Posted By

ইলেকট্রিক হোস পাইপের আতিঁপাতি

Education 13

আজকাল বহুবিধ কাজে হোস পাইপ ব্যবহৃত হচ্ছে। গাড়ী, মোটর সাইকেল, মেশিনারী, সাইকেল, রিক্সা, সি.এন.জি ইত্যাদি ধোয়ার কাজে হোস পাইপের অধিক ব্যবহার দেখা যায়। তবে এখন গৃহস্থালিসহ অফিসের যে কোনো পরিষ্কারের কাজে এটি ব্যবহার হচ্ছে।   

হোস পাইপ দিয়ে বাসা ও অফিস পরিস্কার কিংবা ফুল বাগানে খুব সহজে পানি ছিটানো যায়। বালতিতে করে পানি ছিটানোর বা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে হোস পাইপ। তবে এই হোস পাইপও আবার অনেক ধরনের রয়েছে। এবারের আয়োজন ইলেকট্রিক হোস পাইপ নিয়ে। নিচে ইলেকট্রিক হোস পাইপের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-     

হোস পাইপ ব্যবহারে পরিশ্রম ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হয়। আর ইলেকট্রিক হোস পাইপ ব্যবহার পদ্ধতিও সহজ। উন্নত মানের পিভিসি ও করভিটেড দিয়ে তৈরি করা হয় ইলেকট্রিক হোস পাইপ। এটি অত্যন্ত ফ্লেক্সিবল ও ওজনে হালকা। ঘরদোরের বৈদ্যুতিক তার নিরাপদ রাখার জন্য ইলেকট্রিক হোস পাইপের জুড়ি মেলা ভার।     

বর্তমানে ব্যাপকভাবে নানান ধরনের আধুনিক পাইপ ব্যবহৃত হলেও আগে এমনটা ছিল না। অতীতে মানুষ গাছের গুড়ি, লোহা, পাথর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি পাইপ ব্যবহার করতো। প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা মাটি ও খড় দিয়ে নির্মিত পাইপ সদৃশ এক ধরণের উপকরণ দিয়ে জলসেচ দিত।     

পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে সেচ ও পানি প্রবাহের প্রচলন শুরু হয়। তারও অনেক পরে আধুনিক পাইপ ব্যবহৃত হচ্ছে নানান কাজে। হোস পাইপের কারণে সহজেই পরিচ্ছন্নতার কাজ করা যাচ্ছে নির্দিধায়। আর ইলেকট্রিক হোস পাইপও মানুষের জীবনে অনেক ঝুঁকি হ্রাস করে দিয়েছে।    

ইলেকট্রিক হোস পাইপ:  উন্নত মানের পিভিসি ও করভিটেড দিয়ে তৈরি করা হয় ইলেকট্রিক হোস পাইপ। ইলেকট্রিক হোস পাইপের ভেতরের পৃষ্ঠ মসৃণ থাকে। সুবিধা মতো বর্ধন করা যায়। এটিকে যে কোনো দিকে ঘুরানো যায়। এটি ভাঙে না। এ হোস পাইপের মাধ্যমে রাসায়নিক উপাদান থেকে শুরু করে গ্যারেজ ও যন্ত্রপাতির তেলসহ যে তরল সঞ্চালন করা যায় সুরক্ষিতভাবে।     

ইলেকট্রিক হোস পাইপের বৈশিষ্ট;   

 ইলেকট্রিক হোস পাইপ নমনীয় ও বক্র করা যায়  

 এই পাইপ দামে সস্তা ও গুণমানে সেরা   

 ইলেকট্রিক হোস পাইপে জং বা মরিচা পড়ে না  

 ইলেকট্রিক হোস পাইপ উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ও অধিক নিরাপদ  

 ইলেকট্রিক হোস পাইপ প্রায় ৩০ বছর ব্যবহার উপযোগী   

 এই পাইপ স্বাভাবিক পাইপের চেয়ে ওজনে কম হয়    

ইলেকট্রিক হোস পাইপের উপযোগিতা:   

 ইলেকট্রিক হোস পাইপ ইলেট্রিক শক রোধ করে  

 তারের সাথে হোচট এড়াতে সহায়তা করে  

 শট সার্কিট রোধ করে  

 বৈদ্যুতিক ক্যাবলকে তাপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে   

 বৈদ্যুতিক ক্যাবলকে চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে   

 বৈদ্যুতিক ক্যাবলকে বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে   

 উন্নত মানের পিভিসি ও করভিটেড হওয়ায় অফিস, বাসা বা যে কোনো কমার্শিয়াল স্পেসে ইলেকট্রিক ওয়ারকে রাখে সুরক্ষিত  

