Posted By

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ

Fashion 13

আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম লাভ করেছে স্বাধীন সর্বভৌম বাংলাদেশ। পাক-হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে অসহায় নিরস্ত্র মানুষের উপর ভারী অস্ত্র দিয়ে আক্রমন করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারা দেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। জীবন বাঁচাতে দলে দলে মানুষ আশ্রয় নেয় শরণার্থী শিবিরে। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সামরিক বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, ইস্ট বেঙ্গল রাইফেল সংক্ষেপে ইপিআর। ইপিআর এর একজন সদস্য ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। ১৯৫৫ সালে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেন নি। ১৯৭১ সনে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তিনি চট্টগ্রামে ইপিআরের ১১ উইংয়ে ল্যান্স নায়ক হিসেবে চাকুরীরত ছিলেন। তিনি মাঝারি মেশিনগান ডিপার্টমেন্টে ১নং মেশিনগান চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি মহালছড়ি জলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এই জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর চলাচল প্রতিরোধের দায়িত্ব পরে তাঁর কোম্পানির উপর। কোম্পানিটি বুড়িঘাট এলাকার চিংড়িখালের দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে গড়ে তুলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি। ১৯৭১ সালে ৮ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর আগে সহযোগী যোদ্ধারা সবাই নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে যেতে পেরেছিলো। সেদিন আব্দুর রউফের আত্মত্যাগে তাঁর কোম্পানির প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা পায়।

তাঁর বীরত্বের গৌরোবজ্জ্বল ভূমিকার অসমান্য অবদানের স্বীকৃতি সরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁকে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় একটি টিলার ওপর সমাহিত করা হয়।

Topics:

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ

Login to comment login

Latest Jobs