Posted by

মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সম্পর্কে জানুন।

Fashion 48

মংলা সমুদ্র বন্দরঃ

মংলা দক্ষিণ বাংলার বৃহত্তম বন্দর। ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অসামান্য সমাহার সুন্দরবনের কূল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর থেকে ১৩২ কিলোমিটার উজানে এবং খুলনা বিভাগীয় শহর থেকে মাত্র ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণে বাগেরহাট জেলার পশুর নদীর পূর্ব তীরে মংলা নালা ও পশুর নদীর মিলনস্থলে মংলা বন্দর অবস্থিত। ১৯৫০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার চালনাতে বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে একটি বিশেষজ্ঞ জরিপের পর বন্দরটি ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে বর্তমান স্থানে স্থানান্তররিত হয়। ১৯৭৬ সালে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর ও চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামকরণ করা হয়। সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে মংলা পোর্ট অথরিটি নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বন্দরটি। মংলা বন্দরটি চট্টগ্রাম বন্দরের ন্যায় আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কেননা এখানে পণ্য খালাসের দ্রুতগামীতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের রাজস্ব আয় ও জাহাজ আগমন বিগত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে (জুন-জানুয়ারি) মংলা সমুদ্র বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ১শ ৫৬ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। যা বিগত অর্থবছরের ঠিক একই সময় অর্থাৎ প্রথম সাত মাসে ছিল ১শ ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম সাত মাসে ২১ দশমিক ৮২ শতাংশ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে মংলা বন্দরে জাহাজ ভিড়েছে ৪৬৩টি। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের পরিসংখ্যান ছিল ৩৭৯টি। যা গত বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মংলা বন্দর দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়েছে ৫৮ দশমিক ৯৮ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মংলা বন্দর দিয়ে পণ্য উঠানামা হয়েছে ৪৫ দশমিক ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চলতি অর্থবছরে ২৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মংলা বন্দর এলাকায় ২০৫ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা ... ও পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ সমাপ্ত হলে মংলা বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া  পাশের দেশের সাথে কোস্টাল শিপিং এবং ভৌগোলিক কারণে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের ‘সেভেন সিষ্টার’ রাজ্যগুলোও মংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। এই কমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে আলোচ্য বন্দরের আরও উন্নয়ন এবং আধুনিকায়ন জরুরি। যা দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। 

 

পায়রা সমুদ্র বন্দরঃ

 দক্ষিণ বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর হলো পায়রা সমুদ্র বন্দর। এটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উজেলার রাবনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন আনধারমানিক নদী তীরবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া নামক স্থানে অবস্থিত যা যাত্রা শুরু করে ১৩ আগস্ট ২০১৬ সালে। খাল ও নদ-নদী বিধৌত উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চল বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত। তাই এখানে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য। কিন্তু সে তুলনায় গড়ে উঠেনি শিল্প কারখানা। তবে ‘পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরটি ২০২৩ সাল নাগাদ পরিপূর্ণভাবে চালু হলে এই অঞ্চলের সম্পদ সম্ভাবনার দ্বারা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। যেমন পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে। বিশেষ করে গার্মেন্টসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো তাদের শিপমেন্ট দ্রুত করার জন্য এই অঞ্চলে ফ্যাক্টরি স্থানান্তর করবে। অন্তত ৭ হাজার একর জমির উপর পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প রয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ওয়্যারহাউস, দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দুইটি কনটেইনার টার্মিনাল, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ড্রাই বাল্ক টার্মিনাল, একটি এলএনজি টার্মিনাল, একটি লিকুইড বাল্ক টার্মিনাল, কয়লা টার্মিনাল, অভ্যন্তরীন ফেরি টার্মিনাল, নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের জন্য শিপইয়ার্ড, ঘন্টায় ২৫০ টন পানি বিশুদ্ধকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বন্দর রেডিও কন্ট্রোল ষ্টেশন, ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নাবিকদের সংক্রামন ব্যাধি ছড়ানো প্রতিরোধ পোর্ট হেলথ সেন্টার। রাজস্ব শুল্ক পরিশোধের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা, সি অ্যান্ড এফ এজেন্সি, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার, পায়রা বন্দরের স্টাফদের সন্তানের শিক্ষার জন্য স্কুল কলেজ, স্বাস্থ্য সেবার জন্য হাসপাতাল, বন্দরের বাইরে রেলওয়ে টার্মিনাল (যার সংযোগ থাকবে বন্দরে) এবং পর্যটনের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশ এখানে বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতদ্ব্যতীত ‘ট্রানজিট সুবিধার আওতায় এই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত, নেপাল ও ভুটান। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মায়ানমার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর বিসি আই এমের প্রাণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে এটি যা দক্ষিণ বাংলার দারিদ্র দূরকরণের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম।

Topics:

মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর  সম্পর্কে জানুন।

Login to comment Login

You're not logged-in.

Login  — or —  Create Account
Latest Jobs

ক্লোজউই বাংলাদেশে তৈরি