Posted By

অর্থ সঞ্চয়ের জন্য লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রনের কিছু মোটিভেশনাল টিপস

Career 397

প্রবাদে আছে “আয় বুঝে ব্যয় করুন”। আপনি আপনার ব্যয় কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আপনার অর্থনৈতিক পরিবর্তন কখনই ঘটাতে পারবেন না। মানুষ স্বভাবতই সমাজে বিত্তশালি আর প্রতিপত্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সবাই চায় দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেতে। কখনই আপনি রাতারাতি বিত্তশালী হতে পারবেন না। কিন্তু বর্তমান সময়ে আপনি জীবন ধারাতে পরিবর্তন এনে সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন।

মানুষের আয় সীমিত। কিন্তু চাহিদাকে সেই সীমায় আটকে রাখা যায়নি। মানুষ কখনই তার আয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেনা। কারণ, চাহিদা আয়ের আনুপাতিক হার বাড়তেই থাকে।

মাসের শুরুতে যখন আপনি আপনার বেতন পেয়ে যান তখন আপনার মন ফুরফুরে থাকলেও মাসের শেষ সপ্তাহে গিয়ে ঠিক তার বিপরীত ঘটে। আপনার অদূরদর্শিতাই এর মূল কারন। আপনার অবচেতন মন লাগামছাড়া জীবন-যাপনে ঝুঁকে পড়ে। যার কারনে আপনি আপনার উপার্জিত অর্থকে সঠিকভাবে বণ্টন করতে পারেন না। আপনার শূন্য সঞ্চয় আর ঋণ ইঙ্গিত করে অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনে আপনি অভ্যস্ত। এই যদি হয় অবস্থা তবে লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আপনার জন্য রয়েছে ‘লাইফ স্টাইল’ নিয়ন্ত্রণের কিছু উপায় যা আপনার ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

১. অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

প্রথম কাজ হল, আপনার জীবন-ধারণ ও সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে বসবাস করতে ঠিক কতটুকু অর্থের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা। অর্থ উপার্জনের আগে ব্যয় নির্ধারণ করাটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। প্রত্যেকটি কাজের পেছনে লক্ষ্য থাকাটা বাঞ্ছনীয়। লক্ষ্য আপনার জীবনের সফলতারে রুপরেখা তৈরি করে দেয়।

২. বাস্তববাদী হোন

আপনার উপার্জনের লক্ষ্য নির্ধারণের সময় মনে রাখা অবশ্যই জরুরী যে আপনি বাস্তবতার সাথে কতটুকু মিল রাখতে পারছেন। আপনাকে বাস্তবতা বিচার-বিশ্লেষণ করে আপনার ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। অতএব আপনাকে বাস্তববাদী হতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে যে আপনি চাইলেই বিশ্বসেরা বিল গেটস কিংবা ওয়ারেন বাফেটের মত নিজের আয়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন না।
সমাজে কীভাবে আত্মপ্রকাশ করলে আপনি সর্বোচ্চ সম্মান পাবেন তা চিন্তা করুন। সর্বোচ্চ কতটুকু আয়ে আপনি আপনার চারপাশের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন সে ব্যপারে ভাবুন। আসল কথা হল, আপনাকে বাস্তবতায় বিশ্বাসী হতে হবে। সেই মোতাবেক আপনাকে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

৩. পরিকল্পনা তৈরি করুন

পরিকল্পনা একটি লক্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে সবাই জানেন। লক্ষ্য নির্ধারণের পরে কী কী উপায়ে সে লক্ষ্যে পোঁছা যায় তার যথাযথ খসড়া তৈরি করে ফেলুন। আপনি কী কী উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন সেগুলো খুঁজতে থাকুন।
প্রত্যেক অর্জনের মাঝে কতটুকু প্রাপ্য বিদ্যমান তা পরিকল্পনার দ্বারাই অনুমেয়। মাসের শুরুতেই পরিকল্পনা করে ফেলুন কীভাবে জীবন-যাপন করলে আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় করতে পারবেন। তা নাহলে আপনি টেরও পাবেন না কখন আপনার পকেট ফাঁকা হয়ে গেছে। আর বাস্তব সত্য হল এটাই যে, তখন দেখবেন আপনার নুনে-জলে এক করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৪. জীবন ধরণে পরিবর্তন আনুন

