Posted By

যদি উল্টোটা ভেবে দেখতাম

Fashion 27

ইজতেমা চলাকালীন ওলামা পন্থী ভাইদের বক্তব্য পেলাম- তাদের ইজতিমায় নাকি স্মরণকালের সর্বোচ্চ জমায়েত হয়েছে। খবরটা শুনে একজন কওমি মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে পুলকিত  হয়েছি।

এরপর মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারীদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখি বিপরীত সংবাদ। তাদের মতে উলামায়ে কেরামের ইজতিমা ভয়াবহ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।  ইজতেমার ইতিহাসে নাকি এত স্বল্প উপস্থিতি আর দেখা যায়নি।

সবাই বলতে পারেন এসব ক্ষেত্রে দুরকম নিউজ আসাই তো স্বাভাবিক।  এমনই হওয়ার কথা, আজীবন এমনই চলে আসছে।  কিন্তু আমার কাছে এটা শুধু অস্বাভাবিকই নয়,  বরং দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। কারণ দুই দলের মধ্যে যতই বৈরীতা থাকুক, দ্বীনদার হিসেবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সততা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারী কামনা করতাম।  কিন্তু এখন আমি জানি একদল অবশ্যই মিথ্যা বলছে। দ্বীনের মুবাল্লীফদের এই মিথ্যাচার আমাকে খুব কষ্ট দেয়।  

যদি ওলামাদের ইজতিমাটি উপস্থিতির দিক থেকে ব্যর্থও হত এবং প্রতিটা মানুষের নিকট এই ব্যর্থতার নিউজ পেতাম।  তবু এত দুঃখ পেতাম না।  কারণ তখন এই সান্তনা থাকতো যে, বৈরিতা সত্ত্বেও আমরা উভয় দল সততার রাস্তা পরিত্যাগ করিনি।

ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলার সময় রান আউট নিয়ে ঝগড়া হতে দেখতাম, এক দলের সবার মনে হত আউট হয়েছে, আরেক দলের সবার মনে হত আউট হয়নি। তখন অবাক হতাম এই ভেবে যে, সবাই একসাথে ভুল দেখছে কেন?  বড় হয়ে আমার বিস্ময়  আরো বৃদ্ধি পেল, যখন দেখলাম দুজন মানুষের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পুরো দুইটি গ্রাম লড়াই করছে। এক গ্রামের সবার মনে হচ্ছে তাদের লোকটি নিরপরাধ, আরেক  গ্রামের সবার নিকট মনে হচ্ছে তাদের লোকটি, নিরপরাধ।  অপরাধী পাশের গ্রামের ব্যক্তি।  

আমাদের এই অন্ধত্ব, গোঁড়ামি ও মিথ্যুকতা শুধু ব্যক্তি ও সমাজে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দেশ মহাদেশ পেরিয়ে বৈশ্বিক হয়ে গেছে।  সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা সকল বাংলাদেশীদের নিকট বর্বরতা মনে হলেও ভারতীয় নাগরিকদের নিকট তা মনে হয় না।   এ ব্যাপারে তাদের বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ একটা কলাম পর্যন্ত লিখে না।  মুখের দুটো কথাও বলেনা।

মায়ানমারে গণহত্যা সংঘটিত হলো এই গণহত্যার হাজার হাজার স্পষ্ট প্রমাণাদি থাকার পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে গেলে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনে কয়েক দশক ধরে চলা জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়ে দেয়।  ভেটো প্রদানকারী দেশের নাগরিকগণও  এতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়না।

কেন সরকারের সব কাজে বিরোধীদল ভুল খুঁজে পায়? কেন সরকার দল ক্ষমতা হারানোর পর পূর্বের বিরোধী দলেরই অনুকরণ করে? কেন আমেরিকার কাছে যা ভাল মনে হয় তা চীন রাশিয়ার কাছে খারাপ মনে হয়? কেন আমার সন্তান, মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনকে নিরপরাধ মনে হয়? আর পরের সন্তান, মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনকে অপরাধী মনে হয়?

কারণ আমাদের মধ্যে সততা নেই, বিবেক নেই, আমরা মিথ্যা বলি। আমরা অপছন্দনীয় সত্যটাকে দেখতেই চাইনা। আমরা হেরে যাওয়ার ভয় করি, দল ও সমাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখাতে গিয়ে শরীয়তের হুকুমের প্রতি নিষ্ঠাই বাকী থাকে না।

পরিশিষ্ট :

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ

যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় চক্কর খাচ্ছে? (সূরাহ আনকাবুতঃ ৬১)

Topics: ধর্ম গোঁড়ামি

যদি উল্টোটা ভেবে দেখতাম

Login to comment login

Latest Jobs