Posted By

পানি কম ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের সহজ পদ্ধতি।

Health 22

বাংলা বর্ষ পরিক্রমায় দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ। একই সাথে ঋতু পরিক্রমায় প্রথম ঋতুর দ্বিতীয় মাসটি হলো জ্যৈষ্ঠ। জ্যৈষ্ঠ মাস মৌসুমী ফলের হাট। পাকা ফলের মৌ-মৌ ঘ্রাণ ধুম লেগে যায় এই মাসে। হাট বাজারগুলোতে  জমে যায় মৌসুমী ফলের বেচাকেনা। আত্মীয় স্বজন বিশেষ জামাই বাড়িতে জ্যৈষ্ঠের হাড়ি পাঠানোর একটা রেওয়াজ রয়েছে। গ্রামীণ জনপদে প্রতিটি বাড়িতে চলে ফল উৎসব। আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, কালো জাম, গোলাম জাম, জামরুল, লটকন, কলা, নারিকেল, কাঁচা তাল, আঁখ, বেল, লেবু, আমরা, জামবুড়া, জলপাই, কামরাঙ্গা আরো কত কি মৌসুমী ফল। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে জ্যৈষ্ঠ মাস ফলের কথা স্মরণ করিয়া দেয়। স্মরণ করিয়ে দেয় মধু মাস জ্যৈষ্ঠ মাস। এ মাসে বোরো ধান কাটার সপ্তাহ খানেক আগে বোনা আমন ধানের বীজ ছিটিয়ে দিলে বোরো ধান কেটে সাথে সাথে আমন ধানের চারা রোপন করলে বন্যার পানির আগেই সতেজ হয়ে উঠবে।  জলি আমন ধান আশ্বিন-কার্তিক মাসে কাটা যায়। তখন ফলনও ভালো হয়। সে কারণেই জ্যৈষ্ঠ মাস বোরো ধান বোনার উপযুক্ত মাস। জল সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশে বোরো ধান চাষীরা নতুন করে আশার পথ দেখছেন। আর এই আশার পথ দেখাচ্ছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাদের আবিষ্কৃত নতুন চাষ পদ্ধতি সফল ভাবে প্রয়োগ করা গেলে জল সংকট মোকাবেলায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। উৎপাদন ও পুষ্টিগুণ চাহিদার বিচারে বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে বোরো বরাবরই শীর্ষ অবস্থানে থেকেছে। ফলে এই ধান চাষে সেচের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে জলের প্রয়োজন হয়। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এটি জলসহনীয় একটি প্রজাতি। যেসব এলাকায় জল বেশি পরিমান থাকে সেসব এলাকায় কৃষকরা এ ধান চাষে নজর দেয়া উচিত। বাংলাদেশে উৎপাদিত বোরো সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জল সংকটের কারণে কৃষকরা অনেকেই হতাশ হয়। কিন্তু কৃষি বিজ্ঞানীরা নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এই পদ্ধতিতে বোরো চাষের জলের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে এনেছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ না করে এই পদ্ধতিতে বোরো চাষ করলে জলের ব্যবহার অনেক কমে আসবে। সে কারণেই কৃষক বন্ধুদের উচিৎ স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। তাহলে আধুনিক পদ্ধতিতে বোরো চাষ অনেক লাভ জনক হবে। ফসল লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা হলো পোকা থেকে ফসলকে রক্ষা করা। আউশ ও বোনা আমন ধানে পামরি পোকার আক্রমন হইলে জমিতে জাল টেনে পোকা মেরে ফেলতে হবে। ধানের প্রতি গোছায় যদি চারটি পূর্ণ বয়স্ক পামরি পোকা বা প্রতি পাতায় পনেরটি খীড়া মাঝারি কুষি গজানো অবস্থায় অথবা শতকরা ৩৫ টি পাতা মারাত্মকভবে আক্রান্ত হয় তাহলে অবিলম্বে সঠিক কীটনাশক ছিটিয়ে পোকা দমন করতে হবে। বন্যার কারণে উঁচু জায়গায় রোপা আমন, সবজি ও অন্যান্য ফসলের বীজ তলা তৈরি করতে হবে। যাতে সূর্যের আলো নিয়মিত পড়ে। বন্যার সময় চারা নষ্ট হয় বলে অধিক পরিমাণ চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। এ মাসে খরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আউশ ধান ও পাটের জমিতে সম্পূরক সেচ দিতে হবে। বাছাইকৃত ও সংরক্ষিত বীজের গুনাগুণ ঠিক রাখার জন্য বায়ুরোধী পাত্রে বীজ রাখা যেতে পারে। এভাবেই পাত্রে বীজ সংরক্ষণ করবেন। জমির ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলা উচিৎ। তাছাড়া হঠাৎ  ঝড় বা শিলাবৃষ্টির কারণে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আপনাদের ক্ষেতের ফসল যাতে ঝড় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি না হয় সে কারণেই তাড়াতাড়ি জমির ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কেটে ফেলতে হবে। রোপা আমনের সাথে খরা শহনশীল ফলের যেমন- কুল বাগান করে অধিক লাভবান হতে পারেন। খরা প্রবণ এলাকায় রোপা আমান ধান ক্ষেতে মিনি পুকুর খনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পূরক সেচের জন্য ক্ষেতে/ মাঠের এক কোণে মিনি পুকুর খনন করুন। মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নাবি জাতের পাট চাষ করুন। বন্যার পরে নাবি আমন ধানের জাত লাগাতে হবে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই সময়ে কৃষকদের কাছে আমন ধান লাগানো ছাড়া অন্য কোন ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকে না। তাই বন্যার পানি নেমে গেলে কৃষকদের নাবি আমন ধানের জাত লাগাতে হবে। চারটি খরা সহনশীল আধুনিক ধানের জাত যথা- ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান- ৫৭, ব্রি ধান – ৬৬, ব্রি ধান- ৭১ উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষকদের যাচাই করে এসব নাবি ধান লাগাতে হবে। যাতে অনুকুল পরিবেশে কৃষকরা তাদের ফসল লাগিয়ে ঘরে তুলতে হবে। জ্যৈষ্ঠ মাস মধুমাস হলেও কৃষকদের এ মাসে ফসলের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ আজকে যে ফসল বোনা হবে আগামীতে সে ফসল কৃষকদের ঘরে আসবে। এভাবেই আমরা খাদ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করছি। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষকের ভূমিকা সবার আগে। এখনো শতকরা ৮০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। গ্রামে উৎপাদিত ফসল গ্রামের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে শহরের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের চাহিদা দিন বাড়ছে কিন্তু জমি সে পরিমাণ বাড়ছে না। বরং আবাদী জমি বসতবাড়ি, শিল্পকারখানা হওয়ার কারণে কমে যাচ্ছে। সে কারণেই আমাদের খাদ্যে সাফল্য আনতে হলে কৃষকদেরই নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। তবেই আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে  পারবো।  জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলে কৃত্রিম ঔষধ লাগানো থেকে বিরত থাকুন। নিরাপদ ফলের জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

Topics: বোরো ধান চাষে কম পানি ব্যবহার পদ্ধতি।

পানি কম ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের সহজ পদ্ধতি।

Login to comment login

Latest Jobs