Posted By

নায়ক রাজ রাজ্জাক

Fashion 13

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তী অভিনেতা নায়ক রাজ ‘‘রাজ্জাক’’ ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারী মহানগর কলকাতার দক্ষিণ নাকতলায় জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্যকালেই তিনি পিতা-মাতাকে হারান। প্রথম জীবনে তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র তারকা ছবি বিশ্বাসের সংস্পর্শে আসেন এবং রঙ্গসভা নাট্যদলে যোগদান করেন। এই নাট্যদলে থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকটি মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন।          

ইতিমধ্যে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তিনি সপরিবারে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ঢাকায় এসে তিনি সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘‘মুখ ও মুখোশ’’ এর নির্মাতা আব্দুল জব্বার খানের সংস্পর্শে আসেন এবং তার প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে যোগদান করেন। এই প্রযোজনা সংস্থায় থাকাকালীন তিনি ‘উজালা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং ‘আখেরী ষ্ট্যাশন ও ১৩ নম্বর ফেকো উস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৬৬ সালে প্রখ্যাত কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান পৌরানিক কাহিনী ‘বেহুল-লক্ষিন্দর’ অবলম্বনে বেহুলা চলচ্চিত্রটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং লক্ষিন্দর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে মনোনীত করেন। এই চলচ্চিত্রটিই রাজ্জাকের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়। এই চলচ্চিত্রটি একটি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র। বেহুলা চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে রাজ্জাক খ্যাতির শীর্ষে আরোহন করেন। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজ্জাক সূচন্দা অভিনীত বেহুলা মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম তিন মাস কোন প্রেক্ষাগৃহ হতে ‘হাউজ ফুল’ সাইনবোর্ড নামাতে হয়নি। তারপর তিনি মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে এবং কাজী জহির পরিচালিত ময়না-মতি ও মধু মিলন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপে আবির্ভুত হন। উল্লেখিত ছবিগুলো শুধু হিট নয় সুপার হিট করেন। রাজ্জাক ১৯৬৬ হতে ১৯৭০ সালের মধ্যে এপার বাংলার চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা এনে দেন। একটি কাকতালিয় ঘটনা হলো এপার বাংলার নায়ক রাজ রাজ্জাক এবং ওপার বাংলার মহানয়ক উত্তম কুমার উভয়েরই অভিনয়ে অভিষেক হয় মঞ্চ নাটকে। উভয়েরই জন্ম মহানগর কলকাতায়। রাজ্জাক প্রথম দিকে কয়েকটি রূপকথার চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে তিনি অধিংকাশই সামাজিক ছবিতে অভিনয় করেন। তন্মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র হলো- মধু মিলন, এতটুকু আশা, ময়না-মতি, নীল আকাশের নীচে, জীবন থেকে নেয়া ইত্যাদি। নায়ক রাজ রাজ্জাক-সূচন্দা, ববিতা, কবরী, শাবানা সবার সঙ্গেই জুটি বেধে শতাদিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি সামাজিক ছবি ছাড়াও এ্যাকশন ছবিতে অত্যন্ত উঁচু মানের অভিনয় করেন। রাজ্জাক অভিনীত এ্যাকশন ছবি-‘রংবাজ’ ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়ার পর সমগ্র দেশেই সাড়া পরে যায়। রংবাজ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর অনেক চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরই মতামত ছিলো যে, রাজ্জাক বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী। এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর চলচ্চিত্র বিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘চিত্রালী’ সম্পাদক আহমেদ জামান চৌধুরী রাজ্জাককে ‘নায়ক রাজ’ খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের নিবেদিত প্রাণ। তার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি গঠিত হয়। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনাও করেন। তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার নাম রাজ লক্ষ্মী প্রোডাকশন হাউজ। রাজ্জাক পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র অনন্ত প্রেম। এই মহান চলচ্চিত্র শিল্পী ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ২০১৫ সালে ‘স্বাধীনতা দিবস’ পুরস্কার লাভ করেন। এই মহান শিল্পীর জীবনাবসান হয় ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট। বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে ততদিন নায়ক রাজ রাজ্জাক আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

Topics:

নায়ক রাজ রাজ্জাক

Login to comment login

Latest Jobs