Posted By

শ্লো-গান-দেয়াল লিখন

Fashion 12

                                                              শ্লো-গান-দেয়াল লিখন

আমাদের দেশে শ্লো-গান ও দেয়াল লিখন অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে শ্লো-গান ও দেয়াল লিখনের ভাষা পরিবর্তিত হয়, যদিও উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থাকে এক ও অভিন্ন। শ্লো-গানের বাংলা প্রতিশব্দ এখনো আমরা পাইনি যদিও ণির্মলেন্দু গুণের সৌজন্যে মোবাইল ফোনের প্রতিশব্দ মুঠোফোন পেয়েছি। শ্লো-গান  মিটিং মিছিল এর প্রাণ। শ্লো-গান প্রতিবাদের ভাষা, রাজনৈতি কবিতার পঙ্খতিমালা।  শ্লো-গান দেয়াল-লিখনের ভাষা হতে হয় রুচিশীল ও মার্জিত। মার্জিত ও রুচিশীল শ্লো-গান, জনগণের দেশপ্রেম জাগ্রত করে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। রুচিহীন ও অমার্জিত ভাষার শ্লো-গান -গণঐক্য বিনষ্ট করে, জনগণের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে। শ্লো-গানকে রাজনৈতিক দলের নাকফুল বলা যায়। বঙ্গরমনীকে অলংকৃত করতে হলে প্রথমেই নাকফুলের প্রয়োজন হয়। তেমনিভাবে কোন রাজনৈতিক দল গঠিত হলে প্রথমেই তাকে কিছু শ্লো-গান নিয়ে আত্নপ্রকাশ করতে হয়।  ‘৪৭ থেকে ‘৭১ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব চাইতে জনপ্রিয় ও বেশী উচ্চারিত দু’টি শ্লো-গান হলো- রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, জয় বাংলা। এদুটি শ্লো-গান বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে উৎসারিত। ‘৪৭ পূর্বে অবিভক্ত ভারতের কিছু শ্লো-গান ও দেয়াল লিখন ছিল নিম্নরূপ। হিন্দুস্থান কি জয়, মহাত্না গান্দী জ্বী কী জয়। বন্দে-মাতরম। লড়কে-লড়েঙ্গা। হিন্দু মুসলমান ভাই ভাই- আমরা সবাই শান্তি চাই। পাকিস্তান জিন্দাবাদ। তৎকালীন আমলে কিছু দেয়াল লিখন ছিল নিম্নরূপ। ইংরেজ ভারত ছাড়। বিদেশী পণ্য বর্জন করুন, স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করুন। মুসলমানদের পৃথক আবাস ভূমি চাই। ‘৪৭-‘৭১ পর্বে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে শ্লো-গান ও দেয়াল লিখনের ভাষা ছিল মার্জিত ও রুচিশীল। যেমন-অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো-বাঁচতে চাই। ছয় দফা মানতে হবে-নইলে গদি ছাড়তে হবে। তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা। বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর। জাগো জাগো-বাঙ্গালী জাগো। জেলের তালা ভাংগবো-শেখ মুজিবকে আনবো।

 

Topics:

শ্লো-গান-দেয়াল লিখন

Login to comment login

Latest Jobs