Posted By

জীবন-দর্শনের যে ৮ শিক্ষা আপনার অবশ্যই শেখা উচিত

Career 5

পৃথিবীতে সফলভাবে বেঁচে থাকতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কিভাবে আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। নিয়ন্ত্রিত জীবন সফল হওয়ার রুপরেখা তৈরি করে দেয়। জীবনকে সঠিক পথে চালনা করতে চাইলে আপনাকে আগে ভাল চালক হতে হবে। বস্তুতঃ বিষয়টি হলো আপনার জীবনদর্শন বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও চর্চা থাকা আবশ্যক। আর এটি একধরনের কৌশল যা আপনাকে সফল করতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে।

আপনার এটা মনে রাখা জরুরী যে, শুধুমাত্র কাজ ও পরিশ্রম আপনাকে সফল করে তুলবে না। যদি আপনি আপনার জীবনের পুরো সময়টা কাজ এর মাধ্যমে ব্যয় করেন তবে দিন শেষে আপনাকে হতাশ এবং অনুতাপে ভুগতে হবে। তাই কাজ কিংবা পরিশ্রম সফলতার প্রধান নিয়ামক নয়। মূল ব্যপারটি হলো কাজের সাথে পারিপার্শ্বিকতার কতটুকু সমন্বয় করতে পারছেন। আর যদি তা না করতে না পারেন তবে আপনার অতীত কাজের স্মৃতিগুলো আপনার জীবনে বিস্মৃতি হয়ে ফিরে আসবে। যার ফলে আপনি ভুগবেন অনুতাপে। ঠিক সেই সময় আপনার মনে হবে, ইশ! আবার যদি সময়গুলোকে ফিরে পেতাম, তবে ভুলগুলোকে শুধরে নিয়ে জীবনকে সাজিয়ে নিতাম। কিন্তু কঠিন সত্য হলো এটাই যে, সময়ে সাধন না হলে জীবন আপনাকে একটুও বাড়তি সময় দিবে না। আপনি অবশ্যই চাইবেন না যে, আপনার ভবিষ্যত, অতীত বিস্মৃতি হয়ে আপনার জীবনে ফিরে আসুক। তাই আপনার জন্য রয়েছে জীবন অভিজ্ঞতার আলোকে এমন কয়েকটি বাস্তব শিক্ষা যা আপনার জীবনকে সফল ও সুন্দর করে তুলবে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হল সময়ের সঠিক ব্যবহার। প্রবাহমান সময়ে আপনি সময়ের ব্যবহার করতে না পারার অর্থ হল আপনি সময়ের অপচয় করেছেন। সময়ের সঠিক ব্যবহার ভবিষ্যতে আপনাকে দশগুণ সুফল প্রদান করবে। সময়ানুবর্তীতা কখনও আপনার জন্য সুসংবাদ বহন করে নিয়ে আসে আবার কখনও দুঃখের বার্তা বহন করে নিয়ে আসে। এটা পুরোপুরি আপনার নিজের ওপর নির্ভর করে। আপনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, আপনি অতীতে কতটুকু সময় সচেতন ছিলেন তার উপর। তাই আজ থেকে সময়ানুবর্তীতায় ব্রত হন, আপনার ভবিষ্যৎ পাল্টে যাবে।

নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখুন

আপনি সফল ব্যক্তিদের অনুসরণ করতে পারেন। কিন্তু অন্ধ অনুসরণ বা অনুকরণ করা আপনার সফলতার অন্তরায়। এক্ষেত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা থাকা বাঞ্ছনীয়। নিজেকে উপলব্ধি করুন। আত্মোপোলব্ধি আপনাকে সফল হওয়ার জন্য শক্তি ও প্রেরনা যোগায়। মনে রাখবেন আপনি নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা। সফল হওয়ার জন্য আপনি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম তৈর‍ি করুন যা আপনার পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পনা আপনার সফলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ শুরু করে দিন, দেখবেন জীবন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।

সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন-যাপন করুন

আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনি একই কাজ করতে করতে আপনার একঘেয়েমি পেয়ে না বসেন। একঘেয়েমি জীবনে হতাশা ডেকে আনে। আবার যেই কাজটি বেশি সময় ধরে করতেই হবে সেক্ষেত্রে আপনি সেই কাজের ফাঁকে ফাঁকে আপনার প্রিয় কাজ গুলোও করে ফেলতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার একঘেয়েমি লাগবে না। আবার কাজ করেও আনন্দ পাবেন এবং অনুপ্রাণিত হবেন। কিন্তু এর বিপরীত ঘটলে দেখা যাবে আপনি সেই কাজটি করতেই একঘেয়েমি পেয়ে অলস বা হতাশ হয়ে গেছেন। পরে সহজ কাজগুলোতেও আপনার মন বসবে না। তখন সব দিক থেকেই আপনি ব্যর্থতায় পতিত হবেন। তাই সফল হবার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন-যাপন অন্যতম নিয়ামক।

