Posted By

কিছু ইন্টারভিউ টেকনিক! -- ইন্টারভিউ কথন- পর্বঃ ০১

Career 73

জড়তা কাটান এবং যথোপযুক্ত উত্তর বলতে পারার কোয়ালিটি অর্জন করুনঃ

বড় প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করলে, ছোট গুলাতে আগে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রাকটিস করে নিবেন। আর ছোটগুলাতে প্রাকটিস করার আগেই বড়গুলাতে ইন্টারভিউ কল পেলে, কোনো টিচার, ফ্রেন্ড বা আপনার আম্মুকে, টেবিলের এক পাশে বসিয়ে, একটা প্রশ্নের লিস্ট হাতে ধরিয়ে দিয়ে, একটার পর একটা জিজ্ঞেস করতে বলবেন। উত্তর দিতে গেলে বুঝতে পারবেন। আপনি যেগুলার উত্তর ১০০% জানেন, সেগুলাই বলতে গেলে, ওয়ার্ড খুঁজে পান না। আমতা আমতা করতে করতে সোজা জিনিসটা তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। তাই, উত্তর জানার চাইতে, উত্তর বলতে পারার কোয়ালিটি বেশি ইম্পরট্যান্ট। সো, উত্তর লিখে লিখে, বলার প্রাকটিস করার পর আবার আপনার আম্মুকে বা ফ্রেন্ডকে বলবেন মক ইন্টারভিউ নিতে। এতে আপনার জড়তা-ও কাটবে, সাবলীলভাবে উত্তর বলাও শিখে যাবেন, সেই সাথে চর্চাও হয়ে গেল!!    

ঝোপ বুঝে কোপ!  

ধরেন, আপনাকে ইন্টারভিউতে এমন একটা বিষয়ে জিজ্ঞেস করে বসলো যেটা আপনি অনেক ভালো জানেন বা পারেন। তখন সে বিষয়ে উত্তর দিতে গিয়ে আপনি যে প্রবলেমে পড়বেন সেটা হলো, কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবেন !!  এমন করতে গিয়ে দেখা যায়, ইমপরট্যান্ট অনেক কথা বাদ দিয়ে ফেলছেন, আবার ফাউল অনেক কিছুই বলে ফেলছেন! অথচ আপনি উক্ত বিষয়ে অনেক জানেন!!   

আপনি যখন উত্তর রেডি করবেন। তখন উত্তরগুলার দুইটা ভার্সন করবেন। প্রথমটা হচ্ছে, এক মিনিটের উত্তর। ধর, মার, কাট টাইপের। একদম টু দ্যা পয়েন্টে। কারণ কিছু লোক, জাস্ট টু দ্যা পয়েন্টে উত্তর শুনতে চায়। আপনি গরুর রচনা বলতে শুরু করলে, তারা বোরর্ড হয়ে যায়, ইন্টারেস্ট ধরে রাখতে পারে না, যদিও মাথা নাড়ায়, ভিত্রে ভিত্রে কিন্তু গালি দিতে থাকে, "এই গাধায় এতো প্যাঁচায় কেন!!"। আর আরেকটা ভার্সন থাকবে, তিন মিনিটের উত্তর; যেটাতে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।  

আসল ইন্টারভিউ এর সময় এক মিনিটের না তিন মিনিটের উত্তর দিবেন, সেটা বুঝার দুইটা টেকনিক আছে। প্রথমে এক মিনিটের উত্তর দিয়ে বলবেন, If you want, I can tell more about it. তখন সে ইন্টারেস্টেড হইলে আপনাকে ডিটেল বলতে বলবে আর না হইলে বলবে না। অথবা তার মুখের এক্সপ্রেশন দেখে বুঝতে হবে সে আপনার উত্তরে স্যাটিসফাইড কিনা। নাকি আরো ডিটেল জানতে চায়। আর সবচেয়ে খারাপ হয়, আপনি বক বক করে যাচ্ছেন, ওর অবস্থার দিকে খেয়াল করতেছেন না। শেষমেশ ও আপনাকে থামিয়ে অন্য প্রশ্ন করা শুরু করছে।  

