Posted By

ওয়েব আর্টিকেল লিখতে চান? জেনে নিন এর খুঁটিনাটি ( ২য় পর্বঃকিভাবে এস ই ও (SEO) ফ্রেণ্ডলী ওয়েব আর্টিকেল লিখবেন )

Education 137

শুভষ্য শিঘ্রম। ভাবছিলাম সপ্তাহে একটি করে লেখা দিব। কিন্তু তা না করে ভাবলাম সিরিজটা তাড়াতাড়ি শেষ করে দেই। এই লেখার প্রথম পর্ব যারা পড়েন নি তারা এখান থেকে পড়ে নিন। কারন প্রথমটা না পড়ে থাকলে এখানকার অনেক কিছুই নতুন এবং অচেনা লাগবে। যেগুলো আমি অবশ্যই আবার নতুন করে বলতে যাব না। তো, প্রথম পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম কিভাবে ওয়েব আর্টিকেল লিখতে হয় তার সম্পর্কে একেবারে বেসিক পর্যায়ের কিছু কথা নিয়ে। যেমন কি কি বেসিক জিনিস আপনার আর্টিকেলে থাকবে। আর্টিকেলের শুরুটা কেমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আবারো বলছি আপনি অবশ্যই প্রথম লেখাটা পড়ে নিবেন। আজকের এই লেখায় থাকছে কিভাবে আপনার আর্টিকেলকে এস ই ও ফ্রেণ্ডলী বানাবেন। বেশি কথা না পেঁচিয়ে চলুন শুরু করা যাক।

 

এসইও কি ?

হ্যা প্রথমত এই জিনিসটা সম্পর্কে দুয়েকটা কথা বলে নেয়া যাক। যেহেতু এটা নিয়েই আমার পুরো লেখা সেহেতু এটা সম্পর্কে একটু না বলে নিলে বিষয়টা কেমন দেখায়। যদিও আমার মনে হয় সবাই কমবেশি এই জিনিসটার সাথে পরিচিত। তারপরেও কিছুটা ধারনা দেই। SEO এর পুরো ফর্ম হচ্ছে, Search Engine Optimization. খাঁটি বাংলায় বলতে গেলে আপনার লেখা আর্টিকেলটা কেউ যখন কোন সার্চ ইঞ্জিন (যেমনঃ Google ) এ সার্চ করবে তখন যেন সহজে খুঁজে পায় অথবা সবার আগে খুঁজে পায় তার জন্য আর্টিকেলকে সেভাবে সাজানো। একটা উদাহরণ দেই, ধরুন আপনি লিখেছেন, “ কিভাবে গ্যাস স্টোভ দিয়ে বেগুন ভর্তা করা যায়” কিন্তু সেটা মানুষ কিভাবে খুঁজে পাবে? কেউ তো সরাসরি আপনার সাইট এর এড্রেস টাইপ করে ঢুকবে না। কারন আপনি যে এই আর্টিকেলটা লিখেছেন তা পাঠকের জানার কথা না। সে কি করবে? সে কোন এক সার্চ ইঞ্জিন ( যেমন google, bing, yahoo ) তে গিয়ে সার্চ করবে কিভাবে গ্যাস স্টোভ দিয়ে বেগুন ভর্তা করা যায়। এখন আপনার আর্টিকেলটা যদি সেসব সার্চ ইঞ্জিনের বেসিক রুল গুলো ফলো করে এবং আপনার লেখাটি যদি মানসম্মত হয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার লেখাটি পাঠকের সামনে দেখাবে।

তো আমাদের আর্টিকেল লেখার পাশাপাশি সেটা কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলী করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। তো চলুন শুরু করা যাক।

 

টাইটেল বা শিরোনাম

 

