Posted By

পরিবর্তন।

Fashion 121

প্রায় পাঁচ বছর পর রাসেলের ফোন এসেছে ইতির নাম্বারে। নাম্বারের শেষ ডিজিট দেখেই ইতি বুঝতে পারে এটা রাসেল ছাড়া অন্য কেউনা । প্রায়শই নাম্বার পরিবর্তন করলেও ইতি ঠিকই বুঝতে পারে কারন রাসেলের প্রত্যেকটা নাম্বারের শেষ তিনটা ডিজিট কখনওই পরিবর্তন হয়না।১১২ শেষ ডিজিট দেখেই ফোনটা সাইলেন্ট করে ওয়ারড্রবের উপরে ফেলে রাখে ইতি।এদিকে বারবার কল আসছে।আর ওদিকে নো এন্সার!ভাইবরেশন হচ্ছে আর ইতি রকিং চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে আরামে দুলছে। খুব শান্তি লাগে তার যখন রাসেল তাকে এভাবে কল দেয়। প্রায় একশত পনেরোটা মিসডকলের পর রিসিভ করে ইতি। হ্যালো!_কি হচ্ছে এসব? এতোবার কল দিতে হয় তোমাকে?না।_তাহলে রিসিভ করিসনি কেন কু*র বাচ্চা?তুমি কি বস্তির ছেলে? বস্তিতে জন্ম দিছে তোমাকে? এই তোমার বাপমায়ের ঠিক নেই?_মুখ সামলে কথা বলো। বেয়াদব কোথাকার।ওহ! আগে নিজে শিখো। তারপর নাহয় আমি মুখ সামলে কথা বলবো।ফোনটা কেটে দিয়ে রেখে দেয় রাসেল।এদিকে ইতিও ফোন হাতে নিয়ে চুপচাপ ফেসবুকিং করছে। হঠাৎ একটা মেসেজ!সরি, এমন ব্যবহার আশা করিনি।ছিঃ তুমি এমন?ইতি মেসেজ সীন করে আবার ফেসবুকিং করছে।কিছুক্ষণ পর আবার কল!?_তোমার সাহস খুব বেশি হয়ে গিয়েছে তাইনা?এটাতো আগে থেকেই ছিলো।নতুন কি দেখলা?_এই বেশি কথা বলবানা কিন্তু?কথা বলছি? হাউ ফানি ইউ আর রাসেল! আমি কথা বললে ফোন দিতাম। কিন্তু আমি কি ফোন দিয়েছি। তুমি দিয়েছো।কেন দিয়েছো বলো?_কেন দিয়েছি জানোনা?হুম্ম! যা বলছি সেগুলো শোনার জন্য।তাই শুনাচ্ছি।রাসেল কিছু না বলেই ফোনটা রেখে দিলো।ইতিও চুপচাপ ফোনটা রেখে ঘুমিয়ে পরলো।ইতি চোখ বন্ধ করে ভাবছে____রাসেলকে অনেক পাত্তা দিয়েছে। একসময় রাসেলের জন্য মরতেও রাজী ছিলো। শত কষ্টেও রাসেলের পাশে থাকতে চেয়েছিল। রাসেল একসময় পৃথিবী ছিল ইতির। কিন্তু এখন!এখন রাসেল নামের কেউ নেই ইতির জীবনে। সব অতীত। রাসেলকে আর গুরুত্ব দেয়না ইতি।ঐদিকে রাসেল ভাবছে:একসময় ইতিকে এতো কল দিতে হতোনা। সেই কল দিতো সময় করে। কতবার তার নাম্বার ব্লাকলিস্টে রেখেছে তার হিসাব নেই তার কাছে। এইতো কিছুদিন আগেও ইতি কল দিয়ে কতো কেঁদেছে। কত রিকুয়েস্ট করেছে রাসেলকে তার সাথে কথা বলতে কিন্তু রাসেল ইতিকে বকা দিয়ে ফোন রেখে দেয়। ইতির কান্না, কষ্ট কোনোটাই রাসেলের গায়ে লাগতোনা। একরকম বিরক্ত ছিলো সে ইতির উপর। ইতিতো রাসেলকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না। তবে এখন কি হয়েছে ইতির? কিভাবে বদলে গেলো ইতি? ইতি কি তবে নতুন কাউকে পেয়েছে?অনেক এলোমেলো ভাবনা রাসেলকে ঘুমাতে দিচ্ছেনা।সারারাত না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয় রাসেল। এদিকে ইতি নিশ্চিন্তে একটা শান্তির ঘুম দেয়।পরেরদিন সকালে:তুমি এখানে?_হুম্ম! জানতে এসেছি আমার অপরাধ কি?তোমার অপরাধ! হা হা হা রাসেল। বিয়ে করা অপরাধ নয়। তুমি তোমার ফরজ কাজ সম্পন্ন করেছো। কংগ্রাচুলেশনস।_আমি বলেছিনা, আমি বিয়ে করিনি। সত্যি বলছি।হুম্ম! আমিই মিথ্যা বলছি তাহলে। যাক সুখী হও তাহলে। আমাকে ডিস্টার্ব করবেনা রাসেল প্লিজ। আমি ভালো আছি।বলেই চলে যায় ইতি।ইতির চলে যাওয়া চুপ করে দেখছে রাসেল। বিশ্বাস হচ্ছেনা ইতির পরিবর্তন। এইতো কদিন আগেও ইতি রাসেলকে এভোয়েড করতে পারতোনা।