Posted By

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা ও সমাধান

Fashion 22

গত বছরের আগষ্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সহিংসতার অভিযোগ এনে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন। বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে। এদেরকে আমরা মানবিক কারণে শরণার্থীর মর্যাদা দান পূর্বক বরণ করে নিয়েছি। এদেশে আগত রোহিঙ্গরাই বর্তমানে আমাদের সব চাইতে বড় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি।  বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এদের সংখ্যা ও সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদেশে মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন ঘটে ১৯৯১ সালে। রোহিঙ্গারা জ¥নসূত্রে বার্মা তথা মিয়ানমারের নাগরিক। এদের জাতীগত পরিচয় হলো-“এরা বার্মিজ রোহিঙ্গা।” বার্মা তথা হাল আমলের মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশের এদের বসবাস। রোহিঙ্গারা অধিকাংশই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। মিয়ানমার সরকারের দৃষ্টিতে তথায় বসবাসকারী প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা রাষ্ট্রবিহীন। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। বিশ্বের কোন দেশই জন্মগত অধিকার থেকে তার নাগরিকবৃন্দকে বঞ্চিত করতে পারে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বৃহৎ রাষ্ট্র বার্মা তথা হাল আমলের মিয়ানমার। দেশটি ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটি কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ নয়। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ১৯৮৮ সালে গণতন্ত্রের দাবীতে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসীর প্রতিষ্ঠাতা অং সান সু চি’র নেতৃত্বে ব্যাপক গণ-আন্দোলন হয়। সামরিক জান্তার চক্ষুশূলে পরিণত হন অং সান সু চি। সামরিক জান্তা তার বিরুদ্ধে বিপ্লবের নামে সহিংসতার অভিযোগ এনে তাকে গৃহবন্দী করেন। সরকার প্রহসনমূলক বিচারে অং সান সু চিকে কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। এর পর প্রায় দুই দশক তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় কারাগারে কাটান। স্বাধীনতার পর থেকে কোন দিনই বার্মার জনগন গনতন্ত্রের স্বাদ আহরণের সুযোগ পায়নি। ১৯৮৮ সালের অং সান সু চির নেতৃত্বে সংগঠিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাত করে দেয় সামরিক জান্তা। সামরিক জান্তার নীপিড়ন ও নিস্পেষনে, গণতন্ত্রের ভরা যৌবনেও মিয়ানমারের জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মিয়ানমারের সামরিক সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে রোহিঙ্গাদের উপর চরম নির্যাতন ও নীপিড়ন চালিয়ে তাদেরকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন। উপায় উপান্তর না দেখে নির্যাতনের শিকার অসহায় গৃহহীন রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও মানবিক দিক বিবেচনা পূর্বক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় প্রদান করেন। বর্তমান সরকার সফল কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে বিশ্বাবাসীকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং আমরা মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছি। তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার আপ্রাণ ভাবে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সম্পাদন করেছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যথাযথভাবে ছবি সম্বলিত তালিকা প্রনয়নপূর্বক তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে মিয়ানমারের উপর সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। পারমানবিক শক্তিধর দেশগুলোর তালিকায় আমরা যেন যুক্ত হতে পারি সেই পরিকল্পনাও গ্রহন করতে হবে। প্রয়োজনে যেন সামরিকভাবে মিয়ানমারকে মোকাবেলা করা যায়। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কাজী নজরুলের কবিতার ভাষায় কথা বলে তাদের নাগরিকবৃন্দকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রবীন্দ্র সংগীতের সুরে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সংক্রান্ত সীমান্ত সমস্যা, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। অতএব রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যারও সম্মানজনক সমাধান সম্ভব।  

Topics:

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা ও সমাধান

Login to comment login

Latest Jobs