 ইলেকট্রিক তারের কারণে যাতে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট না হয় সেই জন্য ইলেকট্রিক হোস পাইপ ব্যবহার করা হয়।   

 যন্ত্রচালিত ছেদক, যন্ত্র তৈরির ভবনে, বৈদ্যুতিক নিরোধক সুরক্ষায় সহায়তা করে 

 স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সহায়ক ইলেকট্রিক হোস পাইপ 

 পাবলিক ট্রাফিক সরঞ্জামে, বৈদ্যুতিক চারী এবং এয়ার কন্ডিশনার সরঞ্জামের সুরক্ষা করে ইলেকট্রিক হোস পাইপ   

বিভিন্ন কোম্পানির হোস পাইপ  বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক হোস পাইপ পাওয়া যায় আরএফএল এর। এই কোম্পানির যে কোনো পণ্যের মতো ইলেকট্রিক হোস পাইপও দেশে জনপ্রিয়। 

এছাড়া বিগুসহ বিভিন্ন কোম্পানির ইলেকট্রিক হোস পাইপ পাওয়া যায় দেশের বাজারে।    

কোথায় থেকে কিনবেন   

ইলেকট্রিক হোস পাইপ মূলত ফিট হিসেবে বিক্রি করা হয়। যে পাইপ যত চওড়া তার দামও ততো বেশি। পাইপ কতটুকু লম্বা কিনবেন তার উপর দাম নির্ভর করবে। বাজারে এ ধরনের পাইপ ফিট প্রতি ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে বিভিন্ন কোম্পানির ইলেকট্রিক হোস পাইপের দামের তারতম্য রয়েছে।  ইলেকট্রিক হোস পাইপ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ফিটিংস ও পাইপ শপগুলোতে পাওয়া যায়। পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় ইলেকট্রিক হোস পাইপ ও সাকার পাইপের খুচরা ও পাইকারী বেচাকেনা হয়। এটিই হার্ডওয়্যার সামগ্রীর সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার।       

সহজ উপায়ে অনলাইন থেকেও এ পাইপ কেনা যায়। দেশে অনেক অনলাইন শপিং বাজার রয়েছে। সেখানে থেকেও কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পাইপগুলো। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের হোস পাইপের কালেকশন রয়েছে অনলাইন বাজারে। অনলাইন থেকে অর্ডার করে আজই কিনে নিতে পারেন আপনার পছন্দের পাইপটি।     

দর দাম কেমন    

এক ইঞ্চির চেয়ে একটু কম অর্থাৎ ১০ ভাগের ৯ ভাগ ব্যাসের ইলেকট্রিক হোস পাইপ ৫ টাকা ফুট দরে বাজারে বিক্রি হয়। একই মানের সোয়া ইঞ্চি পাইপের দাম ১০ টাকা ফুট এবং ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ১৫ টাকা ফুট দরে বিক্রি হয়। দুই ধরণের কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে ইলেকট্রিক হোস পাইপ।      রকমফের ব্যবহার    

এটি সহজে বাঁকানো যায় বলে ফ্রি হোস পাইপ হিসেবে এর ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। একটা সময় ইলেকট্রিক হোস পাইপ বা সাকার পাইপ ছিল না। তখন সাধারণ রাবার পাইপ দিয়ে পানি সঞ্চালনের কাজ করা হতো। তবে এটি কোনভাবে বেঁকে গেলেই পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেত। তাই সার্বক্ষণিক পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটা যেন কোনভাবেই বাঁক না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হতো।      

দ্বিতীয় যে উপায় ছিলো সেটা হচ্ছে শক্ত পিভিসি প্লাস্টিক পাইপ। এটি দিয়ে পানি সঞ্চালন করতে হলে বাঁকগুলোতে ‘এলবো’ অথবা ‘টি’ ব্যবহার করতে হতো। তবে এলবো সংযুক্ত করার কাজটি বেশ ঝামেলাপূর্ণ এবং ফ্রি হোস পাইপ হিসেবে ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব ছিল।     

ইলেকট্রিক হোস পাইপ বা সাকার পাইপ আবিস্কারের পর পানি সঞ্চালনের এই ঝামেলা থেকে অনেকটাই মুক্তি পায় মানুষ। এছাড়া দেয়ালের ভেতরে ইলেকট্রিক ক্যাবল বসাতে যে সেন্টারিং করা হতো সেটা শক্ত প্লাস্টিক পাইপের সঙ্গে এলবো ও টি দিয়ে বসানো হতো। এখন সাকার পাইপ দিয়ে খুব সহজেই এই কাজটি করা যায়। ঢাকার যে ফ্লাইওভারগুলো বানানো হয়েছে সেখানে ইলেকট্রিক ক্যাবলগুলো সাকার পাইপের ভেতর দিয়েই বসানো হয়েছে।       

