Posted By

গোখরা ও কেউটে সাপে কাটা রোগীর লক্ষণগুলো দেখুন।

Fashion 3

সাপে- কাটা রোগীর লক্ষণ:

সাপে-কাটা রোগীর চিকিৎসায় দংশিত সাপটি চেনা থাকলে তা চিকিৎসায় সাহায্য করে, কিন্তু তা যে অপরিহার্য এ কথা বলা যায় না। বেশির ভাগ সর্প-দংশনের ক্ষেত্রেই সাপকে দেখা বা চেনা সম্ভব হয় না। সর্প-দংশন যদি রাতে ঘুমের মধ্যে হয়ে থাকে কিংবা রাতের অন্ধকারে রাস্তা বা লম্বা ঘাস বা ধানক্ষেতের মধ্যে হয়ে থাকে এমন সাপের বর্ণনা দেয়া সম্ভব হয় না। সাপ না দেখলেও সর্প-দংশনের পারিপাশির্^ক অবস্থার উপর ভিত্তি করে দংশনকারী সাপের ধরন অনুমান করা যেতে পারে। রোগীর সর্প-দংশনের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো দেখেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। 

গোখরা সাপে-কাটা রোগীর বিষক্রিয়ার লক্ষণ:  

গোখরা সাপের বিষ সাধারণত স্নায়ুবিন্যাসী । এ ধরনের বিষ প্রাণীদেহের মোটর-স্নায়ু অবশ করে শ্বাসকার্য এবং হৃদপিন্ডের ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করে দেয়, ফলে রোগী মারা যায়। 

 

গোখরা সাপের দংশনে বিষক্রিয়া হলে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায়: 

১. দংশিত স্থানে ব্যথা হতে পারে, কদাচিৎ (ব্যথা) নাও হতে পারে। 

২. দংশিত স্থান ফুলে উঠা। সেটা দংশনের প্রথম ঘন্টায় বা পরের কয়েক ঘন্টার মধ্যে হতে পারে।  

৩. দংশিত স্থানে ঘা বা পঁচন এমনকি ফোস্কাও পড়তে পারে। এটি সাধারণত মনোসিলেট গোখরার দংশনের বেলায় ঘটে। 

৪. চোখের দৃষ্টি ঝাপসা বা অস্পষ্ট হয়ে আসে, একটি জিনিসকে দুটো দেখে। 

৫. ঘুম ঘুম ভাব বা ঝিমুনি আসে। 

৬. চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে, পাপড়ি ঝুলে পড়ে। 

৭. চক্ষু গোলক নাড়াচড়া করতে পারে না। 

৮. জিহ্বা ভারী হয়ে আসে। 

৯. মুখ, চোয়াল এবং থুতনি অবশ হওয়ার কারণে ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়। 

১০. কথা জড়িয়ে যায়, নাকি-নাকি কথা বলা। 

১১. মুখ দিয়ে লালা ঝরতে পারে। 

১২. বমি-বমি ভাব বা বমি হওয়া। 

১৩. পানি খাওয়ার সময় নাক দিয়ে পানি চলে আসে। 

১৪. হাঁটতে অসুবিধা হয়। 

১৫. হাত-পায়ের মাংসপেশী অবশ হয়ে যাওয়া। এমনকি শরীরের সব মাংসপেশীও অবশ হয়ে যেতে পারে। 

১৬. ঘাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া। 

১৭. সর্প-দংশিত রোগী মারাত্মক অবশ অবস্থা থাকলেও রোগীর জ্ঞান থাকে। রোগী কথা বলতে না পারলেও এরা নির্দেশ মত কাজ করে। যেমন- আঙ্গুল নড়াচড়া করা। 

১৮. গোখরা সাপের দংশনের পর রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়ায় কোন প্রভাব পড়ে না। রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হয়ে রোগীর দেহ নীলবর্ণ হয়ে যেতে পারে। 

১৯. অসংলগ্ন আচরণ করে। 

২০. প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি হতে পারে।

 

কেউটে সাপে-কাটা রোগীর বিষক্রিয়ার লক্ষণ :

কেউটে সাপ নিশাচর। কেউটে সাপের বিষ গোখরার মতো স্নায়ুবিন্যাসী হলেও এদের বিষ গোখরার চেয়ে ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। কেউটে সাপে কামড়ালে গোখরার কামড়ের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও দংশিত স্থানটি ফুলে ওঠে না কিংবা জায়গাটিতে জ্বালা-পোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয় না। কেউটের দংশনে ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ভোরে তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠে। রোগীর চোখের পাতা পড়ে আসে, বমি বমি ভাব হয়। রোগীর ঝিম-ঝিম ভাব আসে এবং মুমূর্ষ দেখায়। সর্প-দংশনের বেশ কয়েক ঘন্টার মধ্যে (৫-৬ ঘন্টা) বিষক্রিয়ার কোন লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। অনেক সময় দেরীতে (১০-১৫ ঘন্টা পরে) বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। 

কেউটে সাপের দংশনে বিষক্রিয়া হলে নিম্নোক্ত উপসর্গ বা লক্ষণগুলো দেখা যায়: 

১.  দংশনের স্থান অসাড় হয়ে যায়। ফলে কোন জ¦ালা-যন্ত্রণা হয় না। ব্যথা হয় না বা ফুলে উঠে না।  

২. সর্প দংশনের ৬ থেকে ১২ ঘন্টার মধ্যে তলপেটে এবং হাত-পায়ের গিটে গিটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে।  

৩. বাচ্চারা খুব কাঁদে এবং ঝিমিয়ে পড়ে।  

৪. বারবার মল ত্যাগের ইচ্ছা হয়। ৫. বমি-বমি ভাব বা বমি হওয়া। 

৬. প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়, মনে হয় যেন কেউ বুকে চেপে ধরেছে। 

৭. গলা ব্যথা ও লালাঝরা। ৮. ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। 

৯. কথা বলতে কষ্ট হয়, নাকি-নাকি কথা বলে। 

১০. চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে ও পাপড়ি ঝুলে পড়ে। 

১১. কালো কেউটে দংশনের মারাত্মক বিষক্রিয়ার ফলে প্যারালাইসিস ছাড়াও মাংসপেশীর উপর এর প্রভাবে কালো রঙের প্রস্রাব হতে পারে।   

সাপে-কাটা রোগীর মধ্যে কেউটের দংশনে রোগী নিরবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এর প্রধান কারণ হলো কেউটে সাপের দংশনের দাঁতের চিহ্ন বুঝা যায় না। সেই সাথে গোখরার মত ক্ষতস্থানে বিষ-ব্যথা হয় না এবং ফুলে ওঠে না। ফলে রোগী ও তাঁর পরিজন এক বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে থাকে। এমনকি চিকিৎসকগণও বিষয়টি যে সাপের দংশন একথা ভাবতে না পেরে তা গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন না। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ অকালে প্রাণ হারায়। উল্লেখ্য যে, কেউটে সাপ নিশাচর এবং রাতে, বিশেষ করে গরমকালে ঘরের ভিতর, বারান্দা এবং উঠানে মাটিতে শোয়া অবস্থায় যত মানুষকে সাপে-কাটে তার বেশীর ভাগই কেউটে সাপের দংশন। প্রবাদ আছে যে - কাল (কেউটে) সাপে  ছুঁয়েছে - এ রোগী আর বাচঁবে না। 

Topics:

গোখরা ও কেউটে সাপে কাটা রোগীর লক্ষণগুলো দেখুন।

Login to comment login

Latest Jobs