Posted By

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

Fashion 43

                                                              মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জল নক্ষত্র কিংবদন্তি অভিনেত্রী মহানায়িকা সুচিত্রা সেন (রমা দাস গুপ্ত) বৃহত্তর পাবনা জেলার বেলকুচি থানার অন্তর্গত ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামে ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্ম গ্রহন করেন। পিতা করুনাময় দাস গুপ্ত ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা এবং মাতা ইন্দিরা দেবী আদর্শ গৃহিনী ছিলেন। তার মাতামহ ছিলেন বিখ্যাত কবি ও গীতিকার রজনিকান্ত সেন। রমা দাস গুপ্ত পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন-পাবনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া সমাপ্ত করেন। ১৯৪৭ সালে কলকাতার শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবনাথ সেনের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  প্রগতিশীল স্বামী এবং শ্বশুরের আগ্রহে সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র জগতে পদার্পন করেন। ১৯৫২ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘শেষ কথায়’ সুচিত্রা সেনের অভিষেক হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পরিত্যাক্ত হয়। সে বৎসরই তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নির্মল দেব পরিচালিত এবং উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রটি ১৯৫৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী কলকাতার বিভিন্ন পেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে আছে। উত্তম-সুচিত্রা রোমান্টিক জুটির প্রথম চলচ্চিত্র ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। এই চলচ্চিত্রটি উভয়ের জীবনে বয়ে আনে প্রভূত সম্মান ও সাফল্য। এই কালজয়ী চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর মহানায়ক-মহানায়িকা কাউকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সুচিত্রা সেন বিষ্মিত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন, ইংরেজিতে যাকে বলে ম্যাজিক টেলেন্ট। এই মহান শিল্পী মোট ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, তন্মধ্যে ৩০টিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে। উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত সাড়া জাগানো কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো-সাড়ে চুয়াত্তর, সাত পাকে বাঁধা, সপ্তপদী, হারানো সুর, পথে হলো দেরী, সবার উপরে ইত্যাদি। হিন্দি চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেনের অভিষেক হয় ১৯৫৫ সালে, হিন্দি ভাষায় নির্মিত দেবদাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে পার্বতী চরিত্রটি রূপায়ন করেন। সুচিত্রা সেনই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন, ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য। তিনি ১৯৭২ সালে ‘পদ্ম-শ্রী’ খেতাবে ভূষিত হন যা ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব। এই ক্ষণজন্মা মহান জাতশিল্পী ১৯৭৯ সালে স্বেচ্ছায় চলচ্চিত্র জগৎ থেকে বিদায় নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জনসম্মুখে উপস্থিত হননি। ২০০৫ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘দাদা সাহেব ফালকে’ গ্রহনে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিশ্ব-নন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’ চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, যার দরুন সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেননি। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি একমাত্র কন্যা অভিনেত্রী মুনমুন সেনের সঙ্গে নিভৃতে কাটিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারী ৮২ বৎসর বয়সে এই মহান শিল্পীর জীবনাবসান হয়। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে ততদিন এই মহান শিল্পী আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন।

 

Topics:

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

Login to comment login

Latest Jobs