কাজেই দুই রকম উত্তর রেডি রাখবেন, একটা সংক্ষিপ্ত, আরেকটা বিস্তারিত। সংক্ষিপ্ত-টা তে ভাষার প্রায়োগিক কৌশল, শব্দের গাঁথুনি এসব মেনটেইন করে ইমপরট্যান্ট বিষয়গুলো অল্প কথায় বলে ফেলবেন। তারপর অবস্থা বুঝে, ঝোপ বুঝে কোপ মারবেন। যদি প্রশ্নকর্তা আরো ডিটেলস শুনতে চায়, তবে তিন মিনিটের উত্তরটা শুনিয়ে দিবেন। 

-------

ওদের কোন ড্রেস কোড আছে কিনা, আগে থেকে জেনে নিবেন। না থাকলেও, ফর্মাল ড্রেস পরে যাওয়া ভালো। পকেটে মোবাইল, চাবি, পয়সা, কোন কিচ্ছু রাখা যাবে না। শুধু একটা কলম রাখবেন। মোবাইল ব্যাগে সাইলেন্ট করে রাখবেন। এমনকি মানিব্যাগও ব্যাগের মধ্যে রাখবেন। আর ব্যাগের মধ্যে এক্সট্রা কলম, পেন্সিল, কয়েক কপি বায়োডাটা, কাজের স্যাম্পল রাখবেন। যদি লাগে বের করে দেখাবেন।

ইন্টারভিউ এর পনের মিনিট আগ থেকে কিচ্ছু পড়বেন না বা রিভাইজ দিতে যাবেন না। এই সময়টাতে রিলাক্স করেন বা ভালো লাগে এমন কিছু মোবাইলে দেখেন। মোটা বিশাল বই থেকে ১৫ মিনিটে পড়ে উল্টায় ফেলতে পারবেন না। উল্টানোর ইচ্ছা থাকলে সেটা আগে করে আসবেন। শেষ ১৫ মিনিট বা এক ঘন্টা এর জন্য রাখবেন না।     

আপনার ইন্টারভিউতে কে কে থাকবে, জানতে পারলে, তাদের পজিশন, জব রেসপনসিবিলিটি, এক্সপেরিয়েন্স, ব্লগ বা ওয়েবসাইট (থাকলে), এমনকি linkedIn এ তাদের প্রোফাইল ঘেঁটে, ভালো করে জেনে যাবেন। ওই কোম্পানি এবং যে ডিপার্টমেন্টের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, সেই ডিপার্টমেন্টের কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা নিবেন। না জানলে, আপনি ওই কোম্পানির কোন সিনিয়র বা সরাসরি রিসিপশনে ফোন দিতে পারেন।    

আপনার রেজুমিতে আগের যত জব বা প্রজেক্ট বা কোর্সের নাম আছে, প্রত্যেকটা সম্পর্কে চারটা জিনিস আগে থেকে ঠিক করে লিখে, মুখস্থ করে যাবেন। সেগুলা হচ্ছে, আপনি কি Problem সলভ করছেন, আপনি কি কি Action নিছেন বা কাজ করছেন, কি Result আসছে বা কি শিখছেন এবং Future আবার করা লাগলে কোন কোন জিনিস অন্যভাবে করবেন। সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য, PARF. আর বলার সময় সিরিয়াল ধরে বলে দিবেন দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে।    

আপনি যে পজিশনের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, সেটার জব ডেসক্রিপশনে যত সফটওয়্যার, স্কিল বা কি-ওয়ার্ড আছে সেগুলা না জানলেও, গুগল করে, উইকিপিডিয়া, ইউটিউবে ভিডিও দেখে বা কোন সিনিয়র/টিচারকে জিজ্ঞেস করে, মোটামুটি একটা আইডিয়া নিয়ে যাবেন। আর কাউরে না পাইলে, ওই কোম্পানিকেই সরাসরি ফোন দিতে পারেন। ওদেরকে ফোন করলে, ওরা বুঝে ফেলবে আপনি আসলেই জব এর জন্য সিরিয়াস। আর ইন্টারভিউতে ওগুলা নিয়ে প্রশ্ন করে বসলে, আপনি হাবলাকান্তের মতো বসে না থেকে কিছু একটা বলতে পারবেন।    

