Posted By

ব্যবসা শুরু করবেন? জেনে রাখুন সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ধাপ

Career 105

কখন মানুষ আমাদের মনে রাখে? যখন আমরা তাদের জীবনে একটি বিশেষ ভ্যালু যোগ করি। তাদেরকে কোন কাজে সাহায্য করি বা তাদের কোন একটি কঠিন সমস্যার সমাধান করে দেই। তখনই মানুষ আমাদের মনে রাখে। আর সাহায্য পেতে পেতে এমন হয়ে যায় তখন সেই মানুষগুলো আমাদের সেই বিশেষ সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আর এটাই হল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কৌশল। সবচেয়ে ভালো উদাহরন হিসেবে ইন্ডিয়ার মুখেশ আম্বানীর কথা বলা যেতে পারে। জিও আসার আগেও কিন্ত তিনি ইন্ডিয়ার সবথেকে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। কিন্ত তখন যতজন ইন্ডিয়ান তাঁর নাম জানতো। বর্তমানে তার থেকে কয়েকগুণ বেশী ইন্ডিয়ান তাঁর নাম জানে। আর তার কারণই হল জিও। জিও মানুষের জীবনে এতোটাই ভ্যালু যোগ করেছে। সেটার মনে হয় ব্যাখ্যা। করার কোন প্রয়োজন নেই। আগে যেখানে সারা মাসে ১ জিবি ৩জি রিচার্জ করে খুব কষ্ট করে দিন চালাতে হতো। এখন সেই টাকাতেই যা ৪জি পাওয়া যায়। তা ফুরিয়ে শেষ করা যায় না। মুখেশ আম্বানী বুঝতে পেরেছিলেন যে আগামীতে এমন সময় আসছে যখন ডাটা হবে মানুষের অক্সিজেন। আর এইভাবেই তিনি মানুষের প্রয়োজনকে বুঝে সেটাকে কাজে লাগিয়ে দু বছরের মধ্যেই তৈরি করে ফেললেন এক বিশাল নেটওয়ার্ক। তো কোন স্টার্টাপ বিজনেস শুরু করার আগে প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবে মানুষের প্রয়োজন। দূর করতে হবে মানুষের বিশেষ কোন সমস্যা বা মানুষকে এমন কিছু প্রভাইড করতে হবে যা তাদের প্রয়োজন। আর এটাই হল কোন বিজনেস শুরু করার প্রথম ধাপ। আজ শেয়ার করব এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যেগুলো মূলত একটি ব্যবসা শুরু থেকে সেটাকে সফল ব্যবসায় পরিণত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ধাপ #১ঃ প্রডাক্ট বা সার্ভিস খুঁজে বের করুন

যদি আমরা আমাদের বিচক্ষন, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসায়িক ধারণা দিয়ে এমন কোন এক প্রডাক্ট বা সার্ভিস মানুষকে প্রদান করি। যা তাদের এক বিশেষ কঠিন সমস্যার সমাধান করে দেয় বা দীর্ঘমেয়াদি কোন কাজের চটজলদি কোন এক সমাধান দিয়ে দেয়। তবে মানুষ সেটা অবশ্যই পছন্দ করবে।

