Posted By

একজন গৃহিনীর প্রতিদিনের কাজ

Fashion 104

                                                               একজন গৃহিনীর প্রতিদিনের কাজ

আমরা অনেকেই বাহিরে কাজ করতে গিয়ে মনে করি নারীদের ঘরে তেমন কোন কাজ নেই। প্রকৃতপক্ষ আমাদের চেয়ে তাদের কাজ কম নয় বরঞ্চ বেশি হতে পারে।

একজন গৃহিনীর প্রতিদিনের কাজের রুটিনঃ-

একজন গৃহিনী ভোরে ঘুম থেকে উঠেন। সবাইকে ঘুমে রেখেই ঘর ঝাড়ু দেন। সকলের জন্য নাস্তা তৈরি করেন। সবাই ঘুম থেকে উঠলে বিছানা গুছান। একটু বেলা হলে কাপড় ধুতে যান। সাংসারের কাজ করতে করতে নিজের খাওয়ার কথা মনে থাকে না। আর যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তো আরো কাজ বেড়ে যায়।বাবুর খাবার তৈরি, ঘুম পাড়ানো, গোসল করানো, কোলে নেওয়া, প্রস্রাব পায়খানার কাপড় ধোয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। বাচ্চারা যদি বড় থাকে তাহলে তাদেরকে আবার স্কুলে নিয়ে যেতে হয়। শ্বশুর-শাশুড়ী যদি বৃদ্ধ হন তাহলে তো আরো কাজে চাপ। তাদের সেবা যত্ন করতে হয়।

 

বাসায় যদি মেহমান আসে তাহলে তো কাজের সীমা থাকে না। মেহমানদের আপ্যায়নের দায়িত্বটাও তার উপরই পড়ে। তাদের অতিরিক্ত কিছু রান্না করতে হয়। আর রান্নাঘর তো এক আজব জায়গা। সেখানে কোন পাখা থাকে না। গরম আর গরম। একজন গৃহিনীকে অনেক সময় ধরে রান্না ঘরে থাকতে হয়। তাদের মাথার ঘাম পায়ে পড়ে। তাদের কাজ শেষ হয় না।

 

আমরা বাজার এনে দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলি। আর তারা সে বাজার অনেক সময় ধরে কুটে। রোজার দিন তো বিকাল তিনটা থেকে রান্নাবান্না শুরু হয়, শেষ হয় ইফতারির ঠিক আগ মহুর্তে। সবাইকে খাইয়ে নিজে খেতে যান। অনেক সময় নিজের গোসলের সময়টাও পান না। আমরা অনেকেই বাহিরে থেকে সেটা খেয়াল করি না। আমরা ভাবি বাসায় থেকে মহিলারা তেমন কি কাজ করে।

 

নিজের গোসল সারতে না সারতেই আবার দুপুরের খাবারের সময় হয়ে যায়। সবাইকে খাইয়ে, নিজে খেয়ে হাড়ি পাতিল পাতিল ধুতে হয়। পানি ফুটাতে হয়। পানি ফিল্টারে ঢালতে হয়। আবার বাচ্চাকে খাওয়াতে হয়, ঘুম পাড়াতে হয়। অনেক সময় কাপড় ধুয়ে ৬ তলার উপর ছাদে শুকাতে দিতে হয়। কাপড় শুকানোর পর আবার নিয়ে আসতে হয়। সংসারের কাজ করতে গিয়ে নিজের প্রতি কোন খেয়ালই থাকে না।

 

কোন সময় রাত হয়ে যায় খেয়াল থাকে না। আবার রাতের খাবার। রান্নাঘর তাকে ছাড়েই না। সবাইকে খাইয়ে, নিজে খেয়ে হাড়ি পাতিল ধুয়ে রাখতে হয়। বাবু যদি সজাগ থাকে তাহলে বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে তারপর নিজে ঘুমাতে যান। তিনি ঘুমাতে যান গভীর রাতে। আবার ভোরে উঠতে হয়।

 

প্রতিদিন একই কাজ চলতে থাকে। আর আমরা অফিস থেকে ফিরে মোবাইল চালাই বা বিশ্রাম নেই। কিন্তু তাদের কোন বিশ্রাম নেই। তারা একটার পর একটা করতেই থাকে। আমরা তাদের কাজে তেমন সাহায্য করি না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের চেয়ে তাদের সুযোগ-সুবিধাও কম। কিন্তু একটু দোষ করলে সবার আগে ধরা পড়ে।

 

আমাদের উচিৎ তাদের প্রতি একটু খেয়াল রাখা, একটু সহানুভুতি দেখানো।তাদের একটু সাহায্য করলে তারা অনেক খুশি হন। তাদের কষ্টটা কষ্ট মনে হয় না। আমরা সবাই সবাইকে কাজে সহযোগিতা করবো এবং মিলেমিশে থাকবো। তবেই আমাদের মাঝে সুখ-সমৃদ্ধি আসবে।

Topics: Housewife

একজন গৃহিনীর প্রতিদিনের কাজ

Login to comment login

Latest Jobs