এই বিষয়টি দুই ভাবে গুরুত্বপূর্ন। এক পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যটি সার্চ ইঞ্জিনের দৃষ্টি কোণ থেকে। আপনি আর্টিকেল লিখেছিলেন, “ কিভাবে গ্যাস স্টোভ দিয়ে বেগুন ভর্তা করা যায়” অথচ আপনার লেখার শিরোনাম হচ্ছে, “কিভাবে মাটির চুলায় মিস্টি আলু পুড়তে হয়” । স্বাভাবিক ভাবে আপনি আপনার কাঙ্খিত পাঠক পাবেন না। কারন পাঠক যখন সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজবে বেগুন ভর্তা নিয়ে সে আপনার কন্টেন্ট পাবেনা। কারন আপনার টাইটেল  বা শিরোনামে যা থাকবে সেটাকেই সার্চ ইঞ্জিন গুরুত্ব দিবে সবার আগে। যদি আপনার আর্টিকেলটি বিবেচনা করি তাহলে আপনার  আর্টিকেলের মূল বিষয় হচ্ছে বেগুন ভর্তা। সুতরাং আপনার শিরোনাম এবং লেখা সবকিছু হওয়া উচিত বেগুন ভর্তা রিলেটেড। যেসব পাঠক বেগুন ভর্তাতে উৎসাহী তারাই যেন আপনার লেখাটি পড়ে এদিকে আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং আপনার শিরোনামে যদি বেগুন ভর্তা কথাটি থাকে তাহলেই পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন দুজনেই বুঝতে পারবে ভিতরের লেখাটি বেগুন ভর্তা নিয়ে। আর এই বেগুন ভর্তা কথাটিই হচ্ছে আপনার কীওয়ার্ড। অর্থ্যাৎ যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছকে মূল বিষয় ধরে পুরো আর্টিকেলটি লেখা হয় সেটিই হচ্ছে কীওয়ার্ড। সামনে এই কীওয়ার্ড নিয়ে আরো অনেক কিছু জানবেন। সুতরাং এই কথাটি মাথার মধ্যে গেথে নিন। পারলে রিপিট করুন। তো, আপনার শিরোনামের মধ্যে আপনার লেখার বিষয়বস্তু/ কীওয়ার্ড অবশ্যই থাকতে হবে। এবং যথাসম্ভব আকর্ষণীয় করতে হবে। কারন এটাই পাঠকের সাথে আপনার মেলবন্ধনের প্রথম সিঁড়ি। শিরোনাম দেখেই পাঠক আপনার লেখাটি পড়তে আগ্রহী হবে।

ভূমিকা                                                                                             

 

প্রথম পর্বে ভূমিকা নিয়ে বলে দিয়েছি। এ পর্বে শুধু এর SEO পার্টটা নিয়ে বলবো। SEO নিয়ম অনুযায়ী আপনার কীওয়ার্ডটা অবশ্যই প্রথম প্যারাগ্রাফে থাকতে হবে। এই যে আপনার আর্টিকেলের কীওয়ার্ড হচ্ছে, “ বেগুন ভর্তা” এই শব্দটা অবশ্যই প্রথম প্যারাগ্রাফ  মানে ভুমিকায় থাকতে হবে। তার মানে এই না যে হুট করে যেকোন এক জায়গায় বসিয়ে দিলেই হলো। ব্যাপারটা যতটা সম্ভব ন্যাচারাল রাখার চেস্টা করবেন। শব্দটা যেন মানানসই ভাবে বসে যায়।

 

কীওয়ার্ডের ব্যবহার

 

  • আপনার শিরোনামের পরেও কিছু সাবহেডিং ( এর সঠিক বাংলা জানা নেই আমার ) ব্যাবহার করতে হবে আপনার। চেস্টা করবেন অন্তত একটি সাবহেডিং এ আপনার কীওয়ার্ডটি ব্যাবহার করার।
  • আপনার কীওয়ার্ড পুরো লেখার ১-২% হতে হবে এর বেশি হওয়া যাবে না। পারলে কম করে দিয়েন।
  • কোথাও জোড় করে কীওয়ার্ড ঢুকিয়ে দেয়ার চেস্টা করবেন না। যেখানে যেভাবে ন্যাচারালি বসে যায় বসাবেন।