ধাপ #২ঃ ফান্ডিং বা মূলধনের যোগান দেয়া

প্রথম ধাপে প্রডাক্ট বা সার্ভিস খুঁজে বের করার পাশাপাশি পরিকল্পনা মোটামুটি তৈরি। এবার সেটা বাস্তবায়ন করার পালা। সেজন্য প্রয়োজন ফান্ডিং বা ইনভেস্টমেন্ট। কোন স্টার্টাপ বা বিজনেস শুরু করতে গেলে যে বিশাল অংকের টাকার দরকার হয়। এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। ইন্ডিয়ার সেরা গিফটিং কোম্পানি HUPME শুরু হয়েছিল মাত্র ৮০০০ টাকা ফান্ডিং নিয়ে। আপনার কোম্পানি বা আপনার বিজনেসের হয়ত বিশাল বড় একটা প্লান আছে। খরচের তালিকাটাও অনেক বড়। তবুও সেই বিজনেসকে নূন্যতম ইনভেস্টমেন্টে কেমনভাবে শুরু করা যায় সেটার কথা ভাবতে হবে। তারপর বিজনেস একবার শুরু হলে যত তাড়াতাড়ি সেটা প্রফিটের মুখ দেখবে। আপনার কোম্পানির আকার আয়তন তত দ্রুত বৃদ্ধি হবে। তখন দেখবেন কত ইনভেস্টর এগিয়ে আসবে আপনার কোম্পানির জন্য। যারা শুরুতে আপনার আইডিয়াকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি তারাও এসে আপনাকে বাহ বাহ দিবে। আপনার ব্যবসায়ের আইডিয়াকে বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে পরিকল্পনা করে সাজান। যেন সেটি তুলনামূলক কম খরচের মধ্যে মোটামুটি শুরু করে দেয়া যায়। নিজেই কিছু টাকা সঞ্চয় করুন আর কিছু টাকা নিজের আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধার নিন। নিজে অর্থের যোগান দিতে একান্তই না পারলে পার্টনারশীপেও শুরু করতে পারেন। তবে পার্টনার পছন্দ করার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখবেন। কারণ পার্টনারশীপে সমস্যার জন্যই অনেক ব্যবসায় ধ্বংস হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, একটা উপযুক্ত পার্টনার বেছে নিতে পারলে সেই ঝুঁকি নেয়ার মজাটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়। কোম্পানী শুরু করার আগে যখন ইনভেস্টররা যখন হেসে উড়িয়ে দিবে। তখন বিল গেটস, স্টিভ জবসের কথাটা মনে করবেন শুধু। শুরুতে তাদের অবস্থাটা অনেকটা এরকম ছিল। অ্যামাজনের জেফ বেজসের গল্পও নিশ্চই জানা আছে আপনার? ১৯৯৯ সালে কতটা ছোট পরিসরে শুরু করেও আজ তিনি পৃথিবীর সবথেকে ধনী ব্যক্তি।

ধাপ #৩ঃ কঠিন পরিশ্রম

অবশেষে ছোট পরিসরে হলেও ব্যবসা নাহয় শুরু করা হলো। কিন্ত কাজ করবে কে? এবার তো কিছু লোক নিয়োগ দিতেই হবে? কিন্ত আপনার তো বাজেট সীমিত। তাই চাইলেও আপনি এই অবস্থায় কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন না। তাহলে উপায়? এমন অবস্থাতে আপনাকেই হতে হবে কোম্পানীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আবার কখনও আপনাকেই হতে হবে কোম্পানীর নিচের সারির কোন কর্মচারী। যেহেতু ব্যবসা চালানোর পুরো দায়িত্ব আপনার একার মাথার উপর। মানে বুঝতেই পারছেন, যদি আপনি পরিশ্রম করতে ভয় পান। তাহলে একটু ভেবে দেখবেন প্লিজ! হয়ত ব্যবসা জিনিসটা আপনার জন্য নয়! তাই কঠিন পরিশ্রম করার সামর্থ্য থাকলেই আপনাকে স্বাগত ব্যবসা জগতে।

ধাপ #৪ঃ মার্কেটিং

আপনি দিনরাত খেটে শুধু প্রডাকশন করেই গেলেন। এতেই কি আপনার প্রতিষ্ঠান দাঁড়াবে? নিশ্চই না! এবার সময় আপনার প্রডাক্ট বা সার্ভিসকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্ত মানুষ তো আপনার কোম্পানীর নামও তো জানেনা! তো সবাই কেমন করে আপনার পরিষেবা নিবে? আমরা অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে আমরা অনলাইনে প্রডাক্ট কিনি। কারণ আমরা লোকমুখে কিংবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেনেছি তাদের সেবার কথা। তাদের গুণগত মানের কথা। অর্থাৎ শুধু গুনগত মানের প্রডাক্ট তৈরি করলেন একা একা খেটে কিন্ত মানুষ সেটা সম্পর্কে জানলোও না, আপনার সেলও হলোনা। তাহলে ফলাফল তো শূণ্য। তাই এবার আপনাকে ব্যবসাকে পরিচিতি করাতে হবে এবং সেল বাড়াতে হবে। এজন্য যেরকম মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আপনার পারফেক্ট সেটাই বেছে নিয়ে কাজে লাগান।

Topics:

ব্যবসা শুরু করবেন? জেনে রাখুন সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ধাপ

Login to comment login

Latest Jobs