Posted By

অলসতায় আটকে আছেন? জেনে নিন অলসতা দূর করার ৮ উপায়

Career 72

আমাদের জীবনে একটু আধটু অলসতা কিংবা আলসেমি থাকতেই পারে। কিন্ত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তখনই যখন সেটা তার মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায় আর আপনার দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে হয়ে যায় সবচেয়ে বড় বাঁধা। এই যেমন ধরুন, আপনি বিশ্রাম নেয়ার জন্য বিছানায় শুয়ে আছেন কিংবা শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছেন। কিন্ত বিশ্রাম নেয়ার সময় শেষে আপনি লক্ষ্য করলেন যে, আপনাকে আর বিছানা থেকে উঠতে মন চাইছেনা কিংবা মন বলছে, আর ৫টা মিনিট পর কাজ শুরু করি। মজার বিষয় হলো যে, এই ৫ মিনিট পর শুরু করার মনোভাব নিয়ে আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়ার পরও আপনার বিশ্রামের সমাপ্তি আর টানতে পারেন না! আর যা আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মকে চরম মাত্রায় ব্যহত করে। আর এই অলসতা হয়ে উঠে আপনার অন্যতম খারাপ অভ্যাস।

 

অলসতার সাথে যদি আপনার সম্পর্কটা হয় ঠিক এমনই, তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে চরম হতাশা। কারণ, অলসতা এমনই এক বাজে অভ্যাস যার কারণে আপনার সফলতা আপনার ধারে কাছেও আসার সুযোগ পায়না। আর এটার ফলাফল হিসেবে হতাশা ছাড়া জীবনে আর কিছু পাওয়া যায় না। আজ শেয়ার করব এমনই ৮টি টিপস যা আপনাকে অলসতার সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।

 

১। মোটিভেশন বা অনুপ্রেরনা খুঁজুন

কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন? এমন সময় আপনাকে অলসতা গ্রাস করে রেখেছে? এরকম পরিস্থিতিতে আপনার প্রয়োজন শুধু একটুখানি মোটিভেশন। অনুপ্রেরনা এমনই এক অস্ত্র যা অলসতার সাথে যুদ্ধ করতে আপনার জন্য দারুন কার্যকারী হয়ে উঠতে পারে। বড় কোন কাজ শুরুতে অলসতা তো থাকেই। এমনকি বাসার ছোট্ট কোন কাজটি করতেও হয়ত আমরা অলসতার জন্য আটকে যাই বা কাজটি শুরু করা হয়ে উঠেনা। তাই ছোট বড় যেকোন কাজ শুরুতে এবং কাজ করা অবস্থাতেও মোটিভেশন ধরে রাখুন। আর এই অনুপ্রেরনা বা মোটিভেশনের উৎস হতে পারেন আপনি নিজেই। তবে ব্যক্তিভেদে একেকজন একেকভাবে মোটিভেটেড হয়। তাই আপনার চাহিদামত মোটিভেশন আপনি নিজেই খুঁজে নিন।

 

২। জবাবদিহিতার অভ্যাস করুন

কর্মজীবনে আপনি যদি হয়ে থাকেন চাকুরীজীবী। তবে জবাবদিহিতার বিষয়টির সাথে আপনার প্রত্যক্ষ পরিচয় আছে এবং অলসতা কাটাতে এর ভূমিকাও আপনার জানা। হ্যা, আপনি যখন কোন একটি কাজের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি থাকবেন। তখন চাপের মাধ্যমে হলেও আপনি কাজটার সাথে যুক্ত থাকেন। ফলে অলসতা আপনার কাছে আসতে চাইলেও তা গ্রাস করতে পারেনা। তাই অলসতা কাটানোর জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে, ব্যক্তিজীবনে কিছু কাজে এবং কর্মক্ষেত্রেও কিছু কিছু কাজে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকেনা। তাই যেসব কাজে জবাবদিহিতার অনুপুস্থিতি পাবেন, সেসব কাজে নিজে থেকেই কারো কাছে জবাবদিহি হওয়ার ব্যবস্থা করুন। অর্থাৎ জবাবদিহিতা ছাড়া প্রত্যেক কাজ অলসতার কারখানা।

 

৩। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে সাজিয়ে নিন

বড় যেকোন কাজ করতে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হল, অলসতার কারণে কাজটি শুরু করাই সম্ভব হয়ে উঠেনা। আর অলসতা একবার বাসা বাধার সুযোগ পেলে তা গ্রাস করে ফেলতে সময় কম নেয়! ফলে কাজগুলো শুরু করা হয়ে উঠেনা। তবে বড় কাজগুলোর তুলনায় ছোট যেকোন কাজ আমরা খুব চট করে শুরু করে শেষও করে ফেলি নিজের অজান্তেই। আর এই বুদ্ধিটাই খাটাতে হবে বড় কাজগুলো করার ক্ষেত্রে। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে কিন্ত সহজেই সব শেষ করে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এর ফলে বড় কাজগুলোকে বড় ভাবারও সুযোগ হয়না আর অলসতাও পায় না গ্রাস করার সুযোগ।