আপনার পরিকল্পনা মত কাজ করতে চাইলে আপনার জীবন-যাপনের ধরন বদলাতে হবে। মৌলিক অর্থাৎ যে জিনিসগুলোর আপনার সবার আগে প্রয়োজন সেদিকে প্রাধান্য দিতে হবে। এরপরে অন্যান্য চাহিদাগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয় পরিহার করতে হবে। মনে রাখবেন আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খরচ করতে হবে। হতে পারে আপনই আপনার কোনো অভ্যাসের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন যেটার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা আপনার জীবনে কম এবং যেটা আপনার অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে। আপনার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেই ‘লাইফ স্টাইল’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

৫. ধৈর্য্য ধারণ করুন

আপনার এই কর্মকাণ্ডে ‘ধৈর্য্য’ আপনাকে বাড়তি সহনশীলতার যোগান দিবে। ধৈর্য্য ধারণ করে আপনাকে আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে হবে। আপনই যদি এতো পরিকল্পনার পরেও অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করেতে থাকেন তবে লক্ষ্য অর্জনে আপনি ফলপ্রসু হবেন না। তাই সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

৬. আপনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবুন

আপনি আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণকারী। সবাই নিজেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। চোখ বন্ধ করে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন বর্তমানে আপনই কি করছেন এবং ভবিষ্যতে আপনি কি করতে চান। আপনি নিজেই নিজেকে সেই পথ চিনিয়ে দিতে পারবেন।
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সঞ্চয়ের দিকে মনোযোগী হোন। সঞ্চয় আপনাকে ভবিষ্যতে প্রেরণা ও সাহস যোগায়। আপনি কি ভবিষ্যতে একটি গাড়ি কিনতে চান? কিংবা পরিবারের জন্য একটি বাড়ি? তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই আপনাকে মিতব্যায়ী হতে হবে।

৭. অদৃশ্যমান চাপগুলো প্রতিহত করুন

আপনার পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু করেছেন, নিজের অতিরিক্ত ব্যয়গুলো কমিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু অতীত জীবনে আপনার অনিয়ন্ত্রিত জীবনের সঙ্গী, বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়দের জন্য চাপে থাকতে পারেন। তাঁরা আপনাকে অতীত জীবনে ফিরে যাবার জন্য প্ররোচিত করবে। এসব অদৃশ্য চাপগুলোকে কোনোমতেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। আর তা না পারলে আপনই কোনোদিন-ই আপনার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন না।

৮. আত্মবিশ্বাসী হোন

আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম নিয়ামক। নিজ মনে বিশ্বাস রাখুন যে আপনই শত বাঁধা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে আপনিও সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবেন। আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতেই হবে। নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন। আপনি তখনই নিজেকে পূর্ণসক্ষম মনে করতে পারবেন যখন আপনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হবেন। আত্মবিশ্বাসী হলে আপনি সফলতার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। কিন্তু কোনো কাজ সম্পর্কে যদি আপনার আত্মবিশ্বাসটুকু না থাকে তাহলে সেই কাজে সফল হবার সম্ভবনা ক্ষীণ।

৯. সফল ব্যক্তিদের কাছ থেকে অণুপ্রেরণা নিন

এ পৃথিবীতে এমন অনেকে আছেন যারা দারিদ্রতাকে জয় করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছেন। তাদের সেই পথ কখনই অনুকূলে ছিল না। তাদের জীবন সম্পর্কে জানুন। তাদের সেই কৌশলগুলোতে নজর দিন। তাদের জীবনের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করুন। দেখবেন এই প্রেরণায় আপনার লক্ষ্য অর্জনের বেগ আরও ত্বরান্বিত করেছে। আর মনে রাখবেন ‘মিতব্যয়িতা’ আর ‘কৃপণতা’ কিন্তু এক নয়।

Topics:

অর্থ সঞ্চয়ের জন্য লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রনের কিছু মোটিভেশনাল টিপস

Login to comment login

Latest Jobs