Posted By

প্রবন্ধ

Education 42

                                           দূর হোক হতাশা, ভালো থাকার প্রত্যাশা

                                                        ( ১ম  পর্ব )                                                

                                                 মোঃ তরুন হোসেন

 

মানুষকে মহান আল্লাহ তায়ালা অনেক সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞান, আত্মসম্মানবোধ ও বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে করেছেন পরিপূর্ণ। তবুও কিছু বাস্তবতা আমদের হতাশার মধ্যে ফেলে দেয়। বাস্তবতার জাঁতাকলে আজ মানুষ নির্মম ভাবে পিষ্ঠ। যান্ত্রিক জীবন আমাদের আনন্দ-বিনোদনের সময়টুকুও দখল করে নিয়েছে। জীবনের এই কঠিন যুদ্ধে কেউ হচ্ছেন বিজয়ী আবার কেউ পরাজিত। আর পরাজিত অনেকেই ডুবে যাচ্ছেন হতাশার সাগরে। শুধু কাজের ব্যাস্তাতা নয়, অনেক একাকিত্বের ভাবনায় হচ্ছেন হতাশ। শত কাজের ব্যাস্ততায় নিজেকে ভাবছেন একা, জড়পদার্থ। আবার অনেকে অকারণেই নিজেকে ছোট ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন। এর কোনটিই ঠিক নয়,ঝেড়ে ফেলুন হতাশা, স্বপনের পেছনে ধাওয়া করুন, গুটিয়ে নয় চুটিয়ে বাঁচুন। 

যে ব্যাক্তি যত বেশি হতাশ হবে,সে জীবনে তত বেশি পিছিয়ে যাবে। হতাশা শুধু  কষ্টই ডেকে আনে,কোন সাফল্য নয়, মানুষের ম্স্তিস্ক তার চিন্তা চেতনা আর আবেগের স্থান। ম্স্তিস্কই নিয়ন্ত্রন করে যাবতীয় মানসিক বিষয়। মস্তীতিস্কই রয়েছে অশংখ্য শিরা-উপশিরা আর  স্নায়ু। মন খারাপ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় স্নায়ুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি স্নায়ু অপর স্নায়ুকে প্রভাবিত করে, ফলে অপর স্নায়ু গুলো দুর্বল হয়ে যায়, এর ক্ষতির প্রভাব পড়ে অন্য অঙ্গগুলোর উপর। ফলে দেহ তার স্বাভাবিক কাজ কর্মের গতি হরিয়ে ফেলে।আর এই নেতিবাচক প্রভব পড়ে তার  চুলের উপর।  অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ  হলে ত্বক অকালেই বৃদ্ধ মানুষের মত দেখায়। দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো দুর্বল হওয়ার জন্য চুলও ঝরতে শুরু করে। হারিয়ে যায় চুলের ঔজ্জ্বল্যতা। ত্বকে সৃষ্টি হয় অজস্র ভাঁজ এবং বলিরেখা। দুশ্চিন্তা মানুষের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে দেহের রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরিনামে হৃৎপিন্ডের উপর চাপ পড়ে, হৃৎপিন্ড দুর্বল হয়ে যায়। এ জন্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে অনেকেরি হার্ট আ্যাটাক হয়। তাই ঝেড়ে ফেলুন হতাশা। জীবনকে ভাবতে শরু করুন নতুন করে। যেকোন বিপদে মনবল না হারিয়ে দ্বিগুন উৎসাহে কাজ করার সপথ নিন। কখনোই নিজেকে ছোট ভাববেন না। কোন ব্যাক্তি যখন প্রফুল− থাকে কাজ করার ক্ষমতা তখন তার বেশি থাকে। চলার পথে সুখের পিছু ধরে আসে কষ্ট-বেদনা। তাই বলে ভেঙে পরলে চলবে না। জীবনের দুঃখকে দেখতে হবে ইতি বাচক দৃষ্টিতে। একটি গানে শুনেছিলামঃ- 

 “ দুঃখের সাগর ভেঙে পথ যেতে হয়   

নয়তো জীবনে কোন আসে না বিজয়”।

আমাদের দেশে দুঃখ-দুর্দশা প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। তা ছাড়া যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক তীব্র সঙ্কট।   সব মিলে হতাশার যথেষ্ট উপকরণ আমাদের চারপাশে ছরিয়ে রয়েছে। তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। সম্ভাবনাগুলো খুঁজেবের করে আনতে হবে। তাই গানের ভাষায় বলতে হয়- 

 “হতাশ কেন বন্ধু তুমি বরং শপথ নাও 

 আনতে বিজয় কন্ঠে তোমার বিপ্লবী গান গাও।”        

দুঃখের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে সুখ। নিজে সুস্থ থাকুন, আসেপাশের সবাইকে সুখী করার চেষ্টা করুন। আপনার সামান্য মনোযগ, সামান্য সচেতনতাই চারপাশের পরিবেশকে করে তুলবে আরও বেশি সুন্দর। বাড়িয়ে তুলুন সবার সাথে আপনার মানসিক যোগাযগ। এতে দূর হবে একাকিত্ব, শত ব্যাস্তাতার মধ্যেও আপনি অনুভব করেবেন বন্ধুত্বের পরশ।  

Topics: মন ভালো করার টিপস কীভাবে হতাশা দূর করবেন হতাশা থেকে বাঁচার উপায় দূস্চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় মন ভালো রাখার উপায়

প্রবন্ধ

Login to comment login

Latest Jobs