 

সাব/ সাইড কীওয়ার্ড

 

আপনার মূল কীওয়ার্ড হচ্ছে, “ বেগুন ভর্তা” কিন্তু সবাই শুধু বেগুন ভর্তা লিখে সার্চ করবে না। কেউ হয়তো লিখবে, “ কিভাবে বেগুন ভর্তা করতে হয়, বেগুন ভর্তার উপকারীতা কি” এগুলো হচ্ছে আপনার পাশ্ব কীওয়ার্ড। আপনি চেস্টা করবেন যথাসম্ভব পাশ্ব কীওয়ার্ড ব্যবহার করার। এতে সার্চ ইঞ্জিন আরো বেশি গুরুত্ব দেয়।

আর্টিকেল কত বড় হতে হবে?

না এর কোন নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য নেই। আপনার কথাটি সঠিকভাবে প্রকাশ করতে যতটুকুই দরকার ততটুকুই লিখুন। কিন্তু যা লিখছেন তা যেন পাঠকের কাছে যথাযথ মনে হয়। পাঠক যেন পড়ার পর পুরো জিনিসটা বুঝতে পারে। তাহলেই যথেস্ট। তবে সার্চ ইঞ্জিন এর হিসেবে লেখা অবশ্যই ৩০০ শব্দের বেশি হতে হবে। তবে হ্যা একই বিষয়ের উপর কেউ যদি আপনার চেয়ে ভালোভাবে আরো বিস্তারিতভাবে লিখে থাকে তাহলে আপনার লেখাটি সার্চ ইঞ্জিনে ঐ লেখার চেয়ে কম গুরুত্ব পাবে। সে হিসেবে আমি মনে করি ৭০০-১০০০ শব্দ হচ্ছে আদর্শ। তবে প্রয়োজন ভেদে একটি আর্টিকেল ১০ হাজার শব্দেরও হতে পারে।

যা করবেন না

  • অন্যের লেখা নকল করে আপনি লিখতে পারবেন না। তবে অন্যের লেখার থেকে ইন্সপিরেশন নিয়ে আপনি লিখতে পারেন কিন্তু হুবহু নকল করা যাবেনা। তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে সেটিকে পাঠকের সামনে দেখাবে না। কারন ইতোমধ্যে সেই জিনিসটা অন্য কেউ দিয়েছে। এবং সার্চ ইঞ্জিন সেটাই দেখাচ্ছে।
  • বানান ভূল এবং ব্যকরন এর ভূল। আপনার লেখার বানান এবং ব্যকরণ এর ভূল সবচেয়ে মারাত্বক বিষয়। এদিকে খেয়াল রাখবেন।
  •  অযথা কঠিন শব্দ ব্যবহার করবেন না। এটাও আপনার লেখার জন্য অনেক ক্ষতিকর। যতটা পারেন সহজ করে লেখার চেস্টা করবেন।

 

উপরের কয়েকটি জিনিস মেনে চললেই আপনার লেখাটিকে আপনি এসইও ( SEO) ফ্রেন্ডলী করতে পারবেন বলে আশা করছি। তারপরেও হয়তো কোন জিনিস আমি ভূলে গিয়েছি। অনেক কিছু এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। এরপরের পর্বে থাকতেছে আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে কি কি ভূল আমরা করে থাকি এবং কিভাবে সেসব জিনিস এড়িয়ে চলব। আশাকরি সাথে থাকবেন। আপাতত এটুকুই, ধন্যবাদ।

Topics:

ওয়েব আর্টিকেল লিখতে চান? জেনে নিন এর খুঁটিনাটি  ( ২য় পর্বঃকিভাবে এস ই ও (SEO) ফ্রেণ্ডলী ওয়েব আর্টিকেল লিখবেন )

Login to comment login

Latest Jobs