প্রকৃতির নিরব ঘাতক পার্থেনিয়াম ঘাস,একটু অসচেতনতার জন্য আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে!

Health 491

পার্থেনিয়াম আগাছা, যার ইংরেজি নাম কংগ্রেস ঘাস এবং বৈজ্ঞানিক নাম Parthenium Hysterophorus যা অ্যাসটেরিয়েসি পরিবারের সদস্য যাকে ফেমিন উইডও বলা যায়। এটি এমন একটি বিষাক্ত আগাছা যা উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলেরর জন্য ক্ষতিকর। বর্ষাকালে সর্বত্র এটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, রাস্তাসহ মাঠ ঘাটে সর্বত্র বিরাজ করে। মূলত মেক্সিকোতে এর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে  ছড়িয়ে পড়েছে।

 

কীভাবে পার্থেনিয়াম মৃত্যুর কারণ হতে পারে! 

Sesquiterpene Lactones নামক এক প্রকার টক্সিন বিষ পার্থেনিয়াম নামক ঘাস বা আগাছাতে রয়েছে যা মানুষ ও প্রাণীদের ক্ষতি করে।পার্থেনিয়ামের পরাগরেণুর সংস্পর্শে মানুষের চর্মরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ হয় যা অনেকেই জানে না এর ফলে ঘাস ভেবে বা এর ফুল ছিড়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফিভার, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ত্বকে কালো দাগ, চোখের চারদিকে ফুসকুড়ি ইত্যাদি পার্থেনিয়ামের কারণে হচ্ছে। অনেকেই আমরা পার্থেনিয়ামকে ঘাস ভেবে গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছি, যার কারণে পশু বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়েরিয়া, অ্যালোপেসিয়া, চর্মরোগ, যকৃত ও বৃক্কের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ও দুধ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া গবাদিপশুর দুধের স্বাদ তেতো হয়ে যাচ্ছে,গুণগত মান কমে যাচ্ছে। তাই এসকল পশুর দুধ ও মাংস ভক্ষণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর যা খেলে মানুষের এজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয় যা প্রাণহানির কারণ। পশু চরানোর স্থানে পার্থেনিয়াম থাকলে পশুর তীব্র জ্বর, বদহজম, শরীর ফুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। 

পার্থনিয়াম অনেকটা হাইব্রিড ধান গাছের মতো দেখতে এবং এর পাতা গাজরের পাতার মতো। এর ফুল ফুলকপির মতো গোলাকার, সাদা আঠালো এবং এটা পিচ্ছিল হয়ে থাকে। একটি গাছ থেকে ৪-২৫ হাজার পর্যন্ত বীজ হয় এবং এ ক্ষুদ্র ক্ষদ্র বীজ বায়ু ও পানি সেচের মাধ্যমে ছড়ায় এমনকি জুতার কাদার সাথে, গাড়ির চাকা,গরুর গোবরের সাথে মিশে বংশবিস্তার করতে পারে। একটি গাছ ১ থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয় এবং তিন থেকে চার মাস বাঁচে এবং এরই মধ্যে দুই থেকে তিনবার বীজ উৎপাদন করে। এটা মানুষের শরীরে লাগলে প্রথমত সে স্থান চুলকায় ও লাল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

যে সকল জমিতে পার্থেনিয়াম আগাছা থাকে সে সকল জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমে যায়। তাছাড়া ফসলের বৃদ্ধি হ্রাস করিয়ে দেয় যার কারণে ফলন কমে যায়। বিভিন্ন শাকসবজিতে ও খাদ্যশস্যে এর বীজ লেগে থাকলছে ফলে সেগুলো খাওয়ার মাধ্যমেও মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এ গাছের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত সমস্ত অংশই ক্ষতিকর। ভুট্টা, ধান, ছোলা, গম ইত্যাদিতে এ আগাছা বীজের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি কমিয়ে ফলন কমিয়ে দেয়। পার্থেনিয়াম উদ্ভিদের সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিকায় বাঁধা সৃষ্টি করে উদ্ভিদের কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্রহণে বাঁধা দেয়ার মাধ্যমে। পার্থেনিয়ামের কু প্রভাব সাধারণ অবস্থায় যতটুকু ভাবা হয় তার চেয়ে ব্যাপকতর। এটি ভাইরাস ছড়ায়। 

পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাবের সাথে সামান্যতম উপকার রয়েছে। আমাশয়, বদহজম প্রচন্ড জ্বর, টিউমার, ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরিতে পার্থেনিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও এর উপকারিতার চেয়ে অপকারিতা অনেক বেশি। পার্থেনিয়ামের এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে যেমন নিজেদের সচেতন হতে হবে তেমনই অন্যদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে এর বিষাক্ততা সম্পর্কে অন্যদেরকে জানিয়ে। পার্থেনিয়াম থেকে রক্ষা পেতে হলে এটা ধ্বংস করে ফেলতে হবে ও পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

 

Topics:

প্রকৃতির নিরব ঘাতক পার্থেনিয়াম ঘাস,একটু অসচেতনতার জন্য আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে!

Login to comment Login

You're not logged-in.

Login  — or —  Create Account
Latest Jobs

ক্লোজউই বাংলাদেশে তৈরি