আত্মবিশ্বাসী হোন

নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন। আপনি তখনই নিজেকে পূর্ণসক্ষম মনে করতে পারবেন যখন আপনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হবেন। আত্মবিশ্বাসী হলে আপনি সফলতার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন বটে। কিন্তু কোনো কাজ সম্পর্কে যদি আপনার আত্মবিশ্বাসটুকু না থাকে তাহলে সেই কাজে সফল হবার সম্ভবনা ক্ষীণ। তাই সবার আগে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে আত্মবিশ্বাস আবশ্যক। কখনই কোন কাজে হার মানবেন না। যখনই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন তখনই জীবনে ঝুঁকি নিতে সক্ষম হবেন। এর মধ্যেই আপনার সাফল্য নিহিত রয়েছে।

নিজের মনকে গুরুত্ব দিন

আপনি যখনই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে উদ্যত হবেন তৎক্ষণাত আপনার মন তথা আপনার আত্মার কাছে সাহায্য নিন। এটি আপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হল যে, অন্যের কথার ভিত্তিতে সেই মনের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করা হয়। অন্যের মতামতকেই নিজের সিদ্ধান্ত বলে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দিনশেষে যখন সেই সিদ্ধান্তের পরাজয় ঘটে তখন আফসোসের শেষ থাকে না। একই ভুল বারবার করা হয়। তাই সবার আগে নিজের মনের কথা শুনুন, বুঝুন, বিবেচনা করুন। দেখবেন আপনার মন আপনাকে সঠিক সিধান্তই দিয়েছে।

আবেগকে কাজে লাগান

‘আবেগ’ শব্দটা ছোট হলেও শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করা প্রকৃতপক্ষে কঠিন। আবার এর বিস্তারও কম নয়। আবেগকে অনুভুতির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেগকে গুরুত্ব দিন। আবার একথাও ঠিক অতি আবেগ কষ্টের কারন হয়ে দাঁড়ায়। আবেগ অবশ্যই নীতিসম্বন্ধীয় হতে হবে। তবে যখন আপনি মোটিভেটেড বা অনুপ্রাণিত হতে থাকবেন তখন নীতিসম্বন্ধীয় আবেগ আপনার মনে কড়া নাড়বে। তাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখুন সেটা বিফলে যাবে না।

দায় চাপানো ত্যাগ করে নিজের কাজে মনোযোগী হোন

জীবনে ভালো-খারাপ সময় সবারই আসে। সেটি হতে পারে নিজের ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাবে, হতে পারে পরিস্থিতির স্বীকারে, হতে পারে কোনো প্রতিকূলতার কারণে। তাই বলে কখনই নিজের অবস্থার জন্য কাউকে দায়ি করা বোকামির পরিচয়। কাল হয়তো নিজের অবস্থার জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করেছিলেন, ঠিক তেমনভাবে আজকেও করছেন। এরকম চলতে চলতে হয়তো জীবন শেষ পর্যায়ে চলে যাবেন। কিন্তু নিজের অবস্থান আগের স্থানেই থেকেই যাবে। তাই সময়কে কাজে লাগান, নিজ কাজে মনোনিবেশ করুন। দেখবেন প্রতিকূলতাকে জয় করা শিখে গেছেন।

কঠোর পরিশ্রমী হোন

ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছেন – পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। সফল হতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। সব কিছু পরে করবেন বলে রেখে দিয়েছেন? কিন্ত সেই সময়টা আসবে কবে? মনে রাখবেন পরিশ্রমের কোন বিকল্প পথ নেই। পরিশ্রমী হোন, আলসেমী দূর করুন। তাহলে সফলতা শতভাগ নিশ্চিত।

নিজের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। আপনাকে মানতেই হবে আপনার সব অভ্যাসের যোগফল আপনি। আপনার সম্মিলিত অভ্যাসই আপনার বর্তমান অবস্থার কারণ। নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে প্রতিদিন একেকটার গলা টিপে ধরুন। অবাক হবেন যখন দেখবেন দিন শেষে আপনিই সফল!

জীবন-দর্শনের যে ৮ শিক্ষা আপনার অবশ্যই শেখা উচিত

Login to comment login

Latest Jobs
  • Bangladesh Navy Welder Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Shipfitter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Plater Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Diesel Fitter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: H.S.C. (Vocational)
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Carpenter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018