Posted By

নিরভিমান নিরবতা

Career 152

গরীবকে তো করুণা - দয়া করা যায় ভালোবাসা যায় না...!!

১.

অভি ক্লাসের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলো । আজ সে ফেল করেছে । নিরব নিরালায় বসে আছে । তারিখটা ১৪ । ঠিক কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে গল্পে মেতে আছে পুষ্পা । আশার তুলনায় ভালো রেজাল্ট করেছে । একটু আগেই পুষ্পার ফোনে মেসেজ এসেছে তপুর,, ওই মফস্বল শহরতলির রাতের চেনা ছেলে সে । মেসেজ পড়ে খুশিই ছিলো পুষ্পা । কাল যেন কোথায় যেতে হবে।১৬ তারিখে পুষ্পাকে আর আগের মতো খুঁজে পায়নি অভি । ঘোমটা পরা ঘরের বউ ছিলো সে । অভি তখনো H.S.C. তে ফেল করা ছাত্র, ফেল করার মাত্র ২ দিন হলো ।

...........

২.

আজ ঠিক ১৪ তারিখ  তবে পুষ্পাকে ভুলতে চেষ্টা করা অভির H.S.C. পাশ হয়ে ভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরে এখন চাকরি আর ব্যাবসার ক্যাম্পাসে । ৪-৫ বছর চলে গেছে।। আজও সময়ের ফাঁকেফাঁকে অভির দুঃসময়েরা উকি দেয় । অভি তবুও ভুলে থাকে মনকে আড়াল করে । আজ তার ব্যাবসা প্রতিষ্টানে প্রথম কোনো বড় অনুষ্টান করা হচ্ছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্টান হওয়ার সুবাদে ।

সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ দেশের গনমান্য ব্যাক্তি উপস্থিত থাকবেন । ফুল হাতে নিয়ে আনমনে দেখছে সে । কলেজের প্রথম ক্লাসটার কথা ভীষণ মনে পড়ছে । সেদিনও তার হাতে কয়টা ফুল ছিলো । তবে চেয়ারে নয় সে বসে ছিলো মাঝসারিতে থাকা একটি বেঞ্চে । পুষ্পা কে প্রথম খুব কাছ থেকে দেখেছিলো সেদিন । কয়েকটা ফুলও ওর মাথায় ঢিল মেরে ছুড়ে ছিলো। ও চায়নি একবারও,, সেদিন আর পিছুলাগা ছ-মাস । একাই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছিলো অভি । ফেসবুক বা ক্লাস, অভির কথা বা চাহনি, শুধু-শুধু হারিয়ে গেছে ।  একবারও চোখ তুলে তাকায়নি, বুঝে নি অভিকে,, এমনকি মানুষ হিসেবেও।। 

৩.

এসব ভেবে ভেবেই অনুষ্টান শুরু হয়ে গেছে কবেই, অভির খেয়াল হয়নি সে দিকে।

চোখ টা একবার তুলে সামনে তাকায় সে, অতীত আর বর্তমান ঘুলিয়ে যায় তার...

 একটা মেয়ে তাকিয়ে আছে অভির দিকে..। ওর প্রাইভেট সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারে মেয়েটা তার প্রতিষ্টানের কর্মচারী । বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই । তবে স্বামী আর কাছে নেই এখন । বিয়ের কয়েক মাস পরই ছাড়াছাড়ি হয়েছে , স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে,, এভাবে আরও কয়েকটা । তার কিছুদিন পরই স্বামী মারা যায় তবে সে তখন তার স্বামী ছিলনা,, I.S. এর জেহাদী । 

পালিয়ে বিয়ে করেছিলো,আজ সে একা একটা টিনশেডের বাসায় থাকে । প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনা যায় ওর মাথায়ও কিছু সমস্যা আছে । অনেক কষ্টে অভির প্রতিষ্টানে চাকরি পেয়েছে । নেহাত অভি ভালোমানুষ বলে ।এই কথাগুলো অভিকে বলছিলো ওর প্রাইভেট সহকারী ।

অনুষ্টান শেষে কিছু কর্মচারীর সাথে মেয়েটা অভি আর প্রধান অতিথিকে ফুলের মালা পরায়। মেয়েটার চোখে এক অদ্ভুত চাহনি ছিলো,, তাকিয়ে ছিলো অভির দিকে সারাক্ষণ । অভি প্রথম কোনো মেয়ের বিষয়ে এতটা খেয়াল করল ।

৪. 

