সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই সম্মিলিত প্রয়াস

Education 43

 এস.এম আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির :

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঝড়ছে প্রাণ। এ সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া ক্ষিপ্র গতি বেশ উদ্বেগজনক!। অসম প্রতিযোগিতায় সঙ্কীর্ণ ও খানাখন্দময় সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় হাজারো মানুষ।  এর অন্যতম কারণ হচ্ছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব , লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন গতি,চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা সত্তে¡ও ঘুষ আর দুর্নীতির মাধ্যমে পার পাওয়া।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে চালকের বেপরোয়া লোভী মনোভাব ও নিয়ন্ত্রণহীন গতি।  বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম।  চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ উন্নত রাষ্ট্রের দেশগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। অথচ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা কল্পনাতীত বেশি।  

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো সঙ্কীর্ণ ও বেহাল সড়ক রাস্তা,যত্রতত্র স্টোপেজে যাত্রী নামানো, রোড ডিভাইডারের অনুপস্থিতি,দুর্বল স্পিডবেকার, বেপরোয়া ক্ষিপ্র গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, তেজদীপ্ত তরুণ চালকদের আধিক্য, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন মদ্যপ চালক, অস্বচ্ছ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া, আনমনা,মোবইল ফোনে কথা বলা, সিট বেল্ট না বাঁধা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, অদূরদশির্তা , অসম প্রতিযোগিতা, প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল-সিএনজিসহ তিন চাকা যানের আধিক্য, ক্ষুদ্রযানে মাত্রাতিরক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীন গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ,ফুটপাথ দখল,তদসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা, খামখেয়ালিপনা, ঘুষ, দুর্নীতি , ট্রাফিক পুলিশের অপেশাদারিত্ব, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি আওতায় না আনা ইত্যাদি কারণে রাস্তার বেহাল দশা আর সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।  সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সংঘটিত হয়েছিল নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, সরকার এবং প্রশাসনের সক্রিয় মনোভাব সত্তে¡ও প্রতিরোধের তেমন কার্যকর কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।  

 

এ মরণফাঁদ রোধ করতে হলে উপর্যুক্ত কারণগুলো চিহ্নিত করে আশু সমাধান করাসহ, ছোট গাড়ি কমানো, পাবলিক যানবাহন বৃদ্ধি, ফুটপাথ দখলমুক্ত করণ, লেন বৃদ্ধি, স্বচ্ছ ড্রাইভিং লাইসেন্স পদ্ধতি, অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালকের অনুমতি প্রদান না করা, গতিসীমা রোধ, তরুণ চালকদের নিষেধাজ্ঞা, ঘুষ-দুর্নীতিকে না বলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি আওতায় নিয়ে আসা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ,লেনভিত্তিক সঠিক পথে পরিচালনা করতে বাধ্য করণে  সকল আইন তৈরি ও যথাযথ প্রয়োগ এবং ট্রাফিক পুলিশের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলেই দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব। এক্ষেত্রে ঘুষরে বিনিময়ে কাউকে ছাড় না দিয়ে মোটা অংকের আর্থিক জরিমানা করণ,দন্ড ইত্যাদি আরোপের সাথে সাথে জনসচেতনা বৃদ্ধি এবং রাস্তা চলাচলে সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক ফুট ওভার ব্রিজ এবং আন্ডার ব্রিজ ব্যবহারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।  চালক,হেলপার,মালিক আর যাত্রীদের হতে হবে মানববিক আর আন্তরিক।    

পরিশেষে বলতে চাই, আমরা যে জাতি হিসেবে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশৃঙ্খল তা প্রতিটি কর্মকান্ডে প্রমাণিত। অধিক জনসংখ্যার ঠুনকো অজুহাত না দেখিয়ে সবার আগে আমাদের প্রত্যেকের মনমানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা যত দিন না শৃঙ্খলিত ও সচেতন হব তত দিন সড়ক দুর্ঘটনারোধ অসাধ্য।    

 

এস.এম আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির  

সংবাদিক ও লেখক  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা  

Topics:

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই সম্মিলিত প্রয়াস

Login to comment login

Latest Jobs