যেভাবে হলো পাইপের উদ্ভব      

ইতিহাস বলে ইংল্যান্ডের আগে রোমেও পাইপের প্রচলন ছিল। রোমানরা যখন বৃটিশদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল তখন রোমে পাইপ ব্যবহারের কলা কৌশলের প্রমাণ মেলে। সে সময়ে রোমানরা পাইপ ব্যবহারের কলা কৌশলে এগিয়ে ছিল।    

প্রবাহমান নালা ও খালে পানির ঘূর্ণায়মান পয়েন্টগুলোতে তারা পাইপের ব্যবহার করতো এবং জোয়ারে নদীর পানি প্লাবিত হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তো, সাধারণত এই পানি পাইপিং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়া হতো, যেখানে ঝরণা ও গোসলের সুবিধা রাখা হতো, সেখানে জনসাধারণ গোসল করতো।     

তবে সমাজের উচ্চশ্রেণীর মানুষের বাড়িতে সরাসরি পানি সরবরাহ করার সুবিধা ছিল। সেখান থেকেই পাইপের প্রচলন শুরু হয়। রোমানদের শাসনামলে পয়ঃনিষ্কাশনের অনেক উন্নতি সাধিত হয়। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নভাবে জীবনধারা শুরু হয়।     

৬ষ্ঠ শতাব্দিতে রোমানদের পতনের পর নর্দান আয়ারল্যান্ড, নর্দান জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডে বর্বরতা বাড়তে থাকে। ওই সময় ইংল্যান্ডের পয়ঃনিষ্কাশনের গোপন রহস্য প্রকাশিত হয়। সভ্যতা সকলের কাছে পরিচিত শব্দ হয়। সেনিটেশন ব্যবস্থা মৌলিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।     

মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের খ্রীস্টানদের শাসনামলে রোমানীয়দের নেয়া পানি দিয়ে গোসল করার সুবিধা বাতিল করা হয়। তবুও রোমানীয়রা গোপনে চুরি করে গোসল করতো। খোলা পানিতে গোসল করায় ব্ল্যাক প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে এক তৃতীয়াংশ রোমানীয় মারা যায়।     

ওই সময়ে বিশুদ্ব পানীয় জলের অভাব থাকায় অনেকে মদ ও বিয়ারকে পানীয় জল হিসেবে বেছে নেয়। ওই সময়ে শুধু উচ্চশ্রেণীর লোকেরা নিয়মিত গোসল করার সুযোগ পেতো। চলমান জলধারা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। এমনকি ধর্মীয় উপাসণালয়েও পানি পাওয়া দূষ্কর ছিল।     

মধ্যযুগে সুয়ারেজ ও ড্রেনেজের উন্নয়ন সাধিত হয়। নদী বা খাল থেকে পানি আনা সহজ ছিল না। তাই পানির সুবিধার জন্য খাল ও নদীর কাছে বাড়ি তৈরি করতো। এক সময় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটে ১৪৬০ সালে।    

ইংল্যান্ডে পাম্পের সাথে পাইপ লাগিয়ে শহরের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে পানি সরবরাহ করা শুরু হয়। ১৫৮৪ সালে ইংল্যান্ডের ডিবান রাজ্যের প্লেমাউথ শহরে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। জনগণ বিনামূল্যে পানি ব্যবহার করার সুযোগ পায়। তখন থেকেই ধীরে ধীরে পাইপের ব্যবহার শুরু হয়।     

এছাড়া ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে মানুষের ব্যবহারের জন্য বসন্ত ঋতুতে ২০ হাজার গ্যালন পানি আনা হয়। বর্তমানে পাইপ ব্যবহারে অতীতের অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে। তবে সঠিক সময় পাওয়া যায় না সবই অনুমান নির্ভর। নতুন নতুন অনেক পদ্ধতি আবিস্কার হয়ে বাতিল হয় আবার নতুন নতুন অনেক পদ্ধতি সংযোজিত হয় পানি সরবরাহের কাজে।     

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ  

মোবাইল: ০১৮১৩৯৬৫৯৭৮  

 

Topics: হোস পাইপ ইলেকট্রিক হোস পাইপ পাইপ পানির পাইপ পাইপের আদ্যেপান্তে

ইলেকট্রিক হোস পাইপের আতিঁপাতি

Login to comment login

Latest Jobs