Posted By

অসুখী মানুষের বাজে ৯ টি বৈশিষ্ট্য!

Career 95

সুখ এমনই একটা অনুভূতি যেটা পাওয়ার জন্য আমরা প্রতিদিন - প্রতিমুহূর্ত এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগ্রাম করে যাই। কিন্তু সুখের দেখা কি আমরা পাই? সুখ এমনই একটা জিনিস যেটা দেখা যায়না। আর সেকারনেই হয়ত সুখে থেকেও আমরা সুখের পিছনেই ছুটে বেড়াই। তাই সুখকে সংজ্ঞায়িত করতে আপনাকে হতে হবে একটু কৌশলী। যেমনঃ সুখী মানুষের কোন নির্দিষ্ট বা ধরা বাধা ছকের বৈশিষ্ট না থাকলেও অসুখী মানুষের আছে উল্লেখযোগ্য কিছু বাজে অভ্যাস। আর এই বাজে অভ্যাসগুলো আপনার মাঝে থাকা মানেই আপনি অবশ্যই সুখের ধারে কাছেও নেই, অসুখীদের দলেরই একজন আপনি!

চলুন জেনে নিই এমন উল্লেখযোগ্য কিছু বাজে অভ্যাস বা বৈশিষ্ট্য যেগুলো মূলত সকল অসুখী মানুষের মাঝেই দেখা যায়ঃ

ভাগ্যের আশায় বসে থাকা

ভাগ্য বলে কিছু থাকলেও সেটার অনেকাংশই আমাদের হাতেই থাকে। অর্থাৎ আমাদের কর্মের ফলই হল ভাগ্য। তাই আপনার ভাগ্যে কি থাকবে সেটা নির্ধারণ আপনার হাতে না থাকলেও নিয়ন্ত্রনের চাবিটা আপনার হাতেই। কিন্তু অসুখী মানুষের মারাত্মক একটি বাজে অভ্যাস হলো, ভাগ্যের আশায় তাঁরা বসে থাকেন। এমনকি বসে থেকেও তাঁরা ভালো কিছুরই প্রত্যাশা করেন। কিন্ত, ইতিবাচক ভবিষ্যতের জন্য যে কাজ করতে হয়, এই চিরন্তন সত্য জানা স্বত্বেও তারা নির্বিকার থাকেন। আর যার পরিণাম বরাবরই খারাপই হয়ে থাকে।

অর্থের নেশায় বিভোর থাকা

একজন মানুষ তার মৌলিক চাহিদাকে এড়িয়ে কখনই সুখী হতে পারেনা। আর সেই মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর একমাত্র উপাদান হলো অর্থ। কিন্তু সুখী হতে অর্থের ব্যবহার করতে হবে নিয়ন্ত্রনের মাঝে থেকে। কারন একবার এই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললেই সারাজীবনের জন্য সুখ হয়ে যাবে অধরা একটা অনুভূতি। চলতি সময়ে অর্থকে সবচেয়ে বড় নেশাদ্রব্যের সাথে তুলনা করলেও ভুল হবেনা। তাই জীবন চালানোর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এই অর্থকে নিয়ন্ত্রনে থেকে ব্যবহার করতে না পারলে তা হয়ে যাবে অসুখী হওয়ার মূল কারণ। তাই অর্থের নেশায় কোনভাবেই বিভোর হবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশী সম্পদশালী মানুষরাই তাদের জীবনে অসুখী।

একা থাকার প্রবণতা

একাকীত্ব মানুষকে তিলে তিলে অসুখী করে তোলার পিছনে অনেক বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। আমরা সামাজিক জীব। সমাজে অন্যের সাথে মিলেমিশে চলাফেরার মধ্য দিয়েই আমাদের দৈনন্দিন জীবন কাঁটাতে হয়। আর এটাই স্বাভাবিক আচরন। কিন্ত যখন আপনি একাকীত্বকে আপন করে নিয়ে মানুষকে এড়িয়ে চলতে চাইবেন তখন থেকেই আপনার জীবন থেকে সুখ নামক অনুভূতি হারিয়ে যেতে শুরু করবে। আর পরিনামে তিলে তিলে আপনি হয়ে উঠবেন একজন অসুখী মানুষ। অসুখী ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই বেশী পছন্দ করে। কিন্ত একজন সামাজিক জীবের একাকী জীবনে সুখ কিছুতেই স্পর্শ করতে পারেনা।

