শিক্ষা ব্যবস্থায় ইউরোপ মুসলিমদের যা অনুকরণ করেছে

Education 5

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্রিটিশদের কারসাজি:বৃটিশরা আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছে দুইশত বছর। তারা  এ এ উপমহাদেশ  ছেড়েছে কিন্তু তাদের শাসনামলে যে ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করেছিল তার ফল ভোগ করছে মুসলিমরা। 1757 সালের 23 জুন পলাশীর আম্রবাগানে মীরজাফর বাহিনীর বিশ্বাস ঘাতকতার ফসল হিসেবে নবাব বাহিনী ইংরেজ দলের  নিকট পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। পরাধীনতার শিকল আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে অক্টোপাসের মতো বেঁধে ফেলে। দীর্ঘদিনের মুসলিম শিক্ষাকে পদদলিত প্রচলন করে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা। সেই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে সকল শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে, তা সংরক্ষণের বাহ্যিক পরিবর্তন ছাড়া ভিতরকার পরিবর্তনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।তারা  ধর্মীয় শিক্ষাউ থেকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান কে দুরে রাখার জন্য আমাদের দ্বীন ইসলামকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করতে সফলতা লাভ করেছিল নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আলিয়া মাদ্রাসার মাধ্যমে ।ইসলামকে দুই ভাগে ভাগ করে এভাবে যে, একভাগ পার্থিব কাজ কারবার এবং অন্যটা পরকালের কাজ কারবার করার জন্য। পরকালের কাজ-কারবারের সামাল দেবেন মাদ্রাসায় পড়ুয়া আলিমগণ, আর পার্থিব কাজকারবার সামাল দেবেন স্বয়ং ইংরেজিগণ, আর তাদেরকে সাহায্য করবেন স্কুল-কলেজে ইংরেজি শিক্ষিত বিদ্বানগণ। ফলে আমাদের ধর্ম থেকে বিজ্ঞান হয়ে  গেল বিচ্ছিন্ন।কোরআনের বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা রইল পড়ে। মুসলিমগণ  আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নির্ভরশীল হয়ে পরলো পাশ্চাত্যের উপরে। এভাবে ইংরেজরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের  সফল প্রয়াস চালিয়েছে। যেখানে কোরআন অনুসারীরা পিছিয়ে পড়েছে বিজ্ঞান চর্চা থেকে এবং এর মাধ্যমে মানুষ এ পর্যন্ত অনেকেই ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত হয়েছে যে, কুরআন ও হাদিসের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অথচ পৃথিবীতে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সৃষ্টির মূল উৎসই হচ্ছে মহান আল্লাহকে ঘিরে যার আরেকটি নাম "আল্ হাকিম" তথা মনোবৈজ্ঞানিক ।যিনি তাঁর  নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর নাযিল করেছেন বিজ্ঞানময় মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে। যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, 'কোরআন বিজ্ঞানময়' (সুরা ইয়াসিন:2) ইসমাইল আল-রাজি তার "তাওহীদ, চিন্তা ও জীবনের এর প্রভাব" নামক বইতে উল্লেখ করেছেন"God is not against science,God is the condition of science, not an enemy of science"  অর্থাৎ আল্লাহ বিজ্ঞানের বিরোধী নন, আল্লাহ হচ্ছেন বিজ্ঞানের শর্ত, তিনি বিজ্ঞানের শত্রু নন।( ইসলাম ও বিজ্ঞান- দৈনিক নয়াদিগন্ত 28/2/2012 আল আমিরি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন," ধর্মীয়  বিজ্ঞানের সাথে  প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের  কোন বিভেদ নেই"।( প্রযুক্তির জনকেরা পৃষ্ঠা- 231 )অতএব বিজ্ঞানকে ধর্ম থেকে আলাদা করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক-    এটা মুসলিমদের বুঝতে হবে।

 

 আসসালামু আলাইকুম

 সবাই ভাল থাকবেন

 খোদা হাফেজ।

Topics: শিক্ষাব্যবস্থা ইউরোপ মুসলিম কুরআন ইসলাম

শিক্ষা ব্যবস্থায় ইউরোপ মুসলিমদের যা অনুকরণ করেছে

Login to comment login

Latest Jobs