 

৪। নিয়মিত ব্যায়াম করুন

অলসতা যাদের নিত্য দিনের অভ্যাসে রুপ নিয়েছে। তাদের জন্য ব্যায়াম হতে পারে অলসতা থেকে পরিত্রাণের ভালো একটি উপায়। অনেক শারীরিক-মানসিক অসুখের ওষুধ হিসেবে কাজ করে ব্যায়াম। তাই ব্যায়ামকে ছোট করে দেখবেন না। যারা নিত্যদিন অলসতার মাঝে ডুবে থাকতে থাকতে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছেন। তারা স্বভাবতই চুপচাপ শুয়ে বসে কাটাতেই বেশী পছন্দ করেন। আর যা অলসতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী আশ্রয় দেয়। তাই অলসতার জালে আটকে পড়া সেইসব মানুষের প্রথম ওষুধ হলো ব্যায়াম করা। মনে রাখবেন, অলসতাকে কাটানোর জন্য আপনাকে কোন বেশী পরিশ্রমের ব্যায়ামও করতে হবেনা। বিকেল বেলা একটু হেটে আসার মতো ছোট্ট ব্যায়ামই আপনার অলসতাকে বিদায় জানানোর জন্য যথেষ্ট।

 

৫। সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক উদাহরণ খুঁজুন

এই বিষয়টি মূলত মোটিভেশনের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে। আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক কোন উদাহরণ খোঁজা আপনাকে মোটিভেটেড রাখার একটি উপায় মাত্র। কোন কাজে করতে গিয়ে অলস হয়ে বসে আছেন? আপনাকে সরাসরি অনুপ্রেরনা দিবে এরকম কেউও নেই আশেপাশে? তবে যেমনটা বলেছিলাম, এমন পরিস্থিতিতে নিজের মোটিভেশনটাকেও খুঁজে নিতে হবে নিজেকেই। আপনার কাজে সফল হয়েছে এমন যেকোন উদাহরণ স্মরণ করলেও আপনার মোটিভেশন বেড়ে যেতে পারে বহুগুণ।

 

৬। অলসতার পরিণতি স্মরণ করুন

অলসতার কারণে কাজ না করার পরিনতি বরাবরই খারাপই হয়ে থাকে। অনেক সময় পরিনতি শুধু খারাপ না, বলতে গেলে ভয়ংকর খারাপ ফল অপেক্ষা করে আমাদের জন্য। আর অলস অবস্থায় শুয়ে বসে থাকার সময় অন্তত আপনার আটকে থাকা কাজটি না করার খারাপ পরিনতির কথা ভাবলেও অলসতা আপনাকে আর কোনভাবেই আটকিয়ে রাখতে পারবেনা। এটি প্রমাণিত! ইসলামিক একটা উদাহরণ বিষয়টি খুব সহজে বুঝতে সাহায্য করবে। প্রত্যেক মুসলিম আল্লাহর ইবাদাত করে এবং ইসলামের পথে চলে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য। অর্থাৎ ইসলামের পথে না চলার একটা পরিনতি হলো জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। তাই একজন অলস মুসলিম ব্যক্তি এই ভয়াবহ পরিনতির কথা ভাবলেই কোনভাবে সে ইবাদাত না করে থাকতে পারবেনা।

 

৭। হাতে কলমে কাজের পরিকল্পনার রুপদান করুন

স্মার্ট এবং সফল ব্যক্তিদের একটি বিশেষ দিক হলো তারা যেকোন কাজের পূর্বে হাতে কলমে সেটার পরিকল্পনার ছক আঁকেন। যা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে একজন ব্যক্তিকে অলসতা কাটিয়ে সবসময় কাজের দিকে মনোযোগি রাখতে সহায়তা করে। আর কাজ/লক্ষ্য/উদ্দেশ্যের দিকে ফোকাস থাকা কোন ব্যক্তিকে অলসতা স্পর্শ করার সুযোগও পায় না।

 

৮। প্রত্যেক কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করুন

নির্দিষ্ট সময়সীমা (Deadline) ছাড়া কখনই কোন কাজ শুরু করবেন না। যা আপনাকে অলসতা -কে ডেকে আনতে উৎসাহিত করবে। দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটি কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ করুন। আর সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ, আপনি যখন একটি কাজ অফুরন্ত সময় নিয়ে শুরু করবেন এবং নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা না থাকায় কাজ শেষ করার কোন তাগিদ পাবেন না। তখন আপনার মাঝে অলসতা হাতছানি দিবে। আর কাজ থেকে আবারো মনোযোগ হারিয়ে ফেলবেন। তাই ছোট বড় সব কাজের ডেডলাইন বা সময়সীমা ঠিক করে নিয়ে কাজ করুন।

Topics:

অলসতায় আটকে আছেন? জেনে নিন অলসতা দূর করার ৮ উপায়

Login to comment login

Latest Jobs