Posted By

সুন্দর করে কথা বলতে চান? জেনে রাখুন ৪টি কৌশল

Education 2256

একটু চিন্তা করুন তো একজন মানুষকে চেনেন না, জানেন না, তার বংশ বা পড়াশুনা কোন কিছুই আপনার অবগত না। তবুও মানুষটির সাথে ২ মিনিট কথা বলার পরই তার সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারনা আপনি করে ফেলতে পারেন। পরবর্তী মিনিট গুলোতে তার সাথে আপনার আচরন কেমন হবে তার একটা পরিকল্পনা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার মাঝে তৈরি হয়ে যায়। বলতে পারেন কি এর কারণ কি? এর কারন হল তার কথা বলার ধরন এবং অভিব্যক্তি! একজন মানুষকে তুলে ধরে তার কথা বলার ধরন। বাহ্যিক সৌন্দর্যের একটি অন্যতম উপাদান হল সুন্দর করে কথা বলা। আপনার ব্যক্তিত্বের একটি বড় অংশ হলো কথা বলার ধরন। আপনি হয়ত দেখতে সুন্দর না। আপনার হয়ত অনেক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। হয়ত আপনি শারীরিকভাবেও সম্পূর্ণ না। এইসবকে ছাপিয়ে আপনাকে সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে শুধুমাত্র আপনার সুন্দর করে কথা বলা। সুন্দর করে কথা বলতে পারার সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলো হলঃ আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়, উদ্যমী হওয়া যায়, অন্যের চোখে ভালো ইম্প্রেশন তৈরি করা যায়, মানুষকে সহজে প্রণোদিত করা যায়। আপনি যদি একজন সফল মানুষ হতে চান। সবার আগেই সব কটি গুণ আপনার মাঝে থাকা জরুরী। এবার একটু জেনে নেয়া যাক যে, সুন্দর করে কথা না বলতে পারলে আপনি কি কি অসুবিধার মুখোমুখি হবেন। এর তালিকা করলে অবশ্য তা বিশাল বড় আকারের হয়ে যাবে। কিন্ত তার মাঝে কিছু উল্লেখযোগ্য হলঃ ১। আপনি কথা ঠিকভাবে বলতে না পারলে প্রথমেই আপনাকে সবাই ভুল বুঝবে। ২। আপনার হতাশা তৈরি হবে ৩।। মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হবে ৪। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকবেন।

সুন্দর করে কথা বলাটা যে খুব বেশী কঠিন এমনটা কিন্ত না। এর জন্য একটু সচেতন হওয়া এবং কিছু দিন অন্তত নিজের কথা বলার একটা ফিল্টার বসিয়ে চর্চা করা। কোন কথাটা আপনি বলবেন আর কোন কথাটা বলবেন না। একবার ভেবে দেখুন, এই সুন্দর করে কথা বলাটা যদি আপনাকে এতোটা সুবিধা দিতে পারে। আপনি কি সেটার জন্য সামান্য কষ্ট করতে পারবেন না? তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক, সুন্দর করে কথা বলার কিছু কার্যকারী টিপস জেনে নেয়া যাকঃ

হাসিমুখে কথা বলা

বলুন তো পৃথিবীর যে কোন মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে কখন? একটা মানুষকে সবথেকে সুন্দর লাগে যখন সে হাসে। এবার ভাবুন তো, কোন দোকানে যেতে আপনার ভাল লাগে? যেসব দোকানে হাসিমুখে আন্তরিকতার সাথে কথা বলে নাকি যেখানে সবসময় গুমট হয়ে মুখ অন্ধকার করে কথা বলে? অথবা চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, কোন মানুষটাকে আপনার ভাল লাগে? দেখবেন, হাসিমুখের মানুষগুলোই আপনার মনে প্রিয় জায়গাটি দখল করে বসে আছে। তাই সৃষ্টিকর্তা প্রতত্ত এই অসম্ভব সুন্দর গুণটিকে ব্যবহার করুন।

