Posted By

যে ৬ কারণে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করা উচিত

Education 4

বর্তমান সময়ে বিবিএ-এমবিএ এই দুটি ডিগ্রির গুরুত্ব এতোই বেড়েছে যে এখন এই শব্দ দুটি মানুষের ঠোঁটের আগালে ঘোরাফেরা করে! এমনকি যাদের বিবিএ-এমবিএ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেই, তারাও এই ডিগ্রির চাহিদাটা খুব ভাল করেই জানেন। তাদের জন্যই আজকের এই আয়োজন। যদিও আজকের লেখা শুধুমাত্র এমবিএ কে নিয়ে। তবুও এমবিএ -এর সাথে যেহেতু বিবিএ ডিগ্রিটাও খুব জড়িয়ে গেছে। তাই দু-এক লাইনে বিবিএ সম্পর্কেও হালকা জেনে নিব। বিবিএ এর পূর্ণরূপ হল, ব্যাচেলর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। যা মূলত ব্যবসা অনুষদের ৪ বছর মেয়াদী একটি স্নাতক ডিগ্রি। এবার আসা যাক আমাদের আজকের মূল বিষয় 'এমবিএ' নিয়ে। এমবিএ মানে হল মাস্টার অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একটি ২বছর মেয়াদি প্রোগ্রাম বা কোর্স। আর এটির আরেকটি পরিচয় হল এমবিএ একটি স্নাকোত্তর ডিগ্রি। যা মূলত বিবিএর মতো ব্যবসায় অনুষদে পড়াশুনার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। চলতি সময়ে চাকুরীর বাজারে সবচেয়ে বিশাল জায়গা নিয়ে আছে কর্পোরেট সেক্টর। জব সার্কুলারগুলোতে চোখ বুলালেই দেখা যাবে এর বেশীরভাগ ভ্যাকেন্সিগুলো ছোট-বড় দেশীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে। তাই চাকুরী করতে গিয়ে লোভনীয় কিন্ত সীমিত সরকারি চাকুরীর সুযোগ হারালে আপনাকে অবশ্যই দ্বারস্থ হতে হবে কর্পোরেট সেক্টরের কাছে। আর সেসব জবের সার্কুলার থেকেই জানতে পারবেন ঐসব কোম্পানির অন্যতম পছন্দ হলো এমবিএ ডিগ্রিধারী ব্যক্তি। আচ্ছা এটাতো গেলে চাকুরীর বাজারে এমবিএর চাহিদা। এবার আসা যাক উদ্যোক্তাদের বিষয়ে। অর্থাৎ, পড়াশুনা শেষে যাদের লক্ষ্য নিজেই কিছু করার। একটা বিষয় ভাবুন তো, একজন এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী যদি ব্যবসায় করে নিজেই কিছু করতে চায়। তবে সে হয়ত সর্বোচ্চ হলে নিজের শহরে একটি দোকান খুলে ব্যবসায় করবে। কিন্ত একজন গ্রাজুয়েশন করা শিক্ষার্থী নিজে কিছু করতে চাইলেও নিশ্চই দোকান খুলে ব্যবসা করা টাইপের কিছু করতে চাইবেনা। তাছাড়া সেটি তখন তার স্ট্যাটাসের সাথে মানাবেও না। বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই দেখি, গ্রাজুয়েট করা যে ক'জন শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবছেন হয় তারা ছোট পরিসরে স্টার্টাপ বিজনেস শুরু করছেন কিংবা পারিবারিক উত্তোরাধিকার সূত্রে বড় কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হাল ধরছেন। এই ক্ষেত্রেও আপনাকে এমবিএ ডিগ্রী একধাপ এগিয়ে রাখবে। যেমনঃ একজন উদ্যোক্তাকে একটি বিজনেস শুরু থেকে সফলতা অর্জন পর্যন্ত নিজ যোগ্যতায় সব কিছু সামলাতে হয়। সেক্ষেত্রে আপনার এমবিএ ডিগ্রি থেকে অর্জিত শিক্ষা আপনাকে বিজনেস সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করবে। আবার আপনি যদি পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে হয়ে থাকেন বড় ব্যবসায়ী। তবে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরতেও সহায়তা করবে এমবিএ ডিগ্রি। কারণ, আপনি যদি এই সময়টায় কোন বিজনেস ফার্মে চাকুরীর জন্য আবেদন করতেন। সেখানেও ঐ প্রতিষ্ঠান আপনার এমবিএ ডিগ্রিটা অগ্রাধিকার দিত। তাহলে নিজের প্রতিষ্ঠানে সেই একই পজিশনে কাজ করার জন্য এমবিএ ডিগ্রিটাকে অবহেলা করা কি ঠিক হবে? মোটেও না! চলুন জেনে নেই এমন কিছু কারণ, যেসব কারণে আপনার অবশ্যই এমবিএ করা উচিতঃ

