নার্স হতে চাইলে

Education 11

বর্তমান বিশ্বে নার্স একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে দাড়িয়েছে। এই পেশায় সম্মানের পাশাপাশি রয়েছে আর্থিক সুবিধা ও চাকুরী পাওয়ার নিশ্চয়তা। এমন কাউকেই খুজে পাওয়া যাবে না যিনি নার্সিং এ পড়াশোনা করে বেকার রয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফল প্রকাশের পর অনেকেই বিভিন্ন সেক্টরে পড়াশোনা করবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশের নার্সিং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এইচএসসি পাশ করে যারা নার্সিং এ ভর্তি হতে চান এবং পেশা হিসেবে নার্সিং কে বেছে নিতে চান লেখাটি তাদের জন্য। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত মিলিয়ে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট আছে ৩৩৫ টি। এসব প্রতিষ্ঠানে  বিএসসি-ইন-নার্সিং, পোস্ট বেসিক বিএসসি নার্সিং, ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স ও মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন সংখ্যা ১৬ হাজার ৭০ টি। বর্তমানে দেশে ১৮ টি সরকারী প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তির সুযোগ আছে যেখানে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৫ টি। আর বেসরকারি ৫৮ টি কলেজে ২৬৭০ জন শিক্ষার্থীর বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ২ টি সরকারি ও ৪৪ টি বেসরকারি কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং করার সুযোগ রয়েছে যথাক্রমে ৪০০ ও ১৬৯০ জন শিক্ষার্থীর। এছাড়া দেশে এখন কেবল মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স ইন নার্সিং করার সুযোগ রয়েছে । মাত্র ৬০ টি আসন সম্বলিত জাতীয় নার্সিং ও উচ্চ শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ পেয়ে থাকেন বিএসসি অথবা পোস্ট বেসিক করা শিক্ষার্থীরা। বিএসসি কোর্সের পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তি হয়। দেশে বর্তমানে ২০৪ টি প্রতিষ্ঠানে নার্সিং বিষয়ে ডিপ্লোমা করার সুযোগ আছে। এর মধ্যে সরকারী ৪৩ টি প্রতিষ্ঠানে ২৫৮০ জন ও বেসরকারি ১৬১ টি প্রতিষ্ঠানে ৭৮২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স করা যায় সরকারি ৩৮ টি প্রতিষ্ঠানে যেখানে মোট আসন সংখ্যা ৯৭৫ আর বেসরকারি ১৭ টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ আছে ৫৯০ জন শিক্ষার্থীর।  বিএনএমসি নীতিমালা অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণরা নার্সিং কলেজে বিএসসি কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারে। উভয় পরীক্ষায় থাকতে হবে জীববিজ্ঞান। যেকোনো বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারে। সব ক্ষেত্রেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা মিলে ন্যূনতম ৬.০০ থাকতে হবে। বিএসসি কোর্সের জন্য এ দুই পরীক্ষায় আলাদাভাবে জিপিএ ২.৫ ও ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য কমপক্ষে জিপিএ ২.২৫ পেতে হয়। সরকারি নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে ফলের ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। আগে বেসরকারি কলেজ ও ইনস্টিটিউটে আলাদা করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়অ হলেও এখন বিএনএমসি কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরে কলেজে আবেদন করতে হয়। এজন্য কলেজসমূহের নির্ধারিত ফি দিয়ে ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দিতে হয়। বর্তমানে দেশে নার্সিং শিক্ষায় ৮০ শতাংশ আসন মেয়েদের জন্য এবং ২০ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে ছেলেদের জন্য। বিএসসি-ইন-নার্সিং কোর্সের মেয়াদ চার বছর এবং ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ তিন বছর। কোর্স শেষে ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ করতে হয়। ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং কোর্স শেষে দুই বছরমেয়াদি পোস্ট বেসিক বিএসসি-ইন-নার্সিং ও পোস্ট বেসিক বিএসসি-ইন-পাবলিক হেলথ নার্সিং কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে।  খরচাপাতি মেধা তালিকায় সরকারি কলেজে সুযোগ পেলে তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। তবে মান, সুবিধা ও আকার ভেদে বেসরকারি কলেজসূহে কোর্স ফি নির্ধারিত হয়। চার বছর মেয়াদি বিএসসি কোর্সে কলেজ ভেদে একাডেমিক খচর বাবদ ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। আবার ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীদের খরচ করতে হয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা। উদাহরণসরূপ বলা যায়, রাজধানীর নিকটে সাভারে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিআরপি নার্সিং কলেজে চার বছর মেয়াদী বিএসসি কোর্সে ব্যয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আর ডিপ্লোমা কোর্সের জ্যন খরচ হয় ১ লাখ দশ হাজার টাকা। প্রায় সব নার্সি কলেজেই ছাত্রীদের জন্য শতভাগ হোস্টেল সুবিধা থাকে কারণ শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষ থেকেই ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্টে অংশ নিতে হয়। 

Topics: Nursing Narsing Education Education Nurse Nursing College

নার্স হতে চাইলে

Login to comment login