Posted By

ফেসবুক আবিষ্কারের রহস্যময় ঘটনাটি জেনে নিন।

Career 251

একদা এক সময় ফেমাস নামক এক প্রতিভাধর ব্যক্তি ছিল। দায়িত্বপূর্ণ কার্যকলাপ ও  উদ্ভট ডায়রি লেখনীর কারণে সমাজজুডে বেশ খ্যাতি ছিল। তার উদ্ভট ডায়রীটিতে নিজের সব পছন্দের ছবি অাঁকা থাকত । এমনকি কোনো মানুষের সাথে প্রথম সাক্ষাতে ভাল লাগলে তার ছবিও ডায়রীতে হুবহু অার্ট করে নিতেন তিনি। ছবির নিচে তার বিশেষ গুণটিও উল্লেখ করে দিতেন যার কারণে তাকে পছন্দের  তালিকায় ঠাই দিয়েছেন। তিনি পেশায় একটি  রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন। যেখানে বিশেষ  উল্লেখযোগ্য মানের খাবার ছিল বার্গার। তার মতই রেস্তোরাটির বার্গার পরিবেশনার গুণগত মান ভোজন রসিকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল। সব মিলিয়ে রেস্তোরাটির সুনাম শহরের অানাছে কানাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে  ছিল। বার্গারের  প্রতি  এই জাদুকরি অাকৃষ্টতার পিছনে সুচতুর হাত ছিল রেস্তোরার  বাবুর্চি সাহেবের। কোনো এক কারণ বসত হঠাৎ বাবুর্চি সাহেব চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন। রীতিমত ফেমাস সাহেব বিলম্ব না করে অারেক বাবুর্চি নিয়ে হাজির। যথাসময়ে রেস্তোরার কাস্টমারদের সার্ভিস প্রদানের নিমিত্তে বার্গার প্রস্তুুত করলেন নতুন বাবুর্চি। মুখিয়ে থাকা কাস্টমারদের তৈরীকৃত বার্গার পরিবেশন করানো হল। কিন্তু একি?  সব কাস্টমার পুরো বার্গার শেষ না করেই বিট বিট করে কি জানি বলে চলে গেল। কৌতুহল হয়ে ফেমাস সাহেব বার্গারগুলো টেস্ট করলেন। অবশেষে তিনি কাস্টমারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হেতু বুঝতে পারলেন। এক মুহুর্তের জন্য নিশ্চুপ থেকে ভাবতে লাগলেন কোথায় অাগের বাবুর্চি? কোথায় সেই জাদুকরি বার্গারের স্বাদ? সব খ্যতি অার ঐতিহ্য তখন চোখের পলকের নিমিষে ধোঁয়াশা লাগছে। যে রেস্তরাঁর টেবিলে জমত দিনরাত ভোজনরসিকদের অাড্ডারমেলা অাজ সেই টেবিলগুলো শূন্য দেখতে কতইনা বেমানান লাগছে। ফেমাস সাহেবের মাথায় হাত। পুরনো ঐতিহ্য বিনষ্ট হওয়ার কথা ভেবে এবার তিনি সেরা মানের একজন বাবুর্চি  খুজার সিদ্ধান্ত নিলেন, যাতে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো সুনাম অাবার অর্জন করতে পারে। যেমন  ভাবা তেমন কাজ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে খবর পৌছিয়ে দেওয়া হল। খবর পেয়ে অাগ্রহী বাবুর্চিরা নির্দিষ্ট দিনে হাজির হল।  ফেমাস সাহেব  তার উদ্ভট ডায়রিটা নিয়ে রেস্তোরায় প্রবেশ করলেন। অাগ্রহী বাবুর্চিদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করলেন যে সবচেয়ে বেশি অাকর্ষনীয় ও সুস্বাদু করে বার্গার প্রস্তুুত করতে পারবে তাকে রেস্তোরার বাবুর্চি পদে নিযুক্ত করা হবে। কথামত সব বাবুর্চিরা বার্গার প্রস্তুুত করে তাদের সামনের টেবিলে রেখে দাড়িয়ে রইলেন । এবার একের পর এক ফেমাস সাহেব সব বার্গার টেস্ট করতে লাগলেন। শেষমেষ পরিক্ষা নিরীক্ষার পর ফেমাস সাহেব মনের মত একজন বাবুর্চিকে বাছাই করলেন। বাবুর্চিটি পেশাগত কারণে  জুকার হওয়ায়  তাকে সবাই জুকার নামে সম্বোধন করত।  এবার ফেমাস সাহেব তাড়াহুড়া করতে করতে উদ্ভট ডায়রীটি খুলে জুকার সাহেবের ছবি নকল করে অাকলেন। ছবির নিচে সংক্ষেপে ইংরেজী ভাষায় লিখলেন ( mark joker barg ;মার্ক জুকার বার্গ) অর্থাৎ জুকারের বার্গার চিন্হিত করলাম। নতুন বাবুর্চির তৈরিকৃত বার্গারের স্বাদ পেয়ে ফেমাস সাহেবের রেস্তোরা লোকসমাজে পূর্বের মত প্রসিদ্ধ  হয়ে উঠল। শূন্য চেয়ার টেবিলগুলো পূর্ণতা পেলো। এদিকে ফেমাস সাহেবও এই অর্জনের খুশিতে অাত্মহারা হয়ে উঠলেন। এভাবে দিনের পর দিন ফেমাসের সঙ্গে জুকারের  ভাব বাড়তে লাগল। তাদের মধ্যে নিবীড় সম্পর্ক জমে উঠল যা রক্তের সম্পর্ককেও হার মানাবে। বলতে গেলে জুকার এখন ফেমাসের একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী। এভাবে সুনামের সাথে বহুদিন কেটে গেল। কালক্রমে ফেমাসের শরীরে মরণব্যধী হানা দিল। জীবনের অন্ত ভেবে ফেমাস তার বিশ্বস্ত জুকারকে তার রক্তে গড়া রেস্তোরা ও সাথে উদ্ভট ডায়রিটা সফে দিলেন। ফেমাস পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। এবার জুকার রেস্তোরাঁর মালিক। সাথে বিখ্যাত ফেমাসের ডায়রিটারও।সঙ্গত কারণে জুকার উদ্ভট ডায়রিটার নামসহ বিভিন্ন অানুষঙ্গিক পরিবর্তন অানলেন। ফেমাসের অঙ্কিত জুকারের ছবি সম্পৃক্ত পৃষ্ঠাটি তুলে ডায়রিটির মলাটের সাথে লাগিয়ে দিলেন। যাতে ডায়রিটি দেখার সাথে সাথে অার্টকৃত ছবিটি দেখা যায়। অবাক করা বিষয় হচ্ছে ডায়রীটার মলাটে খেয়াল করা মাত্রই দেখা যায় জুকারের অার্ট করা ছবি তার নিচে মার্ক জুকার বার্গ লিখা যার ধারা বুজতে পারবেন ছবিটার ব্যক্তিটির নাম মার্ক জুকার বার্গ তার ঠিক নিচে বড় অক্ষরে লিখা ছিল "FACEBOOK" এই ঘটনাটির জের ধরেই বর্তমানে ব্যবহৃত ফেসবুকের  সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। ⚠ ঘটনাটি কেউ সত্য মনে করে থাকলে লেখক দায়ি নয়⚠ 

Topics:

ফেসবুক আবিষ্কারের রহস্যময় ঘটনাটি জেনে নিন।

Login to comment login

Latest Jobs