Posted By

মানব পাচার রোধে আমাদের করণীয়

Fashion 14

মানব পাচার সভ্যতা বিবর্জিত জঘন্য একটি অপরাধ। নারী ও শিশু পাচার তথা মানব পাচার আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। অতীতেও ঘটেছে বর্তমানেও ঘটছে। অর্থের প্রলোভন দিয়ে বিদেশে লোভনীয় চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রতারণামূলক ভাবে এক শ্রেণীর দালাল চক্র আমাদের দেশের সহজ সরল দরিদ্র নারীদেরকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে পতিতালয়ে বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গৃহকর্মী হিসেবে বিক্রী করে দিচ্ছে। তথায় শিশুদেরকে উঠের জকি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হাজার হাজার নারী গৃহকর্মী ক্রীতদাসীর চেয়েও বেশী নির্মম  নির্যাতনের শিকার হয়ে সেবাদাসী বা যৌনদাসী হিসেবে বাধ্য হয়ে কর্মরত আছেন। হতবাক ও বিস্মিত হতে হয়, ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রীত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর নামে বন্দী এসব নারীদের উদ্ধার না করে এবং মানবপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্য্যকর কঠোর কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে, আমরা সরকারীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী প্রেরণের উদ্বেগ গ্রহন করেছি। এবার সরকারীভাবে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে গৃহকর্মের চাকুরী নিয়ে যেতে কোন খরচ লাগবে না এবং মাঝে মাঝে তাদের স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এহেন অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আর কিছুই অবশিষ্ট্য নেই।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে ভাসছে। এরা মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে মৃত্যুঝুকিতে সাগরে ভাসছে। সোমালিয়ার জলদস্যু কর্তৃক ছিনতাইকৃত সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক এবং ক্রোদের বা জঙ্গীসংগঠন কর্তৃক ছিনতাইকৃত বিমানের যাত্রীদের চেয়েও শতগুণ বেশী মৃত্যুঝুকিতে রয়েছে এসব সমুদ্রেভাসমান জিম্মীগণ। ভাসমান মানুষগুলোকে উদ্ধারে সরকারের জোর তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি। সাগরে ভাসতে থাকা ও মানবিক বিপর্যয়ের শিকার প্রায় সাত হাজার মিয়ানমার ও বাংলাদেশী অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া নিয়েছে, তা স্বস্তিদায়ক।  অভিবাসন যুগে যুগে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের দেশ বলা হয়। এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস এবং নাগরিকত্ব লাভের জন্য নির্দিষ্ট আইনী প্রক্রিয়া অনুসরনপূর্বক অভিবাসন নিচ্ছে। গত শতাব্দীতে বিশ্বের সব চাইতে বড় আকারের এবং হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী অভিবাসন হয়েছে আমাদের এই উপ-মহাদেশে। পাকিস্তানের জাতির জনক কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর  দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ইং সালে দেশভাগ হয়, এবং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে চলে আসে পাকিস্তানে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে ভারত গমন করেন। এই অভিবাসন ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। ‘৪৭ সালের দেশভাগ ছিল যেন একমাত্র সন্তানের দাবীদার দুই মাতাকে সন্তান ভাগ করে দেয়া।

মানব পাচার রোধ করতে হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই জনগণের বন্ধু হতে হবে। তাদেরকে লোভ লালসার উর্দ্বে উঠে নিবেদিতভাবে পাচাররোধে আত্ননিয়োগ করতে হবে। জনগণকেও পাচারকরীদের সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলে মানব পাচার বন্ধ হবে বলে আশা রাখি। তখনই সবাই সবাইকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে।

Topics:

মানব পাচার রোধে আমাদের করণীয়

Login to comment login

Latest Jobs