হতাশাগ্রস্থ ভাবনা

একজন অসুখী মানুষের একটা অন্যতম বাজে অভ্যাস হলো হতাশগ্রস্থ মনোভাব। হতাশা কখনও আপনার দুঃখ - দুর্দশায় জর্জরিত জীবনের উন্নতি তো করেই না বরং তা আপনার উত্তোরনের চেষ্টাকেও বাঁধা দেয়। "আমার জীবন আমার নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেছে, আমার আর কিছু করার নেই" -- এ ধরনের মনোভাব প্রত্যেক অসুখী মানুষের একটা বড় নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য।

নেতিবাচক মনোভাব

অসুখী মানুষের জীবনের প্রত্যেকটি কাজের সিদ্ধান্তে লুকিয়ে থাকে নেতিবাচকতা। আর দুনিয়াতে নেতিবাচকতার মতো দুঃখের বিষয় খুব কমই আছে। আপনার মানসিক সুস্থতার জন্য চ্যালেঞ্জিং একটা সমস্যা হলো নেতিবাচকতা। 'না' বোধক ভাবনা গ্রাস করার ফলে আপনি কখনই সুখের দেখা পাবেন না।

দোষ দেয়ার প্রবনতা

প্রতিটি বিষয়ে এবং ব্যর্থতাতেই অন্যকে দোষ দেয়ার প্রবনতা অসুখী মানুষদের একটি বাজে বৈশিষ্ট্য। এর ফলে নিজের মাঝে যেমন মানসিক অশান্তি বিরাজ করে তেমনি অন্যের কাছেও আপনার ব্যক্তিত্বের খারাপ পরিচিতি প্রকাশ পায়। সবমিলিয়ে ক্ষতি আপনারই হয়! আপনি হয়ে উঠেন একজন অসুখী মানুষ।

সমস্যা সমাধানে অনিচ্ছা প্রকাশ

সুখী মানুষরা তাদের জীবনের প্রতিটি ত্রুটি বিচ্যুতি স্বীকার করে এবং তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেস্টা করে। কিন্ত অসুখী মানুষ সবসময় নিজের সমস্যা গুলো থেকে পালিয়ে বেড়াতে চায়। ফলে ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন তো হয়ই না বরং এসব ত্রুটি বিচ্যুতি এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সেগুলো ধীরে ধীরে রুপ নেয় বড় কোন সমস্যার।

উন্নতি সাধনের চেস্টা না করা

সর্বোপরি হাজারো কারনে, অসুখী মানুষের অবস্থা যে শোচনীয় হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্ত এই বাজে পরিস্থিতিতেও একজন অসুখী মানুষ কখনই তার অবস্থার উন্নতির চেস্টা করে না। বরং সে তাঁর চিরাচায়িত স্বভাবের কারনে ভাগ্যের আশাতেই বসে থাকে। আর এই একটি কারনই আপনাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসুখী বানিয়ে রাখার জন্য দায়ী। আপনার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেস্টা করুন সুখের পিছনে ছুটতে। চেস্টা করুন অসুখী থাকার কারনগুলো ছুঁড়ে ফেলার।

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা

অন্যের সুখী - অসুখী জীবনের দিকে আপনার দৃষ্টি যেতেই পারে। কিন্ত সেই জীবনের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজের জীবনকে বিষিয়ে তুলবেন না। আমরা সাধারনত অন্যের জীবনের সাথে নিজেদেরটা তুলনা করে ইতিবাচক ভাবনার চাইতে নেতিবাচক ভাবনাই বেশী ভাবি। আপনার চেয়ে কম সম্পদশালী হয়ে হয়ত একজন সুখে আছে। সেটা দেখুন, সেটা দেখে ভাবুন, আপনি সুখী আছেন। কিন্ত কখনই অন্যেরটার সাথে তুলনা করে হতাশ হবেন না। কারন, তুলনা মানুষকে আরো বেশি অসুখী করে তোলে।

Topics:

অসুখী মানুষের বাজে ৯ টি বৈশিষ্ট্য!

Login to comment login

Latest Jobs