 

১। দ্রুত চাকুরীর সুযোগ

সদ্য গ্রাজুয়েশন করা শিক্ষার্থীটাই শুধু অনুভব করে, একজন Freshers এর পক্ষে একটি চাকুরী পাওয়া কতটা কঠিন। কারণ, বর্তমানে চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞতা ছাড়া কোন চাকুরী প্রত্যাশীকেই চাকুরী দেয় না বললেই চলে। তবুও নতুনদের জন্য যে কয়েকটি সীমিত সুযোগ থাকে সেগুলোতেও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের আধিপত্য। অর্থাৎ, চাকুরী প্রত্যাশী একজন সদ্য গ্রাজুয়েটের জন্য এমবিএ ডিগ্রিটা আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। তাই দ্রুত চাকুরী পেতে বিবিএ শেষে এমবিএ ডিগ্রিটাও নিয়ে ফেলা উচিত। আর যারা স্নাতক পাস করেছেন বিজনেস স্টাডিজ বাদে অন্য কোন অনুষদ থেকে। তারাও স্নাতকের পর এমবিএ করতে পারেন। তাই একজন ফ্রেশার হিসেবে চাকুরীর বাজারে প্রতিযোগিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে এমবিএ অবশ্যই প্রয়োজন।

 

২। মোটা অংকের বেতনের সম্ভাবনা

এমবিএ ডিগ্রিটা থাকলে চাকুরী পাওয়া যে সহজ হয় তা নাহয় জানলাম। কিন্ত শুধু চাকুরী হলেই তো হবে না। প্রয়োজন একটা ভালো বেতনের চাকুরী। আর সেই স্বপ্নেরও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে এমবিএ। স্নাতক শেষ করে পাওয়া একটা জবের স্যালারি আর স্নাকোত্তর (এমবিএ) করা একজন চাকুরীজীবীর স্যালারি কিছুটা হলেও বেশী হবে এটাও নিঃসন্দেহে বলা যায়।

 

৩। হতে পারবেন নিজেই নিজের বস

ক্যারিয়ারে নিজেই নিজের বস হওয়ার একটাই উপায়, উদ্যোক্তা হওয়া। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা কেউ পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে, কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে ভাবতেই স্বপ্নটা দেখে ফেলেন। আরেকদল দেখেন এমবিএ ডিগ্রি লাভের পর। আর যাদের আগে থেকেই নিজেই নিজের বস হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের স্বপ্ন আরও প্রখর করে তোলে এমবিএ। শিক্ষাবিদদের মতে, এমবিএ প্রোগ্রামে একজন শিক্ষার্থী ব্যবসা সংক্রান্ত যেসব জ্ঞান অর্জন করেন সেসব তাকে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার দিক নির্দেশনা এমবিএ তে অর্জিত জ্ঞানগুলোই দিয়ে থাকে। তাই আপনার যদি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে থাকে। তবে আপনার জন্য এমবিএ প্রোগ্রামের জ্ঞানগুলো অর্জন করা অনেক জরুরি।

