Posted By

সর্প-দংশন থেকে বাঁচার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন।

Fashion 7

সর্প-দংশন কিভাবে এড়ানো যায়:

চিকিৎসা শাস্ত্রের বহুল প্রচলিত রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম কথাটি সর্প-দংশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই সর্প-দংশন প্রতিরোধ বা দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। 

১. সাপকে উত্ত্যক্ত বা আঘাত না করলে এবং সাপ নিজে ভয় না পেলে মানুষকে দংশন করে না । বরং মানুষকে দেখা মাত্রই সাপ পালাতে চায়।  হঠাৎ সাপ সামনে পড়লে কোনরূপ অস্থির না হয়ে বা ভয় না পেয়ে চুপচাপ (নড়াচড়া না করে) দাঁড়িয়ে থাকুন।  

২. বেশীর ভাগ সাপ (৮৫%) পায়ে দংশন করে। কাজেই, সাপ থাকতে পারে এমন জায়গায় হেঁটে চলাফেরার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা। 

৩.  বেশির ভাগ সাপই রাতে চলাফেরা করে। তাই রাতের অন্ধকারে হাঁটার সময় টর্চ বা হ্যারিকেন ও লাঠি দিয়ে মাটিতে শব্দ করে চলাফেরা করা। 

৪.  মাটির গর্তে এবং গাছের কোটর বা খোড়লে আলো দিয়ে ভালভাবে না দেখে হাত দিবেন না।  

৫.  ঝোপ-ঝাড়, লম্বা ঘাস ও ফসলের মাঠের (বিশেষ করে পাকা ধান ও গম ক্ষেত) ভিতর দিয়ে হাঁটার সময় সতর্ক হওয়া এবং লম্বা মোটা কাপড়ের প্যান্ট ও গামবুট ব্যবহার করা।  

৬.  ফসল কাটার সময় (ধান ও গম) লম্বা বাঁশ দিয়ে জমিতে নাড়াচাড়া করলে সাপ ভয় পেয়ে অন্যত্র চলে যাবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ধান কাটার সময় চাষীরা চন্দ্রবোড়া সর্প-দংশনের শিকার হয়। সে জন্য ধান বা গম কাটার সময় প্যান্ট বা গামবুট ব্যবহারসহ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 

৭.  বন-জঙ্গলের ভিতর হাঁটার সময় জুতা ও মাথায় টুপি পরা। 

৮. বাইরে ক্যাম্পে রাত্রি যাপন করতে হলে প্রয়োজনে টেন্টের চারিদিকে লাইলনের জাল দিয়ে ঘেরাও করে রাখতে হবে। ক্যাম্পে কাপড়-চোপড় ও জুতা পরার আগে ভালোভাবে তা ঝেড়ে নিন। কারণ এসবের মধ্যে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। 

৯.  স্তুপাকৃত পুরোনো ইট, লাকড়ি বা খড়ি, খড়ের গাদা, খড়-কুটো, ইত্যাদি উঠানোর সময় খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করা। কারণ এসবের ভিতর সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। একটি লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতে হবে সেখানে সাপ আছে কিনা।  

১০.  বাগানে বা মাঠে অথবা পার্কে ছায়াযুক্ত স্থানে ঘাসের উপর বসার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক সময় মাটিতে ইঁদুরের গর্তে সাপ লুকিয়ে থাকে যা মানুষকে দংশন করতে পারে। 

১১. সাপ নিয়ে খেলবেন না, তাকে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করবেন না ফলে যেকোন সময় সর্প-দংশনের শিকার হতে পারেন। 

১২.  মাছ ধরার সময় জাল কিংবা চাঁইয়ের মধ্যে সাপ আঁটকে আছে কিনা তা ভাল করে দেখে ভিতরে হাত দিতে হবে।  

১৩.  গরমকালে রাতের বেলায় ঘরের ভিতর, বারান্দায় বা উঠোনে মাটিতে ঘুমানো পরিহার করা। একান্ত প্রয়োজনে মশারি টাঙ্গিয়ে নিচের অংশ বিছানার চারপাশে গুজে ঘুমাতে হবে। চৌকি বা খাটে ঘুমানো অধিক নিরাপদ। 

১৪.  রাতে ফসলের জমিতে, ফলের বাগানে, কিংবা মাছের খামারে পাহারা দে’য়ার সময় মাটিতে অথবা মাচায় ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা।  ১৫.  কাঠের গুঁড়ি ও বড় পাথর খন্ড উল্টানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এগুলির নিচে বিষধর সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে।  

১৬.  শুকনো খড়কুটো, ঘাস-পাতা, খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ সাপের লুকিয়ে থাকার নিরাপদ স্থান। কাজেই বাড়ীর আঙিনা ময়লা আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে। ১৭.  ঘরে জুতা এবং ব্যাগ মাটি থেকে উঁচু স্থানে রাখতে হবে। এগুলো সাপের রাত্রি যাপনের উত্তম আশ্রয়স্থল। জুতা পরার পূর্বে ভালোভাবে দেখে ঝেড়ে নিতে হবে, ফলে জুতার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সাপ বা কীট-পতঙ্গ বেরিয়ে যাবে।

Topics:

সর্প-দংশন থেকে বাঁচার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন।

Login to comment login

Latest Jobs