নেতিবাচক কথা বলবেন না

দৈনন্দিন কথার মাঝে কখনই কোন নেতিবাচক কথা ব্যবহার করবেন না। কারণ নেতিবাচক কথা বার্তা হতাশার সৃষ্টি করে। একটা উদাহরন দেয়া যাক, একবার এক ম্যারেজ কাউন্সিলের কাছে এক দম্পতি গিয়েছিলেন পারিবারিক সমস্যায়। ম্যারেজ কাউন্সিলর তাদের সাথে কথা বলে জানলেন, প্রতিদিন মহিলা তার স্বামীকে বাজার প্রসঙ্গে বলেঃ "চাল নাই, ডাল নাই, চিনি নাই, লবন নাই, মাছ নাই, মাংস নাই" ইত্যাদি ইত্যাদি। এই 'নাই-নাই' শুনতে শুনতে ভদ্র লোক একটি শূণ্যতা অনুভব করেন। এই কথা শুনে ম্যারেজ কাউন্সিলর পরামর্শ দিলেন, এখন থেকে কথাগুলো একটু ঘুরিয়ে বলতে। যেমনঃ এই 'নাই' এর জায়গায় বলবেন 'লাগবে'। কিন্ত এই কথাগুলোই যদি ঐ ভদ্র মহিলা এভাবে বলতেন যে, "চাল লাগবে, ডাল লাগবে, চিনি লাগবে, লবন লাগবে, মাছ লাগবে, মাংস লাগবে"। তাহলে হয়ত সংসারে অশান্তি অনেক কমে যেত। কারণ 'নাই' শব্দটির চেয়ে লাগবে শব্দটি ইতিবাচক। এটি ভাল অনুরনন সৃষ্টি করে। তাই আজই নেতিবাচক কথা বা শব্দগুলোর ইতিবাচক প্রতিশব্দ খুজে বের করুন এবং নিয়মিত ইতিবাচক অভিব্যক্তির চর্চা করুন।

বিতর্ক পরিহার করুন

বিতর্ক মানেই আরেক পক্ষকে হেয় করে। হেয় বা অসম্মান করে আসলে কখনো কারো হৃদয়কে জয় করেনা। বুদ্ধিমান মানুষ কখনো বিতর্কে লিপ্ত হয়না। বরং তাঁরা তাদের বুদ্ধিকে ব্যবহার করে বিতর্ক এড়ানোর জন্য। আমরা মনে করি একটু রাগ না দেখালে কেউ পাত্তা দিবেনা। অথবা অহেতুক একটু চেচামেচি না করলে আমার দাম কমে যাবে। ইতিহাস কিন্ত উল্টোটাই সাক্ষ্য দেয়। তাই বিতর্ক সবসময় এড়িয়ে চলবেন।

বিদ্রূপের জবাব দিন বিতর্কের সাথে

রবীন্দ্রনাথ তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান ১৯১৩ সালে। পশ্চিমাদের অনেকেরই এটা সহ্য হচ্ছিল না। একবার এক পশ্চিমা সাহেব রবীন্দ্রনাথকে একবার বলেই বসলেন, গীতাঞ্জলি বইটি দারুণ হয়েছে। কে আসলে ওটা লিখে দিয়েছিল তোমার হয়ে? সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এলো কবী গুরুর বুদ্ধি দীপ্ত উত্তর। রবী ঠাকুর বললেন, বল দেখি কে আসলে তোমাকে পড়ে দিয়েছিল গীতাঞ্জলির মতো কাব্য। একবার নিজেকে কবিগুরুর ঐ সময়ের স্থানে বসিয়ে ভাবুন তো, আপনি কি উত্তর দিতেন? তাই নিজের বুদ্ধিকে ব্যবহার করুন। বিদ্রুপকারীর সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে বিদ্রূপের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেওয়ার চেস্টা করুন।

বলুন কম, শুনুন বেশি

স্রষ্টা মানুষকে দুটো কান দিয়েছেন এবং একটি মুখ দিয়েছেন। অতএব শুনতে হবে বেশী, বলতে হবে কম। তাই বলার আগে সচেতন হোন, কখন কাকে কি বলে ফেলছেন। কথা বলার চেয়ে শোনার দিকে বেশি মনোযোগী হোন। ভাল বক্তার চেয়ে ভাল শ্রোতা অন্যকে বেশি আকৃষ্ট করেন। মনে রাখবেন, জ্ঞানী কথা বলেন, প্রজ্ঞাবান শোনেন!

Topics:

সুন্দর করে কথা বলতে চান? জেনে রাখুন ৪টি কৌশল

Login to comment login