Posted By

মহানায়ক উত্তম কুমার

Fashion 34

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমার (অরুন কুমার) ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহানগর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। সাতকরি চ্যাটার্জী ও চপলা দেবীর জ্যাষ্ঠ সন্তান ছিলেন উত্তম কুমার। সুবিখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দোপাধ্যায় ছিলেন তার কাকা। কলকাতার দক্ষিণ সুবর্ণ স্কুল হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বাণিজ্য বিভাগে অধ্যয়নের জন্য কলকাতায় ভর্তি হন। তিনি কলেজ জীবনের শিক্ষা সমাপ্তির পূর্বেই পারিবারিক প্রয়োজনে কলকাতা বন্দরে ক্লার্কের চাকুরীতে নিয়োজিত হন।

১৯৪১-১৯৮০ এই সময়ে তিনি সৌখিন নাট্যগোষ্ঠী ‘সুহৃদ সমাজ’ এ যুক্ত হন এবং কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৪৭ সালে ‘মায়ডোর’ চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের অভিষেক হয়, যদিও ‘মায়া ডোর’ চলচ্চিত্রটি অর্ধ-সমাপ্ত অবস্থায় পরিত্যাক্ত হয়। একটি কাকতালীয় ঘটনা হলো, সুচিত্রা সেনের অভিষেক হয় যে চলচ্চিত্রে সেটিও কোনদিন আলোর মুখ দেখতে পায়নি। নীতিন বোস পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রটিই উত্তম কুমার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। এটি ১৯৪৮ সালে মুক্তি পায়। তারপর উত্তম কুমার আরো চারটি ছবিতে অভিনয় করেন এবং প্রত্যেকটি ছবিই শুধু ফ্লপ নয় সুপার ফ্লপ করে। চলচ্চিত্র জগতে উত্তম কুমার ‘ফ্লপ মাষ্টার জেনারেল’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। একজন প্রযোজক উত্তম কুমার অভিনীত চলচ্চিত্র ফ্লপ করায়, রিক্ত নি:স্ব হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন। তখন তিনি চলচ্চিত্র জগৎ ছেড়ে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রথম স্ত্রী গৌরি চ্যাটার্জী  পরামর্শ দেন, যদি সুযোগ পাওয়া যায় তবে আর একবার চেষ্টা করে দেখো। এমনি সময় এম, পি স্টুডিওর ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য উত্তম চুক্তিবদ্ধ হন। উত্তম কুমার অভিনীত ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রটি ১৯৫১ সালে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি মোটামুটি ব্যবসায়ীক সফলতা পায়। এর পরই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে এবং উত্তম কুমার সানন্দে তা গ্রহণ করেন। ‘অগ্নিপরীক্ষা’ চলচ্চিত্রই হলো মহানায়কের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এটি মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালে। উত্তম সুচিত্রা অভিনীত ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গকারী ব্যবসা সফল একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র। বিভিন্ন পেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর ৬৫ সপ্তাহ একটানা প্রদর্শিত হয়। কোন পেক্ষগৃহ হতেই হাউজফুল সাইন বোর্ডটি নামাতে হয়নি। এরপর থেকে মহানায়ককে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলা চলচ্চিত্রে নবযুগের সূচনা করেন। উত্তম সুচিত্রা জুটিকে সর্বকালের সর্বজনপ্রিয় রোমান্টিক জুটি বলা হয়। রূপালি পর্দায় এই জুটির স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় ২০ বছর। উত্তম সুচিত্রা অভিনীত ৩০টি ছবির সব কয়টি সুপারহিট। পঞ্চাশ দশকে উত্তম সুচিত্রা অভিনীত চলচ্চিত্র- অগ্নি পরীক্ষা, শাপ-মোচন, সাগরিকা, শিল্পী, হারানো সুর-হলো বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সর্বজনপ্রিয় চলচ্চিত্র। এসকল কালজয়ী চলচ্চিত্র বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা এনে দেয়। উত্তম কুমার বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের নায়ক এবং চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বলা হয়ে থাকে নায়ক চলচ্চিত্রের কাহিনী মহানায়কের জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তিনি অনেকগুলো চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনাও করেন। উত্তম কুমার পরিচালিত ব্যাপক সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র হলো- শুধু একটি বছর এবং বন পলাশীর পদাবলি। তিনি আকাশবানী কলকাতা বেতার কেন্দ্রের একজন নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। তিনি এই বেতার কেন্দ্রে অনেক গান পরিবেশনা করেছেন। প্রথম স্ত্রী গৌরি দেবীর মৃত্যুর পর অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৪ বছর বয়সে এই মহানায়কের জীবনাবসান হয়। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে ততদিন এই মহানায়ক আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। 

Topics:

মহানায়ক উত্তম কুমার

Login to comment login

Latest Jobs