Posted By

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Fashion 16

২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। ৩০ লক্ষ বাঙালির তাজা রক্তে, ৩ লক্ষ মা-বোনের সমভ্রমহানি ও অগনিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ দুর্ভোগের বিনিময়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন-মহান স্বাধীনতা। ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে আলোচনার মাধ্যমে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে। পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার পরেই মূলত স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬৬ সালের ছয়দফা দাবী আদায়ের আন্দোলন, ৬৯ সালের গণআন্দোলন, ৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন, সব কিছুই সফল হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন করতে গিয়ে এই মহান নেতা বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ ১৮ বৎসর কারাগারে কাটিয়েছেন। এই ক্ষণজন্মা মহান নেতার জন্ম না হলে হয়তো পাকিস্তানের পুকা-খাওয়া (Mouth Eaten) মানচিত্রটা অক্ষতই রয়ে যেত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। এই ভাষণে- এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ভাষণে তিনি এও বলেন, তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবা। এই ভাষণের পরপরই দেশবাসী ইস্পাতদৃঢ় মনোবল নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়। সবার মুখে তখন একই শ্লোগান-বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। পিন্ডি-না-ঢাকা-- ঢাকা-ঢাকা। তখন তৎকালীন সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। এহেন অবস্থায় হঠাৎ করেই বর্বর পাক সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ রাতে ট্যাংক, মেশিনগান, কামান নিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তারা বাঙালি জাতি নিধন প্রক্রিয়া শুরু করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক গর্ভনর লেঃ জেনারেল টিক্কা খান ঘোষণা করেন- I want soil of East Pakistan not Bloody Bengali People. অর্থাৎ আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, অসভ্য বাঙালি নয়। এহেন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মতো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই লাঠি, দা, কুড়াল, খন্তি দিয়ে বর্বর পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করার চেষ্ঠা চালায়। পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ঘোষণা বাণীর শেষ বাক্যটি ছিলো- পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটি বাংলার মাটি হইতে বিতারিত না করা পর্যন্ত এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা লড়াই চালিয়ে যাও। জয় বাংলা। এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতা ২৭ মার্চ কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার একটি ঘোষণার সূত্র ধরে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচারণা চালায়। এরূপ প্রচারনার শ্লোগান হলো- স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া- লও সালাম-লও সালাম। প্রকৃতপক্ষে এরূপ জ্ঞানপাপিদেরকেই একালের মীর জাফর বলা হয়। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন যে, শেখ মুজিব বিচ্ছিন্নতাবাদী, সে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। He must not go unpunished. অর্থাৎ শাস্তি তাকে পেতেই হবে। জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষক হন, তাহলে ইয়াহিয়া খানের ভাষণে তার নামোল্লেখ নেই কেন? পাকিস্তানের লয়ালপুর কারাগারে স্থাপিত সামরিক আদালতে শেখ মুজিবের যে বিচার প্রক্রিয়া চলছিল তাতে প্রথম অভিযোগ ছিলো সে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং দেশটির নামকরণ করেছে বাংলাদেশ।

Topics:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Login to comment login

Latest Jobs