Posted By

একটি সুখি পরিবার-আবু তালহা বিন মনিরের লেখা গল্প

Education 68

একটি সুখী পরিবার   

  আবু তালহা বিন মনির

 এইতো কয়েক মাস হলো রহিমার বিয়ে হয়েছে ।তার স্বামী আরিফ হোসেন একেবারে সহজ-সরল মানুষ ।তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট ।কোনো বোন নেই ।সহজ-সরল বলে পড়ালেখায় বেশি এগুতে পারেনি ।পড়ালেখা না করায় এখন তার প্রধান কাজ বাড়ির টুকটাক কাজ করা ।তার ভাই ও ভাবিরা চাকরিজীবী ।বাবা নেই ।মা আছেন ।সহজ-সরল বলে সবকিছুতে তার খেয়াল নেই ।দু-বেলা পেটপুরে খেলেই হয়।

 বিয়ের পর রহিমার প্রথম কয়েক মাস ভালই চলছিল ।কিন্তু এখনতো মহাবিপদ ।তার ঘাড়ে রাজ্যের সব কাজ চেপে বসেছে ।পরিবারের সবাই তাকে অবহেলা করতে শুরু করেছে ।তার দ্বারে কাছে কেউ আসে না ।কিন্তু পরিবারের সব কাজ তাকে করতে হয় ।শাশুড়ি তো তাকে দেখতেই পারে না ।অকারণেও রহিমার সাথে লাগালাগি করে ।তার ওপর হাত তোলার ঘটনাও ঘটেছে ।     পরিবারের অন্য বউয়েরা তাকে মানুষেই মনে করে না।ওদের কাছে রহিমা তাদের বাড়ির কাজের মেয়ে ।এরূপ মনোভাব নিয়ে সবাই তাকে অবহেলার স্বীকার হওয়ার মূল কারণ দারিদ্র্য ।দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়াতে সহজ-সরল আরিফের সাথে তার বিয়ে হয় ।দরিদ্র পিতার ঘরে জন্ম নেয়াতেই স্বামীর বাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে হয় ।কিন্তু এতে তার দুঃখ নেই ।অত্যাচারের সম্পর্কে জেনে তার পিতা নিতে আসলেও সে যায়নি।এ সম্পর্ক ত্যাগ করতে সে অস্বীকৃতি জানায় ।ফলে সে স্বামীর বাড়িতেই নিজের মতো করে চলতে শুরু করে ।সব নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে ।কোনো দিন আরিফের কাছে নালিশও করেনি ।পরিবারের কাজের মেয়ের মতোই থাকছে ।কারো অপেক্ষা না করে একাই সব কাজ করছে ।

  এক রাতে সব কাজ গুছিয়ে যেইমাত্র শুতে যাবে তখনই তার শাশুড়ির চিৎকার শুনতে পায় ।রহিমা দৌড়ে শাশুড়ির রুমে চলে যায় ।দেখতে পেল শাশুড়ি বিছানায় ছটফট করছে ।সে গিয়ে শাশুড়িকে ধরল ।ইতিমধ্যে তার শাশুড়ি বিছানায় মলত্যাগ করছে ।রহিমা ধরা অবস্থায় বমি করে ।তখন তার শাশুড়ির রুম দুর্গন্ধে ভরে যায় ।তখন রহিমা তার শাশুড়িকে ধরে রাখছে ।অন্য বউয়েরা দুর থেকে দেখছে।শাশুড়ি মলত্যাগ করায় তারা ধারে কাছেও আসেনি ।কতক্ষণ দাড়িয়ে তারা চলে যায় ।ইতিমধ্যে আরিফও চলে আসে ।রহিমা ও আরিফ মিলে দুজনে শাশুড়ির সেবা করছে ।সারারাত সেবা করে শাশুড়িকে সুস্থ করে তুলে রহিমা ।    শাশুড়ি সুস্থ হয়ে তার ভুল বুঝতে পারে ।ভুল বুঝতে পেরে শাশুড়ি তার কাছে ক্ষমা চায় ।রহিমা বলল- আপনি আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন কেন ?আপনার কোনো দোষ নেই ।আপনিও তো আমার মা।রহিমা তার শাশুড়িকে কদমবুচি করল ।শাশুড়ি তাকে বুকে টেনে নিল ।    শাশুড়ি সুস্থ হয়ে অন্য বউদের তাড়িয়ে দিতে উদ্যেত হলো ।আরিফের চাকরীজীবী দুই ভাইকে বাড়িতে আসতে বলা হলো ।অন্য বউদের পিতা-মাতাকে এনে তাদেরকে বিদায় করে দিতে চাইলো ।কিন্তু রহিমা বাধা হয়ে ধারাল ।শাশুড়িকে বলল তাদের ক্ষমা করে দিতে ।কিন্তু শাশুড়ি নাছোড়বান্দা ।ক্ষমা করতে রাজি নয় ।রহিমার জোড়াজোড়িতে ক্ষমা করে দিল ।অন্য বউয়েরাও তাদের ভুল বুঝতে পারে ।তারা লজ্জায় অনুতপ্ত হয়ে রহিমার কাছে ক্ষমা চায় ।রহিমা তাদের বুকে টেনে নেয় ।তখন সেখানে  একটা আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হলো ।এই দৃশ্যটা দুর থেকে একটা প্রাণী লক্ষ্য করছে ।সে হলো আরিফ ।সে কিছু বলতে পারল না ।শুধু রহিমা দেখতে পেল আরিফের চোখ দিয়ে দু-ফোটা জল পড়ছে।

লেখক পরিচিতি- আবু তালহা বিন মনির সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামে ১০ই অক্টোবর ২০০১ ইংরেজি তারিখে জন্ম গ্রহণ করেন ।পিতামহ শফর আলী ওরফে রঙ্গোমোড়ল , পিতা হাফিজ মনিরুজ্জামান ও মাতা ইসমত আরা বেগম ।তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে পরিবারের সাথে পাড়ি জমান একই জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ।বর্তমানে জামালগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ।তিনি ২০১১সালে রামজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি,২০১৪সালে জামালগঞ্জ উপজেলার হাজী আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন ।বর্তমানে জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নরত ।পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট বেলা থেকেই শুরু করেন লেখালেখি ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় কিছু পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে একজন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটান ।এছাড়াও সামাজিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ।

 

 

Topics: গল্প

একটি সুখি পরিবার-আবু তালহা বিন মনিরের লেখা গল্প

Login to comment login