বিশ্বরাজনীতির একশ বছর রিভিউ বই পার্ট-০২

Education 49

বিশ্বরাজনীতির একশ বছর তারেক শামসুর রহমান বুক রিভিউ পার্ট-০২

দ্বিতীয় অধ্যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

বিশ্ব ইতিহাসের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ একই প্লাটফর্মে এসে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যে যুদ্ধ সংঘটিত করেছিল সেটিই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয় ১৯১৪ সালের ২৮ই জুন এবং শেষ হয় ১৯১৮ সালের ১১ই  নভেম্বর। বলা হয়ে থাকে এই প্রথম কোনো যুদ্ধে বড় বড় কামান, ট্যাংক, ডুবোজাহাজ, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা এত ব্যাপক ছিল যে এর গত দেড়শ বছরের যুদ্ধে যত লোক মারা গিয়েছিল তার দ্বিগুন লোক মারা যায় এই যুদ্ধে এবং এটাও ঘটে সামরিক লোকের চেয়ে অসাময়িক লোক বেশি নিহত হয়েছিল। এ যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ ই জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ অার্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড এর নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে সার্বিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে। জার্মানি ও তুরস্ক অস্ট্রিয়ার সাথে সঙ্গ দিয়ে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট গঠন করে। অপরদিকে ফ্রান্স, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, রাশিয়া, জাপান মিত্র বন্ধনে অাবদ্ধ হয়। কেন্দ্রীয় শক্তিজোট পরাজিত হতে থাকল খোদ-অঞ্চলে নৌ বিদ্রোহ, জার্মানের টর্পেডোর অাঘাতে জাহাজ বিনষ্ট প্রভৃতির কারনে। পরাজয় অাঁচ করতে পেরে খোদ জার্মানি ১১ই নভেম্বর যুদ্ধ বিরতির ঘোষনা দেয়। এই যে মিত্র শক্তি এবং কেন্দ্রীয় শক্তি কি এমনি এমনি হয়ে গেল এর পিছনে কোনো কারন নেই। না, এর পেছনের ইতিহাস হলো ট্রিপল অাঁতাত, মৈত্রীশক্তি অাগের অধ্যায়ে অালোচিত হয়েছে তারপরও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারনগুলি হল: সামরিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, উগ্র জাতীয়তাবোধ, পরস্পর বিরোধী শক্তিজোট। <উগ্র জাতীয়তাবাদ:: উগ্র জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই দুই জোটের দুই দেশ জার্মানি ও ব্রিটেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় যার পরিনতি একটু হলেও বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত করে। <পরস্পর বিরোধী শক্তিজোট:: ত্রি-মৈত্রী শক্তি (জার্মানি, অস্ট্রিয়া,ইতালি) এবং ট্রিপল অাঁতাত(রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স) এদের মধ্যে জার্মানি মরক্কোর ব্যাপারে ওদের কাছে অবদস্ত হয় অপরদিকে রাশিয়া বলকান সংকটে ওদের কাছে অপদস্ত হয় যার খেশারত বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়। জার্মানি এত শক্তিশালী হওয়ার পরও কেন পরাজিত হল:: ১. চতুর্দিক থেকে অাক্রমনিত হয়েছিল। ২. এতে সেনা পরিচালনায় অসুবিধা দেখা দিয়েছিল। ৩. নৌ-পথে অর্থনৈতিক কাঠামোতে অাঘাত পেয়েছিল। ৪. এতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছিলো না। এ যুদ্ধের পরিনতি:  এ যুদ্ধে চারটি মহাশক্তি রাষ্ট্রের পতন ঘটে। অস্ট্রে-হাঙ্গেরীয়, তুরস্ক, রাশিয়া, জার্মানি। তাদের পতনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের তৃতীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের চরম পরিবর্তন সাধন করে। খোদ জার্মানিতে শুরু হয় গনতান্ত্রিক চর্চা। ইউরোপ পুনর্গঠিত হয়ে উগ্র-জাতীয়তাবাদী নীতিতে প্রবেশ করে  এবং জার্মানির শক্তিকে প্যারিস সম্মেলন ও ভার্সাই চুক্তিতে শামিল না করে খর্ব করা হয় যা অারেকটা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। যে উগ্রবাদের কারনে জার্মানি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেই উগ্রবাদের জন্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটায়। উল্লেখযোগ্য কিওয়ার্ডসমূহ: কেন্দ্রীয় শক্তিজোট, মিত্রশক্তি,নৌ-বিদ্রোহ, উগ্র-জাতীয়তাবাদ,প্যারিস সম্মেলন, ভার্সাই চুক্তি,  গনতান্ত্রিক চর্চা <তোফাজ্জাল হোসেন>

Topics:

বিশ্বরাজনীতির একশ বছর রিভিউ বই পার্ট-০২

Login to comment login

Latest Jobs