ছেলে বেলার পাখি

Beauty 1

ছোটবেলায় কত রকম পাখির বাসা দেখেছি। তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা,বাশ গাছে বকের বাসা,ডোবায় ডাহুকের বাসা, ছোট নিচু গাচে টুনটুনির বাসা, কাকের বাসা সব গাছে,মাটির গর্তে মাছরাঙা, সুপারি গাছে টিয়াপাখি, মান্দার গাছে শালিক পাখি। এলাকার কোন গাছে কোন পাখি বাসা করেছে,কোন পাখি ডিম দিয়েছে,কোন পাখির বাসায় বাচ্চা আছে মোটামুটি সব খবর থাকতো আমার কাছে।গোপনে গোপনে সবার ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকতো কোন পাখিরর বাচ্চা কে নেবে।এক এক পাখি ধরার পদ্ধতি এক এক।বক ধরার নিয়ম হলো বড়শির মধ্যে জ্যান্ত পুটিমাছ গেথে বড়শিটা ক্ষেতের পানিতে পুতে রাখা। বক খেতে আসলেই গলায় বড়শি আটকে যেতো। এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি হতো ফাঁদ।বাশের তৈরি ফাঁদ বাজারে কিনতে পাওয়া যেতো।টুনটুনি ধরার সহজ পদ্ধতি হলো বাসাটা চিনে রাখা।সন্ধ্যা হলে যখন টুনটুনি বাসায় ঢুকে তখন বাসাটা সহ ছিড়ে নিয়ে আসা।টিয়া পাখি ধরা সহজ না খুব একটা।আমাদের সময় থেকেই টিয়া অনেকটা বিলুপ্ত। টিয়া শুপারি গাছের গর্তে অনেক উপরে বাসা করে।বাসায় আছে এমন খরব পেলে বেতের কাটা নিয়ে হামলা করতাম। বেতার কাটা হলো লম্বা নাড়িকেল পাতার শলার মতো শুধু এতে কাটা থাকতো। কাটা বাসায় ঢুকিয়ে উপরের দিকে টান দিলে টিয়া কাটায় আটকে উপরে চলে আসতো।বাবুই ধরা অসম্ভব।বকের বাচ্চা ধরা তো বা হাতের খেল।বাশ গাছের মধ্যা বাসা থাকে। কাজ হলো গিয়ে শুধু নিয়ে আসা। সমস্যা একটাই। যদি সেই বাশঝারে কোনো কাকের বাসা থাকে তাহলে সেখানে যাওয়া অনেকটা যুদ্ধের মতো। কাকের বাসায় বাচ্চা থাকলে তার আসেপাশে অনেক কাক পাহাড়ায় থাকে।কেউ বাসার কাছে ঘেসলেই উপর থেকে নখ আর চঞ্চু দিয়ে হামলা হয়।একবার বকের বাচ্চা ভেবে কাকের বাচ্চা নিয়ে এসেছিলাম। পাখি ধরা দলের নেতা হিসেবে আমার অনেক গুপ্তচর ছিলো। যারা পাখির খবর এনে দিতো।একবার খবর আসলো বাড়ির পশ্চিম দিকের বাশঝাড়ে বকের বাচ্চা আছে। গেলাম দল নিয়ে বকের বাচ্চা আনতে। গিতে দেখি কাকের কা কা শুরু। সাথে হামলাও শুরু। ভাবলাম হয়তো এখানে কাকের বাসাও আছে। তাই তাড়াতাড়ি বাচ্চা নিয়ে দিলাম দৌড়। ভালো করে দেখিও নি কাকের বাচ্চা নাকি বকের। বাচ্চার পালক ঠিক মতো গজায়নি।তাই বুঝা যায়নি কাক নাকি বক।বাড়িতে এসে ঠোটের দিকে তাকিয়ে দেখি কালো ঠোট।একটা ব্যার্থ কমান্ডো অভিযান। শেষ পাখি ধরেছিলাম ক্লাস ফোরে থাকতে। খবর এসেছে ছাড়াবাড়ির একটা সুপাড়ি গাছে টিয়ার পরিত্যাক্ত বাসায় একটা শালিক পাখি বাসা করেছে।বাচ্চাও আছে। গেলাম ছাড়াবাড়িতে। গাছে উঠলাম। গর্তে হাত দিয়ে একমুঠে ৪ টা বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম। দলের সবাই গোল হয়ে বসলাম।মাঝখানে বাচ্চাগুলো।আমার মনে হতে লাগলো আমরা কতো খারাপ। এই ছোট বাচ্চাগুলোকে বাসা থেকে নিয়ে এসেছি।এদের মা যখন বাসায় এসে দেখবে তখন কত কষ্ট পাবে। আমি দাড়ালাম। নেতা হিসেবে সবাইকে আমার মনের কথা জানালাম। সবাই আমার সাথে সহমত প্রকাশ করলো। আমার গিয়ে বাচ্চা দিয়ে আসলাম। সেদিন কেমন একটা শান্তি অনুভব করেছি মনে। মনে হচ্ছিলো অনেক বড় একটা পূন্য করে আসলাম। তার পর থেকে আমি আরআর পাখি ধরি নি।এমন ছোট ছোট অনেক গল্পে সাজানো ছিলো আমার শৈশব।সৃতিগুলো প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়।

Topics:

ছেলে বেলার পাখি

Login to comment login

Latest Jobs