Posted By

পৃথিবীর সব মানুষকেই কি আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন? করলে কেনো করলেন?

Education 26

  

 

 

 

পৃথিবীর সব মানুষকে আল্লাহ তায়ালা কেনো সৃষ্টি করেছেন? কুরআনের দিকে তাকলে আমরা বুঝতে পারি যে আল্লাহ্ মানবজাতিকে তাঁর ইবাদত করার জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তবে আমরা ইবাদত করা মানে বুঝি দিনে কিছু সময় আল্লাহ্র নাম নেওয়া এবং তাঁর সকল নির্দেশ মেনে চলা।  

 

তবে আমরা যদি ইয়া’বুদুন শব্দটির সূত্র থেকে দেখি, তাহলে আমরা লক্ষ্য করতে পারবো যে ‘আব্দ’ প্রকৃত অর্থেই দাস বোঝায়।    এতে করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর বান্দা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।   একজন উপাসক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কখন সৃষ্টিকর্তার প্রতি দয়া দেখাবেন, তবে একটি বান্দাকে সবসময় আল্লাহ্র কাছে দাস হয়েই থাকতে হবে।  

 

 একজন উপাসকের নিজস্ব সময় অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে পারে, তবে একজন বান্দার এই সুযোগ নেই।   একজন উপাসক প্রার্থনার জন্যে শুধুই নির্দিষ্ট কিছু (রোজা, দান করা) ইত্যাদি নির্দিষ্ট করেন। তবে একজন বান্দার এসকল কাজ ছাড়াও আল্লাহ্ যা চাবেন তাই করতে হবে।   আল্লাহ্র প্রতি দাসত্ব চিরস্থায়ী, যেখানে প্রার্থনা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে।   অধিকাংশ মানুষ ‘বান্দা’ শব্দটি খারাপ অর্থে নিয়ে থাকে, এবং এর বদলে তারা আল্লাহ্র ‘সেবা’ ব্যবহার করতে পছন্দ করে। তারা মনে করে এই শব্দ ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে দাসত্ব কে বোঝায়। তবে আল্লাহ্ আপনাদেরকে অন্যরকম এক দাসত্বের জন্যে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ্ আপনাকে জীবন নিজের মত উপভোগ করার জন্যে শেকলমুক্ত করেছেন, এবং তাঁর ইবাদত করার জন্যে আহ্বান করেছেন।  

 

 আমার শিক্ষক একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি আল্লাহ্র দাস না হও, তুমি অন্যকারো দাস ঠিকই হতে হবে। এটিই মানবজাতির চরিত্র।’  যদি আমরা আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তার দাস না হই তাহলে আমাদের টাকাপয়সা, চাকরি, পরিবার ও অহংকারের ক্রীতদাস হতে হবে। আপনি কোনটা হবেন? মহান আল্লাহ্ তায়ালার, নাকি অন্যকিছুর?   এতক্ষণে আপনারা হয়তো প্রশ্ন করছেন, আল্লাহ্র বান্দা হওয়ার সাথে প্রোডাক্টিভিটির সংযোগ কোথায়। 

 

এই অধ্যায়ের সবচেয়ে জটিল এ সমস্যার উত্তর দিচ্ছি : আমরা যদি আল্লাহ্কে আমাদের মালিক হিসেবে মেনে নেই, তাহলে তিনি মানবজাতির কাছ থেকে চান তা করতে হবে। আমরা নিজেদেরকে আল্লাহ্র বান্দা হিসেবে গ্রহণ করলে আমাদের জীবনে নতুন এক উদ্দেশ্য দেখা দেয়। এই ইঁদুর-দৌড় থেকে আমরা আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে আল্লাহ্কে খুশি করার জন্যে চেষ্টা করতে থাকি। আমাদের মধ্যে আল্লাহ্র সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্যে ইচ্ছা চলে আসে।   

 

যদিও এটি নিছক একটি তত্ত¡ মনে হতে পারে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মেলালেই এটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আল্লাহ্র বান্দা হিসেবে নিজেদেরকে মেনে নিলে আমরা পবিত্র কুরআনের দেখানো জীবনে হাঁটতে অনুপ্রাণিত হই। দ্বিতীয়ত জীবনের প্রতিটি চরিত্রে আমাদের আরও বেশি উদ্দেশ্য থাকবে যা আমাদের জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে। আমরা শুধুমাত্র আমাদের নিজের চিন্তা ছেড়ে সকলের চিন্তা শুরু করতে পারবো।   

 

তৃতীয়ত আপনার মনে হবে আল্লাহ্র সঙ্গে আপনার প্রতিনিয়তই সংযোগ আছে। এতে করে তাঁর আদেশমত আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন, যা আপনার মধ্যে দায়বদ্ধতা, আরও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়।   আমাদের বিশ্বের একজন স্বাস্থ্যকর এবং কর্মক্ষম নাগরিক হওয়ার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহ্র বান্দা হিসেবে আমাদের ভ‚মিকাকে স্বীকার করতে হবে। 

 

এটি না করলে আপনি আপনার আত্মাকে এমন কিছুর কাছে বেঁচে দেবেন যা আপনার স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনা করে আপনার কাছ থেকে সর্বোচ্চ আদায় করে নেবে। আপনি যত বেশি এই আল্লাহ্র বান্দা হওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে চিন্তা করে দেখবেন, ততই বেশি একটি সত্যিকারের প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।   

Topics: আল্লাহ ইসলাম মানুষের সৃষ্টি মানব সৃষ্টির রহস্য allah

পৃথিবীর সব মানুষকেই কি আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন? করলে কেনো করলেন?

Login to comment login

Latest Jobs