কিন্তু কাল আর অভিকে দেখা যায় নি অফিসে শুনা গেছে সে আমেরিকা চলে গেছে সেদিনই।।

অফিসের কেউ যেন বলেছে সে অভিকে একটা ডায়েরী পড়তে দেখেছে, যেটি ওই মেয়েটার ব্যাগ থেকে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলো । কিছু ছেড়া পাতাও পেয়েছে লোকটা । কোনো রকমে জোড়া দিয়ে একটার অর্থ পাওয়া যায় । লেখা ছিলো  : " অতীত কি ফেরানো যায় না ? অভির চাহনি কি ফেরানো যাবে না ? " তারিখটা ছিড়ে গেছে একটা নাম আছে আরেক ছেঁড়া পাতায়, পুষ্পা । 

হ্যা এই মেয়েটাই অভির অতীতের কিছু কাটাকুটি আর অসমাপ্তিজ্ঞাপক পুষ্পা । আর ওর স্বামী সেই তপু। এককালে যার সাথে সারারাত চ্যাটিং করে রাত কাটতো পুষ্পার ।

বিয়ের পর আজ একেলা সে । অভিকে এখন বুঝে সে, আড়াল থেকে তাকিয়ে দেখতো অভি অনেক বদলে গেছে তবুও কিছু রয়ে গেছে অতীতে ।

অভি নেই তবুও অতীত রয়ে গেছে পুষ্পার কাছে । শত বারণেও যে তাকিয়ে থাকতো তার দিকে  ।

অতীত তবুও ফেরানো যায় না,,,,

কাটাছেড়া এই জীবনে সে আবার ফিরে যেতে চায় সেই কলেজ জীবনে । কিন্তু অভি আর যেতে চায় না তার অতীতে,সেখানে তো শুধুই ভুল আর ভুল,, যেখানে সে সে পায়নি এতটুকুও সুখ  ।

আর এজন্যই সে চলে যায় অজান্তেই সবার ভবিষ্যৎএ । সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায় সে ...

৫.

সমাপ্তি কি এখানেই..? জানালার কাছে বসে ভাবছে পুষ্পা । বৃষ্টির ফোটা এসে পড়ছে টেবিলে । তার সাথে একফোঁটা নুনা জল ।

টেবিলের ধুলো সব হারিয়ে যাচ্ছে জলের ফোটায় । জলে ভেজানো চোখ থেকে টুপ করে নিঃশব্দেই কি যেন পড়ে  । তারই ঝাপশা কাচের মতো পর্দায় সে অনেক কিছু দেখে....

পূজোর দিনে নামাজ পড়ার সময় চোখে পড়েছিলো অভির দিকে, সবে মাত্র মন্ডপ থেকে ঘুরে এসে এইরকম এক বৃষ্টির দিনে ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিলো বাড়ির দিকে ।

বৃষ্টিতে অভির কপালের ওই আবির গুলো রঙ্গিন হয়ে সারা শরীর মেখে গিয়েছিলো ... আজকের মতো সেদিনও জানালার ফাক দিয়ে দৃশ্যটা দেখছিলো । অভি পাগলটাকে কেমন যেনো ভালো লাগতো ওর পাগলামিতে । তাতে কি ?

গরীবকে তো করুণা - দয়া করা যায় ভালোবাসা যায় না,, আর আরেকদিকে ও ছিলো তার চাচার মতে কাফের । তার বাবা-চাচাও আর এ জমিনে নেই বেহেস্তে চলে গেছেন অনেক আগেই । আর পুষ্পা এখন দিন গুনছে বেহেস্তে যাওয়ার,, কথিত সেই স্বর্গ বা বেহেস্তে নয় যেখানে সে নতুন করে পাবে অতীত আর অভিকে, যেখানে থাকবেনা কোনো কাটকুটি । ..................

 

এরকম আরও গল্প পেতে এখানে click করুন ....

আমার ফেসবুক পেজে গিয়ে এরকম ভালো Status পেতে  এখানে click করুন

আমার সাথে সরাসরি ফেসবুকে সঙ্গযুক্ত হতে click এখানে  করুন

Topics:

নিরভিমান নিরবতা

Login to comment login

Latest Jobs