Posted By

পড়াশোনায় মনোযোগ নেই? মন দিয়ে পড়ার ১০ টিপস

Education 253

"মন দিয়ে লেখাপড়া করো"। ছোট থেকে বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের এই কথাটি শুনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়াটাই দুষ্কর! শুধু লেখাপড়াতেই মনের প্রয়োগ নয়। গুরুজনরা বলেন প্রতিটা কাজই করতে হবে মন দিয়ে। অর্থাৎ, মন দিয়ে কোন কাজ না করা মানেই অনর্থক। কোনভাবেই মনোযোগ ছাড়া কোন কাজ ফলপ্রসু হতে পারে না। আর যেহেতু আমাদের জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় ছাত্র হিসেবে কাটাতে হয়। তাই পড়াশুনাটা আমাদের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। পড়াশুনায় ভালো ফলাফলের উপরই নির্ভর করে বাকি জীবনের সময়টুকুর সমৃদ্ধি। আর একাডেমিক লাইফে ভালো ফলাফলের প্রথম এবং প্রধান মূলমন্ত্র হলো মন দিয়ে পড়াশোনা করা।

যদিও ছাত্র জীবনে প্রতিটি ছাত্রের কাছে পড়াশোনা হলো বিরক্তিকর কাজের তালিকার প্রথম কাজ। তাই স্বভাবতই পড়াশোনায় মনোযোগের অভাববোধটা নতুন কিছু নয়। বলতে গেলে আমাদের প্রত্যেকের কাছে এটি অনেক প্রকট একটা সমস্যা। আপনিও কি সেরকম একজন? পড়াশোনায় মন বসাতে পারেন না? আপনার জন্যই আজকের কিছু পরামর্শ। চলুন জেনে নিই এমন কিছু উপায় যার মাধ্যমে পড়াশোনায় বাড়াতে পারবেন মনোযোগ।

পড়াশোনা করার পারফেক্ট জায়গা নির্বাচন

মন দিয়ে পড়তে প্রথম যে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে তা হল 'জায়গা'। আপনার স্টাডি জোন হিসেবে এমন কোন জায়গাকে বেছে নিতে হবে যা আপনাকে নির্বিঘ্নে পড়তে সহায়তা করবে এবং পড়ার জায়গার পরিবেশটা যেন আপনার মনোযোগের সর্বোচ্চ টুকু নিতে পারে। সবচেয়ে ভাল হয় একেক সময় একেক জায়গায় না পড়ে একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী জায়গা ঠিক করা। যে জায়গাটিতে আপনি আপনার মনোযোগের সবটুকু দিতে পারবেন পড়তে এবং শিখতে।

পড়ার জায়গায় থাকতে হবে পর্যাপ্ত আলো - বাতাস

পড়াশোনার জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত আলো - বাতাসের দিকটি মাথায় রাখা। একেক জনের পড়াশোনার পরিবেশটার ধরন আলাদা হতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক। তাই পড়ার জায়গাটির অন্য বিষয়গুলো ব্যক্তিভেদে একেক হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

পড়ার জন্য সহায়ক উপকরন হাতের কাছেই রাখুন

পড়তে বসে গেছেন। হঠাত লিখতে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, কলম নেই। ব্যাস, পড়ার মনোযোগটা নষ্ট হতে এরকম ছোট্ট কারণই যথেস্ট। তাই ছোট্ট এরকম কারনে যেন কোনভাবেই আপনার পড়ায় ব্যাঘাত না ঘটে। সেজন্য পূর্ব প্রস্তুতি রাখতে হবে। যেমনঃ পড়তে বসার পূর্বেই প্রয়োজনীয় সব উপকরন হাতের কাছেই নিয়ে বসলে হয়ত এরকম ঝামেলা পোহাতে হবে না।

হালকা নাস্তা প্রস্তুত রাখুন

পড়তে বসার সময় কিছু নাস্তা সাথে নিয়েই বসুন। তবে হ্যাঁ, নাস্তা হতে হবে অবশ্যই হালকা ধরনের। যেন পড়ার চাইতেই বেশী সময় সেটা খেতে চলে না যায়। তবে এই হালকা নাস্তা অবশ্যই পুষ্টিকর কিছু হওয়া উচিত। যা আপনার পড়ার শক্তি ধরে রাখবে। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, খাওয়া দাওয়ার পর ভরা পেটে পড়তে বসবেন না। কারণ খাওয়ার পর পড়তে বসলে আপনাকে ঘুমে ঝিমাতে হতে পারে।

