Posted By

যে ভুলগুলোর কারণে জীবনের শেষ বয়সে আপনি ভুগবেন অনুশোচনায়!

Career 76

প্রবাহমান জীবনের গতিপথে একটি ধারায় জীবন বয়ে চলে। কখনও কখনও সে জীবনের গতিপথে পরিবর্তন আসে। কেউ কেউ সে পথের স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দেয়। আর স্রোতের ঘূর্ণিপাকে হারিয়ে যায় কালস্রোতে। আবার কেউ সেই স্রোতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৌঁছে যায় গন্তব্যস্থলে।

মানুষের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কিছু ভুলের কারণে জীবন পরিপূর্ণতা লাভ করে না। মনে রাখবেন সফলতাই জীবনের শেষ কথা নয়। দিন শেষে হয়তো আপনি সফল কিন্তু এটাও মনে রাখা জরুরী যে, দিন শেষে আপনি কতটা সুখী। “অসুখী” মানুষের সফলতাকে ম্লান করে দেয়। পৃথিবীতে এমন অনেক বিখ্যাত ও সফল ব্যক্তিদের উদাহরণ রয়েছে যারা এক পর্যায়ে আত্মহত্যাকে শেষ পরিণতি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এ বিখ্যাত ব্যক্তিদের সব কিছু থাকা সত্ত্বেও কেন তারা আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলেন? শুধুমাত্র অনুতাপ-অনুশোচনাই দিনশেষে আপনার জীবনকে অর্থহীন করে তোলে। জীবনসায়নে এসে যদি আপনাকে উপলব্ধি করতে হয় সফলতার পিছনে ছুটতে ছুটতে অনুতাপ আর অনুশোচনার করাল গ্রাসে আপনি নিমজ্জিত, তবে আপনি জীবনে অসুখী।

মানুষের অভিজ্ঞতার মিশেলে এমনই কিছু ভুল তুলে ধরছি যার কারণে মানুষকে অনুশোচনায় ভুগতে হয়েছে। মনোযোগ দিন, যাতে জীবন ক্রান্তিলগ্নে আপনাকে সেই ভুলের ভাগীদার হতে না হয়।

১. স্বজনদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় না রাখা

সামাজিক জীব হিসেবে পরিবার পরিজন নিয়েই আপনার জীবন। আপনার জীবনের সাথে আপনার আত্মীয়-স্বজনদের জীবন ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। আপনি যদি সুখী জীবন যাপন করতে চান তবে তাদের সাথে মিলেমিশে থাকা, ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অবশ্যই কর্তব্য। যখন আপনার সাথে তাদের খারাপ সম্পর্ক তৈরি হবে তখন আপনি নিঃসঙ্গ হয়ে যাবেন। আর নিঃসঙ্গতা আপনার জীবনে ভীতি তৈর‍ি করে। আর এটাই জীবনের সবথেকে বড় ভুল যা আপনার অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২. ভ্রমণে সময় না দেয়া

আপনার জীবনকে উপভোগ করা শিখতে হবে। একটি কাজ একটানা করতে থাকলে একঘেয়েমিতা পেয়ে বসে। তাই সুযোগ পেলেই পরিবার বা বন্ধুদের সাথে ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ুন। এতে আপনার জীবন দূরদর্শিতাও বাড়বে। আপনার মন প্রফুল্ল থাকবে। যার ফলে আপনার অনুতাপ কিংবা জীবনের উপর বিরক্তিবোধ চলে আসবে না।
অধিকাংশ লোকেরই অনুতাপের বিষয়টি হল তারা অতীত জীবনে ভ্রমণ উৎসাহী ছিলেন না। তাই ভ্রমণে উৎসাহী হোন এবং জীবনকে উপভোগ করুন।

৩. অধিক পরিশ্রম করা

পরিশ্রমেই সমৃদ্ধি। পরিশ্রমের ফলেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন। কিন্তু অধিক পরিশ্রম জীবনে্র পরিতাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডেল বার্টোন বলেছিলেন, “সেই ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকুন যা আপনাকে আপনার জীবন থেকে দূরে ঠেলে দেয়।”
একটি গবেষকদলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অধিক পরিশ্রমী ব্যক্তিরা জীবনের শেষ প্রান্তে নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তাঁরা প্রকৃত জীবন থেকে দূরে চলে যান। তাই, ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-যাপন করুন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র অধিক পরিশ্রমই জীবনের মূল কথা নয়।