আপনার রেজুমিতে যা যা লিখা আছে, সেগুলি পাঁচ-দশ বছর পুরান প্রজেক্ট, সফটওয়্যার যাই থাকুক না আগের হোক না কেনো, সবগুলা সম্পর্কে PARF (Problem, Action, Result, Future) করে যাবেন। এমন যাতে না হয়, অনেক আগে করছিলাম, এখন ভুলে গেছি। তাইলে কিন্তু চটকনা খাবেন।    

হাবভাব-ও লক্ষ্য করা হবে!  

ইন্টারভিউ এর সময়, যে ইন্টারভিউ নিচ্ছে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝা খুবই ইম্পরট্যান্ট। তারসাথে ইন্টারাকশন ইফেক্টিভলি হচ্ছে কিনা সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সে কি আপনার উত্তর বুঝতে পারতেছে নাকি এইদিক ওই দিক তাকাচ্ছে। eye কন্ট্রাক্ট রাখবেন। আবার একটানা তাকায় থাকবেন না। নরমাল ভাবে চেয়ারে বসেন। ঝুঁকে বা ঠেস দিয়ে বসবেন না। তার কথা আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেছেন সেটা বুঝানোর জন্য মাঝেমধ্যে মাথা ঝাঁকাবেন, হালকা একটু হাসিও মাঝেমধ্যে দিবেন। আর হাত পকেটের মধ্যে বা মুষ্টিবদ্ধ করে রাখবেন না। চেয়ারের হাতলে বা টেবিলের উপরে ছেড়ে দিয়ে রাখবেন। হাতে কলম থাকলে নাড়াবেন না। যদি হোয়াইট বোর্ড বা পেপার পেন্সিল থাকে টেবিলের উপর এবং আপনার কোন জিনিস ড্র করে এক্সপ্লেইন করতে সুবিধা হবে মনে হয়, তাইলে বোর্ড বা কাগজ ব্যবহার করতে পারবেন কিনা জিজ্ঞেস করবেন।    

আকাশ থেকে প্রশ্ন করে বসবে! 

এমন একটা প্রশ্ন করে বসলো, যেটা আপনি জিন্দেগীতে শুনেন নাই। তখন হুট করে, পারিনা বা কনফিডেন্টলি ভুল উত্তর দেয়ার চাইতে। নাম শুনে কিছু একটা ধারণা করতে পারেন এবং বলে দিবেন, আমি পুরাপুরি শিউর না, তবে আমার মনে হয়, এইরকম কিছু একটা পারে। বা অমুক জায়গায় জিগ্যেস করা যেতে পারে। এতে সুবিধা হচ্ছে, আপনি ভুল বললেও সেটা আপনার এগিনিস্টে যাবে না। বরং ট্রাই করেছেন এবং কোথায় গেলে সল্যুশন পাওয়া যেতে পারে, সেই চেষ্টা করেছেন। ওরা জানে, দুনিয়ার সবাই সবকিছু আগে থেকে জানবে না। হাত পা না গুটিয়ে একজন চেষ্টা করলে সেটা পজিটিভলি নিবে।  

কাজেই আকাশ থেকে প্রশ্ন করে বসলেও ঘাবড়াবেন না, মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। চেষ্টা করবেন যেন উত্তরের কাছাকাছি যেতে পারেন। যেমন, আপনাকে জিজ্ঞেস করলো যে- বাটা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কে? আপনি যদি মাথা না চুলকে একটু ভাবেন, আর বলেন যে- বাটা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মিস্টার বাটা!! তাইলে কিন্তু উত্তরটা ফিফটি পার্সেন্ট সঠিক!! এরকম নানাভাবে আকাশ থেকে কোশ্চেন করে বসবে, আপনি পরিস্থিতি সামলাতে পারেন কিনা সেটাই মূলত পরীক্ষা করবে। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে উত্তর করার চেষ্টা করবেন।    

উত্তর জানা আছে, তবুও মনে আসছে না! 