পড়ার মাঝেমাঝে পানি পান করতে হবে

পড়তে বসার পর এরই মাঝে মাঝে পানি পান করে নিতে পারেন। কারন পানি পান করলে আপনার শরীর কর্মশক্তি ধরে রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে। ফলে আপনার মনোযোগ হারানোর সম্ভাবনা নেই।

মনোযোগের প্রতিবন্ধকতা গুলো দূরে রাখুন

বর্তমান সময়ে শুধু পড়াশোনার ক্ষেত্রেই নয় যেকোন কাজে মনোযোগে বাঁধা সৃষ্টি করে থাকে হাতের কাছে থাকা মোবাইল, কম্পিউটার, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট বা অ্যাপগুলো। তাই পড়ার সময় এই বাঁধা দেয়া জিনিসগুলোকে বন্ধ রাখুন। কারন, পড়ার মাঝে ফেসবুকে সামান্য নোটিফিকেশন চেক করতে গিয়ে আপনি কয়েক ঘন্টা কোথায় হারিয়ে যাবেন বুঝে উঠতেও পারবেন না।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজাতে পারেন

প্রথমেই বলে রাখি, এই টিপসটি সবার জন্য প্রযোজ্য না। এটি শুধু তাদের জন্যই যারা হালকা মিউজিক ছাড়া পড়তে পারেন না। তারা চাইলে পড়ার সময় এমন অনেক হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড ইন্সট্রউমেন্টাল মিউজিক বাজাতে পারেন। ইউটিউবে অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আছে যেগুলো মূলত পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখার জন্যই কম্পোজ করা। তবে মনে রাখবেন, কখনই পড়ার সময় প্রিয় কোন গান বাজাতে যাবেন না।

সুবিধামত রুটিন করে পড়ুন

যেকোন কাজই রুটিন করে করলে সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া সেই কাজ নিয়ে বাড়তি চিন্তাও কমে যায়। তাই পড়াশোনার জন্যও রুটিন করুন। তবে অবশ্যই পড়ার সময়সূচি তৈরি করবেন আপনার সবচেয়ে সুবিধামত সময়কে বেছে নিয়ে। নতুবা, সুবিধামত সময় বেছে না নেওয়ায় নিয়ম করে পড়তে বসা হলেও সেই পড়ায় থাকবেনা কোন মনোযোগ।

এনার্জি অনুযায়ী পড়ার বিষয় বেছে নিন

আপনি হয়ত এখন পড়তে বসলে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা পড়তে পারবেন। তাহলে এই সময় এমন কোন বিষয় নিয়ে পড়তে বসবেন না যেটা মনোযোগের সাথে পড়তে আপনার ১ ঘন্টার বেশী সময় প্রয়োজন। আপনাকে অবশ্যই আপনার এনার্জির সাথে মিল রেখে বিষয় পছন্দ করতে হবে।

উদাহরনের মাধ্যমে পড়া মনে রাখুন

পড়ার কঠিন বিষয়গুলোই সাধারনত আমাদের মনে থাকেনা। আর এগুলো পড়ার সময়ও মনোযোগের যথেস্ট অভাব লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে একটু কৌশলী। পড়া মনে রাখার সবচেয়ে কার্যকারী কৌশল হলো বিভিন্ন টপিকের সাথে বিভিন্ন বাস্তব উদাহরন মিলিয়ে পড়া। এর ফলে পড়াটা যেমন আনন্দের হয় তেমন মনে রাখাও সহজ হয়। তাই যেকোন কিছু পড়তে সেই টপিকের সাথে বাস্তব জীবনের কোন উদাহরন খুঁজে মিলিয়ে পড়ুন।

Topics:

পড়াশোনায় মনোযোগ নেই? মন দিয়ে পড়ার ১০ টিপস

Login to comment login

  • H M SURUJ JAMAN SUJON
    06 Jun 2018   12:57 pm
    শিক্ষার জন্য এসো সেবার তরে এগিয়ে যাও
  • asraf
    11 Jul 2018   11:23 am
    best
Latest Jobs