Posted By

কুসুম ফোটার কাল

Education 26

 

 

 

সে রাতে চোখের তারায় জেগে উঠেছিল এক দারুচিনি দ্বীপ। এ দ্বীপ যেন রূপকথার চেয়েও সুন্দর। সবুজ পাতার দেশ। অবুঝ আদরের দেশ। কোথাও ঝাউবন, কোথাও নারকেল গাছের সারি। আবার কোথাও মসলার বাগান। এলাচ ফুলের সৌরভে বাতাসের মনেও যেন ঈদের আনন্দ। জারিন ভাবছে, আহা! সে কেন আরও আগে এখানে আসেনি। এমন সময় মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল তার। মা বললেন, উঠো। ফজর সালাতের সময় হয়েছে। ইস্! মা আর সময় পেলো না। একটু পরে ডাকলে এমন কী হতো? কাঁটায় কাঁটায় সময় মেপে কি সালাত আদায় করা লাগে? এমন সুন্দর স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় মনে হলো, ফেরদাউস থেকে সে ধুলোয় নেমে এসেছে।

 

মাকে এবার বলেই ফেলল কথাটা। মা হেসে বললেন, সঠিক সময়েই সালাত আদায় করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য করণীয়।” (সূরা আন নিসা : ১০৩)

 

মহানবী (সা) সালাতের এ সময়সূচি আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন, ফজরের সময় হচ্ছে সুবহে সাদিক থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত। জারিন বলল, আম্মু আমাকে তাহলে অন্য সালাতের সময়গুলোও বলো না। আম্মু বললেন, সূর্য যখন মাথার ওপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ে, তখন শুরু হয় জোহরের সময়। কোনো জিনিসের ছায়া তার সমান হওয়া পর্যন্ত জোহর সালাত আদায় করা যায়।

জারিন কেবলই মুগ্ধ হচ্ছে। তার মনোযোগ আরও বেড়ে গেল মায়ের কথার প্রতি। মা এবার বললেন, কোনো কিছুর ছায়া তার সমপরিমাণ হলেই আসর শুরু হয়ে যায়। সূর্য হলুদ হওয়ার আগেই আসরের সালাত আদায় করা উচিত। তবে বিশেষ কারণ থাকলে সূর্য ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সুযোগ থাকে। জারিন বলে উঠল- আর মাগরিবের সময় শুরু হয় সূর্য ডুবে গেলেই! মা হেসে বললেন, ঠিকই বলেছো। তবে এর সময় খুবই কম। সূর্য ডোবার পর থেকে পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর না হওয়া পর্যন্ত। পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর হয়ে গেলেই ইশার সময় শুরু। এ সময় থাকে মাঝরাত পর্যন্ত। তবে বিশেষ কারণ থাকলে ফজরের আগ পর্যন্ত ইশার সালাত আদায় করা যায়।

জারিন বলল, আলহামদুলিল্লাহ। মা বললেন, প্রতিটা সালাতই একেকটা সুরভিত কুসুম। আর এ ‘কুসুম ফোটার কাল’ জানা না থাকলে তার সুরভি পাওয়া যাবে না কখনোই। জারিন আজ নতুনভাবে অনুভব করল, যথাসময়েই সালাত আদায় করা উচিত।

Topics: কুরআন হাদিস

কুসুম ফোটার কাল

Login to comment login

Latest Jobs