 

৪। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জবের সুযোগ

কর্পোরেট দুনিয়ায় সবচেয়ে ভাল ক্যারিয়ারের সুযোগ দেয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। তাই কর্পোরেট চাকুরী প্রত্যাশীদের চোখ প্রথম পছন্দ থাকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। নামীদামী বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলোতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ  কে-ই বা হাত ছাড়া করতে চায়। কিন্ত সেখানেও তাদের প্রথম শর্ত এমবিএ ডিগ্রি! চাইবেই না বা কেন! যেখানে দেশীয় মাঝারি-ছোট কোম্পানিগুলোও এমবিএ ডিগ্রিধারীদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। সেখানে বিশ্বের নামীদামী কোম্পানিগুলো চাইতেই পারে তাদের কর্মকর্তারা অন্তত এমবিএ ডিগ্রিধারী হোক। আর এমবিএ সারা বিশ্বের স্বীকৃত একটি ডিগ্রি। তাই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক যোগ্যতার শর্তই থাকে অনেক সময় এমবিএ!

 

৫। প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর সুযোগ

প্রথমত বলে রাখি, এমবিএ কিন্ত একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি। আর এটি মূলত ২ ধরনের। যেমনঃ ১। রেগুলার এমবিএ ২। প্রফেশনাল এমবিএ। স্নাতক শেষে যারা ক্যারিয়ার শুরুর আগেই এমবিএ ডিগ্রিটা নিয়ে ফেলেন। সেটাকে বলা হয় রেগুলার এমবিএ। আর প্রফেশনাল এমবিএ বা পিএমবিএ প্রোগ্রামটা হলো মূলত চাকুরীজীবিদের জন্য। যারা অনার্স/স্নাতক শেষে ক্যারিয়ার শুরু করে ফেলেন তারা চাইলে চাকুরীর পাশাপাশি এই ডিগ্রি নিতে পারেন। যা আপনাকে চাকুরীতে প্রোমোশন পেতে অথবা কর্মক্ষেত্রে আরও যোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। যারা মূলত প্রফেশনাল এমবিএ করে থাকেন তাদের একটি বিশেষ সুযোগ হলো এই পড়াশুনা করতে গিয়ে অনেক প্রফেশনাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব বা পরিচয় হবে। যা আপনার বড় বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিবে। 

 

৬। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি

এমবিএ ডিগ্রিটা সারাবিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি। এই প্রোগ্রামের আওতায় আপনাকে যেসব বই পড়ানো হবে সেগুলো ইন্টারন্যাশনাল ভার্সনের আর কোর্স কারিকুলামও সারা বিশ্বে মোটামুটি এক। তাই আপনি যেখানেই এমবিএ পড়ুন না কেন, আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি সারাবিশ্ব স্বীকৃত একটা ডিগ্রি অর্জন করছেন। যেমনঃ আপনি বাংলাদেশে বাংলা বিভাগে অনার্স, মাস্টার্স পড়ে দেশে হয়ত বাংলা নিয়েই কোন চাকুরীর সুযোগ পাবেন। কিন্ত বাংলায় নেওয়া অনার্স মাস্টার্সের ডিগ্রি কিন্ত অন্য দেশে গেলে গ্রহণযোগ্য হবেনা। তাই বিশ্ব স্বীকৃত একটা ডিগ্রি দেশেই নেয়ার সুযোগ মিস করা ঠিক হবেনা।

যে ৬ কারণে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করা উচিত

Login to comment login

Latest Jobs
  • Bangladesh Navy Welder Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Shipfitter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Plater Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Diesel Fitter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: H.S.C. (Vocational)
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018
  • Bangladesh Navy Carpenter Job Circular
    Bangladesh Navy
    Education: S.S.C/ Equivalent
    Experience: 0 Years
    Deadline: 25 Nov 2018