রাসেল যতই যা করুক দিনশেষে ইতি সব ভুলে যেতো।কিন্তু আজ?ইতির এই অস্বাভাবিক ব্যবহার রাসেলকে খুব ভাবুক করে তুলেছে। কিভাবে পসিবল এটা? রাসেল ভেবেই যাচ্ছে। দিনের পর দিন ইতির অবহেলারপরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে।ইতি যতবেশি অবহেলা করছে রাসেল ততোই দূর্বল হচ্ছে তার প্রতি।অন্যদিকে ইতি আর রাসেল নামের মানুষটাকে দেখতেও চায়না তার আশেপাশে।আর রাসেল তার বিপরীতটা চায়!খুব বিরক্ত হয়ে রাসেল ইতিকে ফোন দেয়:একবারেই কল রিসিভ করে ইতি:কি করছো?_কাজের কথা বলো।খেয়েছো?_কেন?জানতে চাচ্ছি।_তোমার ওয়াইফকে জিজ্ঞেস করো। সওয়াব হবে।কতোবার বলবো আমি বিয়ে করিনি। কতবার?_আমি বলতে বলিনি। প্রমাণ চেয়েছি। দিতে পারবে?রাসেল চুপ করে শুনছে। প্রমাণের বেলায় আর কোনো কথা নেই।_মৌনতা সম্মতির লক্ষণ।বলেই ফোন রেখে দেয় ইতি।এদিকে রাসেল আর কিছু বলছেনা। টেনশনে টেনশনে কাটছে দিন।ইতিও চুপ।হঠাৎ একদিন ক্লাস শেষ করে কলেজের বাহিরে এসে দেখে রাসেল দাঁড়িয়ে আছে। ইতি রাসেলকে দেখে চুপ করে চলে যায়। কিন্তু রাসেল ইতিকে যেতে দিবেনা।প্লিজ!ইতি, যেওনা ইতি। প্লিজ!রাসেল আমার সময় নেই। তুমি চলে যাও।তুমি কি আমাকে ভালবাসো না ইতি?না।বিশ্বাস হয়না। তুমি কি আমাকে কখনওই ভালবাসোনি?মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। আগের কথা তুমি নিজেই ভেবে দেখো। প্লিজ নিজের বউকে সময় দাও।_তুমি বিশ্বাস করবেনা তাইনা?দেখো তোমার সামনেই আমি আমার হাত কাটছি। দেখে নাও। এই বলেই নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে রাসেল দিলো একটা টান। রক্ত গড়িয়ে পরছে।কিন্তু ইতির কিছুই বোধ হয়নি। দেখো ড্রামা করিওনা। বাই। আমার বাসায়যেতে হবে।ইতি! ইতি!পিছন থেকেই ডাকছে রাসেল। কিন্তু ইতির আর কোন ইচ্ছেই নেই রাসেলের কথা শোনবার।তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে ফিরে এসেই সোজা চলে যায় ফ্রেশ হতে। ফ্রেস হয়ে এসে নামাজ পড়ে দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম করছিলো এমন সময় তার ছোট বোন এসে বলে, "আপু রাসেল নামের তোমার এক বন্ধু এসেছে "।রাসেল নামের আমার কোনো বন্ধু নেই। ভুল এড্রেসে চলে এসেছে।যাও বিদায় দিয়ে আসো।ইতির বোনটাও তাই করলো। ফিরিয়ে দিলো রাসেলকে।রাসেল ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চলে আসে বাইরে।ইতির এরূপ ব্যবহার তাকে খুব প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রশ্নবিদ্ধ করে একি সেই ইতি যে রাসেলকে একবার দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতো?পাঁঁচবছরে এতো চেঞ্জ তার? রাসেলের কন্ঠ শোনার জন্য যে ইতি কাঁদতো আজ সেই রাসেলের ফোন রেখে দেয় বিরক্ত হয়? বিরক্তিবোধ করে?স্ট্রেঞ্জ!ইতিকে আবার কল দেয় রাসেল:কেনো করছো এমন? প্লিজ কাম ব্যাক ইতি।_গো টু হেল রাসেল। আমি আসবো না।তুমি কি আমাকে ভালবাসোনা ইতি?কখনোকি বাসোনি?_তা জেনে কি করবে রাসেল? তুমিতো লাইফপার্টনার খুঁজে নিয়েছো রাসেল। এখন কি আর বাকী আছে বলোআমি বিয়ে করিনি ইতি। বিলিভ মি!_প্রুফ আছে রাসেল। আর মিথ্যে বলিওনা প্লিজ!দীর্ঘক্ষণ তর্কেতর্কে রাসেল স্বীকার করে যে সে এর আগে বিয়ে করেছিলো। কিন্তু! এখন সে ডিভোর্সি।