অনেক সময় এমন একটা প্রশ্ন করে বসে। যেটা আপনার মনে আসতে আসতেও কেনো জানি আসতেছে না। আরেকটু সময় দরকার চিন্তা করার। তখন কেউ কেউ, Let me think বলে ৩০ সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ ১ মিনিট সময় নেয়। কোন অবস্থাতেই তিন-চার মিনিট সময় নেয়া যাবে না। আরেকটা ট্রিক হচ্ছে, ইন্টারভিউ যে নিচ্ছে তাকে বলা, Interesting, can you explain little more, এইটা বললে, সে যখন এক্সপ্লেইন করবে, সেই সুযোগে আপনি একটু চিন্তা করার এক্সট্রা টাইম পেয়ে গেলেন।   

টু দ্যা পয়েন্ট সম্পূরক কোশ্চেন করতে শিখুন! 

অনেক সময় ইচ্ছে করেই, আপনাকে প্রশ্ন করার সময় সব তথ্য দিবে না। দেখতে চাইবে, আপনি পুরা সিচুয়েশন সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা নিয়ে, উত্তর দেয়া শুরু করেন। নাকি, না বুঝেই হাফ-ঝাপ মেরে কাজ শুরু করেন আর মাঝপথে গিয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলেন। তাই উত্তর দেয়ার আগে, সম্পূরক প্রশ্ন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে হবে। ধরেন, আপনাকে জিজ্ঞেস করলো, একটা বাড়িতে কয়টা শোবার ঘর থাকা উচিত। আপনি ফুস করে বলে দিতে পারেন ৪ টা (জামাই-বৌ, ছেলে, মেয়ে আর বাবা-মা)। কিন্তু তারপর সে যদি বলে, আমি আসলে গেস্ট হাউজ বা সামারে অবসর কাটানোর রিসোর্ট বা অন্য কিছু বানাবো। তাইলে আপনার উত্তর কিন্তু ভুল হয়ে গেলো! তাই, আন্দাজে উত্তর দেয়ার আগে, সম্পূরক প্রশ্ন করে, ক্লিয়ার ধারণা নিলে, উত্তর সঠিক হবার চান্স বেশি থাকে। এবং সঠিক প্রশ্ন আগে জিজ্ঞেস করতে পারাটা অনেক বড় একটা গুণ, যেটা অনেক কোম্পানি দেখতে চায়।  

তবে অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাসঙ্গিক বা জ্ঞানের দৈন্যতা প্রকাশ করে এমন কোনো সম্পূরক প্রশ্ন যেন না করেন, তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।    

ইচ্ছে করেই ভুলভাল প্রশ্ন করবে, ভুল ধরতে যাবেন না 

প্রশ্নকর্তাকে ইন্টারাপ্ট করা যাবে না। প্রশ্ন পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে তাকে থামাবেন না। তার ভুল ধরতে যাবেন না। দুই একজন অতীব পণ্ডিত ইচ্ছে করে ভুল বা ট্রিক-মার্কা কোন প্রশ্ন করে, আপনার রিঅ্যাকশন দেখতে চাইবে । আপনি যদি ২০০% শিউর হোন যে, সে ভুল করতেছে। তারপরেও বলবেন, আমার মনে হচ্ছে, আমি ঐখানে অন্যরকম কিছু একটা দেখছি। বা আমার মনে হচ্ছে এই রকম কিছু একটা। তবে, আপনি এখন যেটা বলতেছেন, সেটা ইন্টারেস্টিং, আমি চেক করে দেখবো।    

ইন্টারভিউ তে মুলত মাইন্ড গেম খেলা হয়! কাজেই আপনাকেও কিন্তু কৌশল মেনে মাইন্ড গেম-কে অপটিমালি হ্যান্ডেল করতে হবে!

Topics: তারেক আবরার Tareq Abrar ইন্টারভিউ টেকনিক Career Plan

কিছু ইন্টারভিউ টেকনিক! -- ইন্টারভিউ কথন- পর্বঃ ০১

Login to comment login

Latest Jobs