Posted By

সাপের বিষদাঁত ও দংশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানুন।

Fashion 25

বিষদাঁত ও দংশন প্রক্রিয়া 

বিষধর সাপের মাথার চোয়ালের দুই পাশে দু’টি রূপান্তরিত প্যারোটিড গ্রন্থি থাকে যাকে বিষ থলি বলে। বিষ থলিতে বিষ উৎপাদন ও সংরক্ষিত থাকে। বিষদাঁত  এক বিশেষ ধরনের দাঁত। বিষদাঁত অন্যান্য দাঁতের চেয়ে বেশ বড় এবং এর মধ্যে একটি গভীর খাঁজ থাকে অথবা মাঝখানে ইনজেকশনের সুঁইয়ের মত নালী বা ছিদ্র থাকে। এই নালী বিষদাঁতের গোড়া থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। দংশনের সময় সাপ বিষদাঁতের ভিতরের ছিদ্র দিয়ে প্রাণীদেহে বিষ ঢুকিয়ে দেয়। বিষদাঁতের অবস্থান সাধারণত সাপের উপরের চোয়ালের সামনে থাকে (গোখরা ও কেউটে)। তবে কিছু বিষধর সাপের বিষদাঁত পিছনেও থাকতে পারে। চোয়ালের মাংসপেশীর সাহায্যে চন্দ্রবোড়া সাপের বিষদাঁত ওঠা নামা করতে পারে। যেসব সাপের (গোখরা ও কেউটে) চোয়ালের সামনে ইনজেকশনের সুঁইয়ের মত বিষদাঁত থাকে, তারা দংশনের সময় খুব দ্রুত এবং সহজেই শরীরের গভীরে পরিমিত মাত্রায়  বিষ ঢেলে মারাত্মক বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। বিষ থলির চারপাশের মাংসপেশীর সংকোচনের ফলে বিষ নালীর মাধ্যমে বিষদাঁতের ছিদ্র বা খাঁজ দিয়ে বিষ বের হয়ে আসে। সর্প-দংশনে বিষ প্রয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড।  বিষধর বাচ্চা সাপের দুই পাশের বিষদাঁত এক সাথে ঝরে পড়ে। কিন্তু তরুন ও বয়স্ক সাপের বেলায় প্রথমে এক পাশের বিষদাঁতটি পড়ে। এটির জায়গায় নতুন বিষদাঁত না গজানো পর্যন্ত অন্যপাশের বিষদাঁতটি কার্যক্ষম থাকে। ফলে সাপের চোয়ালে সব সময় যেকোন পাশে একটি বিষদাঁত কর্মঠ থাকে। সেই জন্য অনেক সময় বিষধর সর্প-দংশনে একটি মাত্র দাঁতের চিহ্ন থাকে। অনেকেরই ধারণা সাপের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেললে সেই সাপ কাউকে দংশন করলে কোনো বিষক্রিয়া হবে না। কিন্তু তাঁরা জানেন না যে, কোনো কারণে বিষধর সাপের বিষদাঁত ভেঙ্গে গেলে বা বিষদাঁত পড়ে গেলে তার পিছনের দাঁতগুলো বিষদাঁতের স্থানে প্রতিস্থাপিত হয়। বিষদাঁত প্রতিস্থাপিত হতে কয়েকদিন সময় লাগে। ফলে প্রকৃতপক্ষে সাপ তার জীবনদশায় কখনও দীর্ঘ সময় বিষদাঁতহীন থাকে না। সাপের বিষদাঁত পুরানো হয়ে ঝরে খাবারের সাথে পাকস্থলীতে চলে যায়। সেখানে হজম না হয়ে মলের সাথে বেরিয়ে আসে। অথচ ব্যাঙ, ইঁদুর, খরগোশ বা পাখির পালক, দাঁত এবং হাড়গোড় হজম করতে সাপকে বেগ পেতে হয় না।  সাপুড়েদের কাছে থাকা বিষধর (গোখরা) সাপের বিষদাঁত থাকে না। যারা সাপ ধরে এবং কিছু সাপুড়ে সাপ বিক্রি করার সময় বিষদাঁত ও বিষথলি থাকে। সাপুড়ে বা বেদেরা তাদের কাছ থেকে সাপ বিক্রির পর  সাপের বিষদাঁত তুলে ফেলে। আবার অনেকে সাপের বিষ থলিও কেটে ফেলে। ফলে সাপটি নির্বিষ সাপের মতই ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে। এ ধরনের সাপ দিয়েই বেশিরভাগ সাপুড়েরা খেলা দেখায়।  বিষধর সাপ জীবনদশায় কখনো তার বিষ থলি খালি করে না। এমনকি কয়েকবার দংশন এবং খাদ্যগ্রহণের পরেও সাপ কাউকে দংশন করলে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। সাপ প্রতিবার দংশনে তার বিষথলি থেকে ২৫-৭৫% বিষ নিঃসৃত করতে পারে। বিষথলি থেকে নিঃসৃত সমপরিমাণ বিষ ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় পরিপূর্ণ হয়। প্রজাতিভেদে সাপের বিষদাঁতের মধ্যে পার্থক্য থাকে। চন্দ্রবোড়া সাপের বিষদাঁত বেশ বড় এবং ভাঁজ হয়ে যেতে পারে। আবার কোন কোন সাপের বিষদাঁত খুবই ছোট হয়ে থাকে, যেমন-কেউটে।

Topics:

সাপের বিষদাঁত ও দংশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানুন।

Login to comment login

Latest Jobs