ইতির ভালবাসা খুব বেশি ফিল করেছিলো বিয়ের পর। তাই ফিরে এসেছে।ইতি সব কথা শুনে রিপ্লাই দেয়___থ্যাংকস রাসেল। তবে তুমি বিয়ে করার পর আমি বুঝতে পেরেছি মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। আমিও পরিবর্তিত হয়েছি। আর ভালবাসি না তোমাকে।তুমি অতীত ছিলে। তবে তার ছাপ বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতে আমি রাখতে চাইনা। বাই।আমাকে ডিস্টার্ব করবেনা রাসেল। খুব বিরক্ত লাগে আমার। তোমার মরামুখটাও আর দেখতে চাইনা আমি।রাসেল খুব কষ্ট পেয়ে ফোনটা রেখে দেয়। কিন্তু ইতি ভুল করেনি। একসময় ইতির আর্তনাদ রাসেল শুনেনি। ইতির কষ্ট রাসেল বুঝেনি। চিট করে চলে যাওয়ার সময় সে জানতো ইতির কেমন লাগবে তবুও সেদিকে খেয়াল করেনি। নিজের ভুলে অনুতপ্ত রাসেল ইতিকে আর বিরক্ত করেনি।ইতিও সেদিনের কথা খুব মিস করে যেদিন রাসেলের জন্য সব ছেড়ে বেড়িয়েছিলো কিন্তু রাসেল হাতটা ধরেনি। সে ইতিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।অতীতের কথা মনে করে ইতি চোখের জল ফেলে নীরবে। কিন্তু করার কিছু নেইসে এখন আর রাসেলকে ভালবাসেনা। বাবার পছন্দ করা ছেলেটাই বেস্ট যে ইতিকে সবসময় সব জেনে ভালবাসে। যে ইতিকে বিয়ে করবে কিছুদিনের মধ্যেই।ইতি নিজের জীবনে খুব হ্যাপি। রাসেল নামের এখন আর কেউ নেই তার জীবনে। অতীতে ভুল করেছিলো তবে বর্তমানে সেই ভুল আর ইতি রিপিট করতে চায়না।দীর্ঘদিন পর ইতি রাসেলের বন্ধু মেহেদীকে থ্যাংকস জানায়।মেহিদীর রিপ্লাই :ইটস ওকে। এটা আমার দায়িত্ব ছিলো। যা হওয়ার হয়েছে। সব ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাও ইতি। রাসেল বহু আগে বিয়ে করেছে। তোমার সাথে রিলেটেড থাকার পরেও সে বিয়ে করেছে। গেম খেলেছে।তোমার আরো আগে জানা উচিৎ ছিলো। কিন্তু তোমার সাথে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম ছিলোনা। তাই বলতে পারিনি। তবে এখন আর সেই ভয় নেই। ভালো থাকো। রাসেলকে ভুলে যাও। আবারো বলছি।_ভুলে গিয়েছি অনেক আগেই। নতুন জীবনের শুরু করতে যাচ্ছি। দাওয়াত থাকলো আগামীকাল অবশ্যই আসবেন।অবশ্যই!সুখী হও।পরেরদিন ইতির বিয়ে হলো ইমনের সাথেই। খুব সুখের সংসার গড়েছে দুজনে।ভালবাসার কমতি নেই সেখানে। যখন যেখানে খুশি বেড়াতে যায়। যখন যা খুশি তাই করে।রাসেলও জানে ইতি সুখের ঘর বেঁধেছে। শান্তিতে আছে। ইতি রাসেলকে আর মনে রাখেনি।রাসেল এখন ড্রিংকস করে। সারাদিন নিজের ভুলের শাস্তিতে নিজেই পুড়ে মরে। ইতি এগুলো শুনলেও আর রেসপন্স করেনা। যেন রাসেল অপরিচিত কেউ।একদিন সময় করে বেড়িয়েছে ইমনের সাথে পার্কে ইমনের সাথে একটু ঘুরবে বলে। কিন্তু রাস্তায় অনেক ভীড়। দূর থেকে ইতিকে দেখে কেউ একজন ছুটে আসছে।ইতি দেখেই চিনতে সে মেহেদী।ইতি! রাসেল এক্সিডেন্ট করেছে। তার কন্ডিশন ভালো নেই। তোমাকে একবারদেখতে চায়। প্লিজ চলো।_না, ভাইয়া।আমি আসি। বাই।বলেই সেখান থেকে ইমনের হাত ধরে চলে যায় ইতি। এরপর রাসেলের কি হয়েছেসে আজও জানেনা। জানার চেষ্টাও করেনি। ফ্রড কারো জন্য সময় ওয়েস্ট করার মুড নেই তার।ভালো আছে এবং ভালো থাকতে চায় ইমনকে নিয়ে। ইতি খুব কষ্টে পরিবর্তন করেছে নিজেকে। আর ফিরতে চায়না সেদিকে।

Topics:

পরিবর্তন।

Login to comment login

  • farid68
    02 Feb 2019   05:11 am
    ভাল লিখেছেন
Latest Jobs