছ, বটগাছসহ উঁচু উঁচু গাছগুলো কেটে ফেলে। আকাশচুম্বী উঁচু গাছশুন্য এলাকায় বজ্রপাত থেকে রক্ষা করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন হারিয়ে যায় তখন বাড়তে থাকে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা। এখনকার মানুষ আর আগের মতো রাত-বিরাতে মাছ ধরতে ঘরের বাইরে আসার সাহস পান না। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত বজ্রপাতরোধী ব্যবস্থা না থাকাতেও বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণতা বজ্রপাতের কম্পাঙ্ক লক্ষণযোগ্য হারে বৃদ্ধি করছে। আমাদের দেশেও বজ্রপাতের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিবছরই বজ্রপাতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এমতাবস্থায় বর্তমান সরকার বজ্রপাত দুর্যোগের আওতায় নিয়ে আসে। বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে সারাদেশে দশলাখ তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। হাওড়-বাউড় এলাকায় টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। আবার দেখা যায় সচেতনতার অভাব ও জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণেও বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়। এজন্য বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায় এবং ওই সময় কী কী করণীয় তা বিস্তারিত জানা আবশ্যক। এজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারী-বেসরকারী সংস্থা, উন্নয়ণ সংস্থাসমুহ এবং ধর্মীয় উপসনালয়গুলো কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে। বজ্রপাতের প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি লিফলেটকারে ছাপিয়ে প্রচার করা যেতে পারে। বজ্রপাতে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বনের উপায় রয়েছে। এসকল সতর্কবার্তাগুলোকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত; ঘরের বাইরে ও দ্বিতীয়ত; ঘরের ভেতরে। সাধারণত বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে থাকা উচিত নয়। নিকটবর্তী পাকা ঘর-বাড়ি / স্কুল / মসজিদে আশ্রয় নেয়া উচিত। ঘরের বাইরে থাকলেও গাছ বা পাহাড়ের উপর থাকা যাবে না। নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে না পারলে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে, হাত দিয়ে কান বন্ধ করে, মাথা নিচু করে বসে পড়তে হবে। যথাসম্ভব মাটির সাথে শরীরের স্পর্শ কম রাখতে হবে। কোনভাবেই গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। নৌকায় থাকলে দ্রুত নৌকার ছইয়ের ভিতর আশ্রয় নেয়া উচিত। গাড়িতে থাকলে গাড়িটিকে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে নিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করতে হবে। ঘরের ভেতরে থাকলে ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে। তারযুক্ত ফোন ব্যবহার না করে জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। বজ্রঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে টিভি অ্যান্টেনার সংযোগ টিভি থেকে বিচ্ছিন্ন করাসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (টিভি, টেলিফোন ইত্যাদি) এর তার বিচ্ছিন্ন করে নিলে ভাল। এছাড়াও বাড়িতে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ রাখতে আর্থিং ব্যবস্থা / বজ্রনিরোধক দন্ড রাখতে হবে। উন্মুক্ত স্থানে লোকালয় থেকে দূরে বাড়ি না করে বাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে তাল, নারিকেল ইত্যাদি উঁচু গাছ লাগিয়েও বাড়ী নিরাপদ রাখা যায়। বজ্রপাতে কেউ আহত হলে আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং অতি দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বজ্রপাত কিভাবে হয় তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়; মেঘেও ছোট ছোট পানির কনা থাকে। আর উপরে উঠতে উঠতে পানির পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতে পানির পরিমান যখন ৫ মিঃমিঃ এর বেশী হয় তখন পানির অনুগুলো আর পারস্পারিক বন্ধন ধরে রাখতে পারে না। তখন এরা আলাদা (Disintegrate)) হয়ে যায়, ফলে সেখানে বৈদ্যুতিক আধানের (Electric Charge) এর সৃস্টি হয়। আর এ আধানের মান নিচের অংশের চেয়ে বেশী হয়।এরকম বিভব পার্থক্যের (Potential difference) কারনেই ওপর হতে নিচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন (Lightning) হয়। এসময় আমরা আলোর ঝলকানি (Transmission) দেখতে পাই। আর ক্রিয়ার সময় উক্ত এলাকার বাতাসের প্রসারন (Expansion) এবং সংকোচনের (Contraction) ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এধরনের বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যে ও হতে পারে। উল্লেখ্য, বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা মোটেই বিপদজ্জনক নয়। আসুন আমরা বজ্রপাত বিষয়ে নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যদেরও সচেতন করে তুলি, নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করি।

----syed mamunur rashid

Topics:

দুর্যোগের আওতায় বজ্রপাত: সাবধানতা জরুরী

Login to comment login

Latest Jobs