৪. লোক নিন্দাকে প্রাধান্য দেয়া

কোনো কাজের আগে লোক নিন্দাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। আপনার আশে-পাশে নিন্দুকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এসবকে পাত্তা দিতে গেলে কোনদিন-ই তাদের মন রক্ষা করতে পারবেন না।
মনে রাখবেন জীবনটা আপনার। জীবনে সুখী হতে হলে আপনাকেই বেছে নিতে হবে কোন কাজটি আপনি করবেন। তবে অন্যের পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন সেটা যেন আপনার কাজ করার সিদ্ধান্তকে কোনভাবেই প্রভাবিত না করে।

৫.বড় কোনো ঝুঁকি না নেয়া

বড় কোনো ঝুঁকি না নিতে পারলে আপনি কখনই জীবনে বড় হতে পারবেন না। আপনি ‘রিটার্ন ব্যাক’ তখনই পাবেন যখন আপনি ঝুঁকি নিতে পারবেন। মোদ্দা কথা হল আপনাকে সাহসী হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোনো কাজকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে না পড়ে উদ্যত হতে হবে। এর জন্য আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস অবশ্যই থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস-ই আপনাকে সাহসী করে তুলবে এবং আপনি ঝুঁকিকে জয় করে সফল হতে পারবেন।

৬. নিজেকে গুরুত্ব না দেয়া

প্রত্যেক মানুষ তার নিজের জীবনের “মাস্টার মাইন্ড”। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর নিজেকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যের চেয়ে নিজেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে আপনি জীবনে কখনই সুখী হতে পারবেন না। মনে রাখবেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে হলে গায়ের রঙ কখনই প্রধান নয়। আপনি কালো বলে হীনমন্যতায় ভুগতে থাকলে আপনাকে হতাশ হতে হবে। যার ফলে আপনি কখনই জীবনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন না।
নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বতে পরিণত করতে হলে সেই দক্ষতাগুলো অর্জন করুন। নিজের শারীরিক গড়ন নিয়ে হতাশায় ভুগলেন তো জীবনে একটি বড় ভুল করলেন।

৭. পরিবারকে সময় না দেওয়া

আপনার বাবা-মা,আপনার পরিবার ওতোপ্রোতভাবে আপনার জীবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। আপনার জীবনের বিরাট অংশে তাদের অস্তিত্ব। এই পৃথিবীতে আপনার পরিবার-পরিজন আপনার নিঃসঙ্গতা দূর করে। কিন্তু আপনি যদি আপনার বাবা-মা, পরিবারকে সময় না দেন তবে তাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হবে। এমনটা ঘটলে জীবনে আপনি কখনই সুখী হবেন না।
তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনার পরিবারকে সময় দিন। নিজ বাবা-মায়ের সাথে সময় কাটান। আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নিন। দেখবেন সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন। আর এর ব্যত্যয় ঘটলে জীবন ক্রান্তি লগ্নে অনুতাপ আর অনুশোচনার সীমা থাকবে না।

৮. অর্থোপার্জনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া

মানুষের সামগ্রিক লক্ষ্য থাকে অর্থ উপার্জন করা। প্রত্যেক মানুষ সমাজে প্রতিপত্তি আর বিত্তশালী হয়ে বাঁচতে চায়। যার কারণে মানুষ অর্থের পেছনে ছুটতে থাকে। কিন্তু দিগ্বিদিক শুন্য হয়ে অর্থের পেছনে ছোটা মোটেও উচিত নয়। অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে হয়তো একদিন দেখবেন আপনি আপনার জীবনের মানে হারিয়ে ফেলেছেন। তখন আপনি হয়ে যাবেন হতাশ আর অনুতাপ, অনুশোচনায় ভুগবেন যদিও সেই মুহুর্তে আপনার থাকবে পকেট ভর্তি টাকা। আপনি যেই অর্থ অক্লান্ত পরিশ্রম করে উপার্জন করলেন কিন্তু সেই অর্থ ব্যয় করার মতো সময়টুকু আপনার জোটে না তবে সেই অর্থ উপার্জন করে কী লাভ, বলুন? তাই নিজেকে সময় দিন। জীবনকে উপভোগ্য করে তুলুন। আর তা না পারলে জীবন প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন জীবনের হিসেব মিলাতে পারবেন না তখন আপনার অনুতাপ আর অনুশোচনার শেষ থাকবে না।

তাই ভুলগুলোকে শুধরে নিয়ে বাস্তবমুখী পরিশুদ্ধ জীবনচর্চা করা শুরু করে দিন।

Topics:

যে ভুলগুলোর কারণে জীবনের শেষ বয়সে আপনি ভুগবেন অনুশোচনায়!

Login to comment login

Latest Jobs